ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ভুটানের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও ইন্টারনেট সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই

ভুটানের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও ইন্টারনেট সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই

ভুটানের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও ইঢাকায় সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের উপস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা এবং ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে এ দুই সমঝোতা স্মারক সই হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমঝোতায় সই করেন স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। এছাড়া আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ও অন্যান্য টেলিযোগাযোগ সেবা বাণিজ্য সংক্রান্ত সমঝোতায় সই করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান।

প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগে শেরিং তোবগের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস একান্ত বৈঠক করেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। গতকাল শনিবার সকালে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তোবগে। ড্রুক এয়ারের বিমানে এসে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শুক্রবারের ভূমিকম্পে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেন এবং শোক প্রকাশ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেকে গার্ড অব অনার ও ১৯ বার তোপধ্বনি দিয়ে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান। দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। সোমবার সকালে তিনি ভুটান ফিরে যাবেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা : ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর পরপরই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে কয়েক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সেখানে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর এবং স্মৃতিসৌধের প্রাঙ্গণে একটি বকুলের চারা রোপণ করেন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ড্রুক এয়ারের একটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) এসে পৌঁছানোর পর তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত