ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মিথ্যা কথা ও কাজ বর্জনের শপথ

মিথ্যা কথা ও কাজ বর্জনের শপথ

একজনের খবর আরেক জনের কাছে পৌছানোর ক্ষেত্রে যদি মিথ্যার মিশ্রণ ঘটানো হয়, সেটা চোগলখুরীতে পরিণত হয়। হাদীসের ভাষায় নামীমাহ। নামীমাহর কারণে দোযখের শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে হাদিস শরীফে। কারণ এ জাতীয় দ্যুতিয়ালির মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়। সমাজে অশান্তির বিষবাষ্প ছড়ায়।

সংবাদ সরবরাহ ব্যক্তি পর্যায়ে না হয়ে যখন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হয় তার গুরুত্ব আরও বেডে যায়। আধুনিক পরিভাষায় বলা হয় সাংবাদিকতা। এক হিসেবে পৃথিবীটা সাংবাদিকতার প্রবাহের উপর চলমান। বিজ্ঞানের আধুনিকতম আবিষ্কারের কারণে এই সংবাদ প্রবাহে আমরা প্রত্যেকে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

হাতের মুঠোয় এন্ড্রয়েড মোবাইল। নানা সূত্র থেকে অগণিত সংবাদ, মন্তব্য ও ছবি চলে আসে স্্েরাতের মতো। কোন সংবাদটি সত্য বা কোনটি মিথ্যা যাচাই করা মুশকিল। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, ফেসবুকে বা ইউটিউবে লাইক, শেয়ার লিংক বা ভিউ পাওয়ার জন্য মিথ্যাকে আকর্ষণীয়ভাবে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এখন যদি আপনি বা আমি লাইক দেই, শেয়ার করি, কমেন্ট লিখি, নিজেও সেই মিথ্যার শিকার বা অংশীদার হয়ে যাব।

অতি সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসাতে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে গেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে, এমনভাবে ছবি ও সংবাদ সাজানো হচ্ছে, যা আসলের সঙ্গে কিছুটা মিলেও যাচ্ছে। এখন করণীয় কী? বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সংবাদ বিশ্বাস করতে হলে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমে এসেছে কি না? দৈনিক পত্রিকা বা নিউজ পোর্টালে কীভাবে ছাপা হয়েছে কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে প্রাপ্ত কি না দেখতে হবে, নিশ্চিত হতে হবে।

কারণ এ ব্যাপারে কোরআন-মাজিদে নীতি ও নির্দেশনা হলো- ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের কাছে যদি কোনো ফাসেক ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে যথেষ্ট যাচাই-বাচাই কর। নচেৎ তোমরা এমন কাজ করে বসবে, যার জন্য পরে পস্তাতে হবে’ (সুরা হুজরাত, আয়াত-৬)।

কোরআনের এই নির্দেশনা সর্বস্তরের সকল মুসলমানের প্রতি সমানভাবে প্রযোজ্য। সাধারণ আমরা যারা শুধু মোবাইল হাতে বিভিন্ন ও ছবি দেখি-তাদের যেমন সতর্ক হতে হবে। তেমনি যারা সাংবাদিকতার জগতে আছেন, তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত