
শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে জেলা প্রশাসক আয়োজিত ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে ঝিনাইগাতি উপজেলাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঝিনাইগতি এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই সহিংস ঘটনার রেশ শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই; কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার জন্য একে-অপরকে দায়ী করে দোষারোপ করছে রাজনৈতিক দলগুলো। দুই দলের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইগাতী এলাকাজুড়ে সুনসান পরিবেশ বিরাজ করেছে। রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি কম ছিল। খোলেনি উপজেলা সদরের বাজারের বেশিরভাগ দোকানপাট। এ ঘটনায় বিএনপির এমপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াতের এমপি প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল একে- অপরকে দোষারোপ করছেন।
গত বুধবার শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শেরপুরের ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে : শেরপুরে সংঘটিত সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকার বলেছে, সহিংসতায় প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত দুঃখজনক। শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার এ কথা বলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে। এমন অবস্থায় সরকার বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।
দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে সংযম নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনো স্থান নেই। শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে সব রাজনৈতিক দল, নেতা ও নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত সবার প্রতি শান্তি বজায় রাখা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শান্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপরই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
ইউএনও-ওসি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত : নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, শেরপুরে একটা ঘটনা ঘটেছে, অত্যন্ত নিন্দনীয়। তার ধারাবাহিকতায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে এই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি যা সম্ভব সেগুলো নিশ্চিত করা হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ ঘটনায় প্রার্থীদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না প্রশ্নে আখতার আহমেদ বলেন, রিটার্নিং অফিসার এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটির যদি সুপারিশ থাকে, তাহলে কমিশন সেটা বিবেচনা করবে। আর স্থানীয়ভাবে যদি এটা নিষ্পত্তি হয়, তাহলে সেটা স্থানীয়ভাবে। আমি প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে যে ব্যবস্থাটা, সেটার কথা বলেছি।
শেরপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনাটি কিসের ইঙ্গিত দেয়- এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এই ঘটনা ইঙ্গিত করে অসহিষ্ণুতা। এই ঘটনা ইঙ্গিত করে জনগণের ওপর আস্থা নাই। এই ঘটনা ইঙ্গিত করে, অন্যের বিজয় দেখে নিজের সহ্য হয় না।’
এই ঘটনায় নির্বাচনি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কনসার্ন জানিয়েছি। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। প্রতিবাদ করে যাব। আমাদের অধিকার, আমাদের জনগণের অধিকার, আমরা আর কাউকেই টানাটানি করার সুযোগ দেব না।’ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের পানির ট্যাংকি এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।
শেরপুরের সহিংসতা অনাকাঙ্ক্ষিত, দ্রুত তদন্ত চায় বিএনপি : শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি, যেখানে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের যিনি প্রার্থী রয়েছেন, তাকে বারবার পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান। তারপরও তিনি কেন সেই দিক দিয়েই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? তাকে বারবার বলতে শোনা যাচ্ছিল, ‘জান যায় যাক।’ বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান বিএনপির এই নেতা।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান মাহদী আমিন। কেউ যেন কোনো উসকানি না দেন, কোনো উসকানিতে পা না দেন সেই আহ্বান জানান তিনি। সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে বলেন তিনি।
শেরপুরে জামায়াত নেতাকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে- জেলা আমির : শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার হাফিজুর রহমান বলেন, খুব দ্রুত মামলা করা হবে। হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রশাসন যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী কঠোর আন্দোলনে যাবে।
চরমোনাই পীরের শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে যে ধরণের সহিংসতা ঘটেছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতাকে যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তা উদ্বেগজনক। গতকাল বৃহস্পতিবার শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিকে এ তথ্য জানানো হয়। চরমোনাই পীর শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবির প্রভাষক মাওলানা রেজাউল করীমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
এতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে পরিবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ ধরণের নৃশংসতা জাতিকে হতাশ করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য রাজনৈতিক দল ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক আচরণ করতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ‘এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হতে হবে। সহিংসতা তৈরি ও সহিংসতার সাথে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বা শিথিলতা থাকলে তাও তদন্ত করতে হবে এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে হত্যার নিন্দা মামুনুল হকের : শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনে ১১- দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এ ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেওয়া যাবে না।’ বৃহস্পতিবার নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘জাগরণী পদযাত্রা’ চলার সময় মাওলানা মামুনুল হক এ কথা বলেন।
পদযাত্রায় মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘শেরপুরে জামায়াত কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। আমরা এ ধরনের সহিংসতা কখনোই কামনা করি না। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’
ঢাবিতে ডাকসুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ : শেরপুরে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে বুধবার রাতে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মিছিল থেকে আন্দোলনকারীরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মানুষ খুনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, মানুষ হত্যার বিচার চাই’, ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ খুনের মাস্টারপ্ল্যান’, ‘তারেক জিয়ার অনেক গুণ, শেরপুরে অনেক খুন’, ‘রেজাউল ভাই খুন কেন, খুনি তারেক জবাব দে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। বিক্ষোভণ্ডপরবর্তী সমাবেশে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই। বিএনপি এখন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।’
জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে মজলুমদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা ছিল, তা বিএনপি ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, গত দেড় বছরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত দল হচ্ছে বিএনপি। নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যাদের হাতে নিজেদের দলের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ হবে?
বিএনপির চেয়ারম্যানকে ইঙ্গিত করে সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে বিএনপিকে শৃঙ্খলায় আনবেন- এমন আশা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে, সারা দেশে নারী নির্যাতন, হামলা ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। সমাবেশে ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের পরে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিএনপি এবং তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং খুনের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।’ এ সময় ডাকসুর অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। শেরপুরের জেলা পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম বলেন, গত বুধবারের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত পরিচালনা করছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।