ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

যতদূর চোখ যায় মানুষ আর মানুষ

যতদূর চোখ যায় মানুষ আর মানুষ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাটে আচড়ে পড়ে অগণিত জনতার ঢেউ। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ রূপ নিয় জনসমুদ্রে। জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই সমবেত হতে থাকেন শোকাহত মানুষরা। এতে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ অংশগ্রহণ করে। দিনের শুরুতেই মানুষের সারি তৈরি হতে থাকে এবং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা আরও দীর্ঘ হয়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে শোকাহত মানুষের লাইন আসাদ গেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার হয়ে বাংলামোটর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি রাস্তা ও গলিপথে মানুষ ধৈর্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকের হাতে ছিল দলীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড, আবার অনেকেই নীরবে দোয়া করছিলেন। জনসমাগম শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে উড়াল সড়কের ওপর এবং আশপাশের ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে জানাজার কার্যক্রম একনজর দেখার চেষ্টা করতে দেখা যায়। হলিক্রস রোড এলাকা, পূর্ব ও পশ্চিম তেজতুরীপাড়া, গ্রিনরোড ও আশপাশের গলিগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। তীব্র যানজট উপেক্ষা করেই স্থানীয় বাসিন্দারা জানাজায় অংশ নিতে দাঁড়িয়ে যান।

বিএনপি সমর্থকদের পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন সাধারণ নাগরিকদেরও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ব্যাপক প্রভাবের প্রতিফলন। বয়স্ক মানুষ, নারী ও তরুণ-সব বয়সের মানুষই উপস্থিত ছিলেন; অনেককেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। এই অভূতপূর্ব জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়। আশপাশের সড়কে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্তৃপক্ষ সবাইকে শান্ত থাকার এবং নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানায়। অনেক শোকাহত মানুষ খালেদা জিয়াকে দেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাস গড়ে দেওয়া এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। জানাজার নামাজ আদায় করতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের সব মানুষের নেত্রী।’

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজা : দেশি-বিদেশি লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন কাজ শেষ হয়। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা নিয়ে নেটিজেনরা নানান অনুভূতি প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ এই জানাজাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা বলে অভিহিত করেছেন।

জুনায়েদ আহমেদ লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ।’

মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘দেশকে ভালোবাসলে দেশ তা বহুগুণে ফিরিয়ে দেয়। ছবিটা কারওয়ান বাজারের। নামাজের অনেক আগে তোলা। যদ্দুর খবর পেয়েছি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে শ্যামলী, আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি-কলাবাগান পর্যন্ত। তিনি ছিলেন দেশনেত্রী; আজ দেশ তার জানাজায় দাঁড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশপন্থি রাজনীতিবীদের জীবন কতটা মহিমান্বিত হতে পারে তা আমরা ১১ দিনে দুইবার দেখতে পেলাম। জীবিত সকল রাজনীতিবীদের জন্য এরচেয়ে বড় শিক্ষা আর কী হতে পারে?’

গিয়াস উদ্দিন মিয়া লিখেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী কোটি মানুষের প্রাণের স্পন্দন প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায়।’

খালিদ সাইফুল্লাহ লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা। আপসহীন নেত্রীকে আল্লাহ্ জান্নাত নসিব করুক!’ মাকামে মাহমুদ লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেন তাকে এভাবেই সর্বজনীন করেন।’

আব্দুল্লাহ তারেক লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার দৃশ্য সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে বড় জানাজার দৃশ্য এটি। এই দৃশ্য দেখে ঈর্ষা ভরা মন নিয়ে সবচাইতে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন একজন, তার নাম আজ আর উল্লেখ নাই করলাম। এটি আবারও প্রমাণ হলো, আল্লাহ যদি কাউকে সম্মান দিতে চান, তবে তা ঠেকানোর সাধ্য কারও নেই। আল্লাহু আকবার। আল্লাহ মরহুমাকে ক্ষমা করে দিন, জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন- আমিন।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত