ঢাকা বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রামে তারেক রহমান

ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরব

* চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রূপরেখা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান * তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা * সারা দেশে খাল খনন করা হবে
ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরব

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, আমরা যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করি আরেকটি বিষয় আছে, যদি সেটি নিয়ন্ত্রণ না করি- তাহলে আমাদের কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। অতীতেও বিএনপি প্রমাণ করেছে একমাত্র বিএনপির পক্ষেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আর সেটা হচ্ছে দুর্নীতি। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। এটি দেশের মানুষের কাছে বিএনপির কমিটমেন্ট। বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিএনপি ৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল। বিএনপি সরকার অতীতে প্রমাণ করেছে তারা দুর্নীতিতে দেশকে নিচের দিকে নিয়ে গেছিল। ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে ধীরে দেশকে দুর্নীতির কবল থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন। ‘আমরা যত পরিকল্পনায় গ্রহণ করি না কেন, এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই আমাদের দুটো বিষয় খুব পরিষ্কার নজর দিতে হবে। কারণ এই দুটো বিষয় বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য অধিকার, যা তাদের বিগত দিনগুলোতে বঞ্চিত করেছে। অতীতে বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনা করেছে, বিএনপি প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে- এই বিষয়ে আপনাদের বিএনপি সফলভাবে কাজ করতে পার। কী সেই বিষয় দুটো? সেই বিষয় দুটো হচ্ছে এক মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি সব করতে পারে।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অতীতের মতো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করবে জানিয়ে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন আপনারা দেখেছেন যেই হোক না কেন, এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক যারা কোন অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িয়েছে, আমরা তাদেরও ছাড় দেইনি।

‘আজ এই দেশের জনগণ এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আমরা একইভাবে সফল ও কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব। যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।’

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামের মাটিতে ফিরে উত্তাল জনতার সামনে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতিহাস-আবেগে ঘেরা চট্টগ্রামকে ঘিরে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তিনি কথা বলেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও শিল্পায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও পরিবেশ রক্ষার মতো জাতীয় ইস্যু নিয়ে। একইসঙ্গে তরুণ সমাজকে সামনে রেখে ব্যাংক ঋণ সহজ করা, স্টুডেন্ট লোন চালু এবং উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় দলের প্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান। সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন। গতকাল রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্লান ইউথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এতে চট্টগ্রামের ৫০টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

ওই সভা শেষে দুপুরে তিনি চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। দুপুর ১টার দিকে উত্তাল জনতার সামনে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এখানেই তিনি শহিদ হয়েছিলেন। এই চট্টগ্রামেই বেগম খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই শহরের সঙ্গে আমি এবং আমার পরিবারের গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তেমনি ২৪-এর আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আবারও দেশকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে- যে পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত হবে।

রাজনৈতিক সমালোচনা ও বাস্তব উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি; কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না বা মানুষের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। বিএনপি একমাত্র দল, যারা যতবার ক্ষমতায় গেছে, ততবারই মানুষের জন্য কাজ করেছে।

দ্রব্যমূল্য ও কৃষি উৎপাদনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য বিএনপি কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চায়, যাতে তারা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সহজে পেতে পারে।

জলাবদ্ধতা সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সংকট হলো জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল ও নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে খাল কাটতে চায়।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব ইপিজেড বিএনপির আমলেই গড়ে উঠেছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপন করা হবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করা হবে।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, তখন দলের কেউ অন্যায় করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি। আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমনে সক্ষম হয়েছিলেন। আগামী দিনেও দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আগামী দিনে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন এবং ধানের শীষে ভোট দিন। ভোটের দিন ভোরে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে, ফজরের নামাজ শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন।

এর আগে, সকালে নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান বলেন, আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় জলাবদ্ধতা দূর করতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকা ও চট্টগ্রামে পানি জমে যায়। প্রায় বছরখানেক আগে বর্ডারের ওইপাশ থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে নোয়াখালী ও তার আশপাশের অঞ্চল পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। কিন্তু পানি দুই সপ্তাহের বেশি ছিল না। এটাও জলাবদ্ধতার একটি অংশ, পানি কোথাও যেতে পারছে না।

তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ দেওয়া প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বহু ছোট ছোট উদ্যোক্তা রয়েছে। আমাদের দেশে ব্যাংক লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা রয়েছে। সহজেই ব্যাংক লোন পাওয়া যায় না। এজন্য আমরা যতটুকু সম্ভব সহজ করতে চাই। সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। একইসঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে যায় তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। কেউ সময়মতো ভিসা বা টিকিট কাটতে পারে না। তাদের স্টুডেন্ট লোন কীভাবে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ করবে বিএনপি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশে বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বাতাস অনেক দূষিত। এই ছোট্ট দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষ বসবাস করে। কাজেই ২০ কোটি মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার জন্য বায়ুদূষণের সঙ্গে আমাদের ফাইট করতে হবে। আমরা ৫ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছি।

তিনি বলেন, এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন- এতো চারা কোথায় পাব? আমি তার উত্তরে বলব, গাছ মূলত বর্ষা মৌসুমে লাগাতে হয়। আপনাদের এ সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় একটি করে হলেও নার্সারি রয়েছে। একটি নার্সারির চারা উৎপাদন ক্ষমতা ২০-২৫ হাজার মতো। আমরা যদি এই নার্সারির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারি, তাহলে সহজে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছে যাব।

উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।

এর আগে ফেনীতে জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আজ হয় তো আমাদের যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রয়েছে তাদের নিয়ে কথা বলতে পারতাম। কিন্তু তাতে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণের লাভ তখনই হবে, যখন আমরা পরিকল্পিতভাবে খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারব। জনগণের লাভ হবে, যখন আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রাখতে পারব।

দেশের মানুষের জন্য পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমি দেশে এসে বলেছিলাম দেশের মানুষের জন্য কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছি। সেগুলো হলো, দেশের যে নারী সমাজ রয়েছে, যারা খেটে-খাওয়া মানুষ তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিমাসে একজন গৃহিণী অল্প হলেও কিছু সহযোগিতা পাবে। কেউ কেউ বলছেন, এই অল্প সহযোগিতা দিয়ে কী সংসার চলবে? আমরাও জানি চলবে না। এক মাসের চার সপ্তাহ, অন্তত এক সপ্তাহ যদি সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করতে পারি, সেটিও অনেক মানুষের জন্য অনেক বড় সুবিধা। গৃহিণীদের যেমন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তেমনি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কৃষক কার্ড দিতে চাই। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি পৌঁছে দিতে চাই।

ফেনীবাসীর চাহিদা কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমরা মেডিকেল কলেজ করব, কিন্তু গ্রামের মানুষ যেন চিকিৎসা সুবিধা পায়, সেজন্য সারা দেশে হেলথকেয়ার করতে চাই। যাদের কাজ হবে ঘরে ঘরে মা-বোনদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। তাদের কষ্ট করে বড় কোনো অসুখ-বিসুখ না হলে হাসপাতালে আসতে হবে না। ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর মানুষের এলাকার উন্নয়নে যেমন দাবি আছে, তেমনি বিএনপিরও আপনাদের কাছে একটি দাবি আছে। ধানের শীষকে জয়যুক্ত করাই সেই দাবি। আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। যা বলব চেষ্টা করব বাস্তবায়ন করার জন্য। জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস।

সারা দেশে খাল খনন করা হবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এক বছর আগে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে। আমরা সারা দেশে এজন্য খাল খনন করতে চাই। খাল খনন করলে এলাকার মানুষের উপকার হবে। ঠিক একইভাবে আরেকটি পরিকল্পনা হলো সমাজের বহু তরুণ ও যুবক আছে, যাদের চাকরি-বাকরি বা কর্মসংস্থান নেই। আমরা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।

শহিদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে চট্টগ্রামে যেভাবে ইপিজেড হয়েছে, ফেনী অঞ্চলেও আমরা এমন নিয়ে আসতে চাই। তাহলে এই এলাকার মানুষ সেসব ফ্যাক্টরিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের এ এলাকার অনেক মানুষ বিদেশে যায়। তাদের যদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিক্ষা দেওয়া যায়, তাহলে আরও ভালো বেতনের ব্যবস্থা করা যায়। এজন্য আমরা চাই তরুণদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিখিয়ে বিদেশে পাঠাতে। এতে তাদেরও লাভ হবে, দেশেরও লাভ হবে। কারণ সে তখন যেভাবে ভালো বেতন পাবে, একইভাবে দেশের জন্য বেশি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে। এজন্য আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতা ও ধানের শীষে সমর্থন লাগবে। আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ বিজয়ী হলেই যেসব পরিকল্পনার কথা বলেছি তা বাস্তবায়ন করতে পারব। তিনি আরও বলেন, সারা দেশের মানুষ সাক্ষী আছে, কীভাবে গত ১৫ বছর মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকারকে দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আজ একটি পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে।

জনসভায় বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত