
আজ মার্চের ষষ্ঠ দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনটিতে হরতাল পালন করে বীর বাঙালি। তবে হরতাল কর্মসূচি পালনের মধ্যেও রমনার রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে যোগ দিতে পূর্ব পাকিস্তানের দিকে সাড়া পড়ে যায়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দুপুরে এক বেতার ভাষণে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। আর ১০ মার্চ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠকে বসার ঘোষণা দেন। তবে ভাষণে তিনি বাংলার মানুষের আন্দোলন নিয়ে ফের কটাক্ষ করে বলেন, পরিস্থিতি যা-ই ঘটুক না কেন, যত দিন পর্যন্ত সেনাবাহিনী আমার অধীনে আছে, তত দিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও নিরঙ্কুশভাবে পাকিস্তানের সংহতির নিশ্চয়তা বিধান করব। ইয়াহিয়ার এ ভাষণে নতুন করে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ওদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে ‘কাউন্সিল মুসলিম লীগ’ নেতা এয়ার মার্শাল নুর এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের বেতার ভাষণে পূর্ব পাকিস্তানিদের দোষারোপ করায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলার মানুষের দেশ শাসনের বৈধ অধিকার রয়েছে। তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ইয়াহিয়ার বেতার ভাষণ প্রচারের পর পরই শহীদের রক্ত মাড়িয়ে ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসা অসম্ভব।
এদিনে কারান্তরালে কয়েদিদের মধ্যেও আন্দোলনের উত্তাপ সঞ্চারিত হয়। ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের তালা ভেঙে পালিয়ে যান ৩৪১ কয়েদি। এ সময় কারারক্ষীদের গুলিতে প্রাণ যায় সাতজনের। খুলনায় সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন ১৮ জন, আহত হন আরও ৬৪ জন। পাকিস্তানি বাহিনীর ধারাবাহিক নিষ্ঠুরতায় ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে। সরকারি কর্মচারীরা পর্যন্ত রাস্তায় নেমে মিছিল-সমাবেশ করেন। চট্টগ্রামে সমাবেশ থেকে সবাইকে জীবনের মায়া ত্যাগ করে সরকারি বাহিনীর প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আহ্বান জানানো হয় দেশবাসীর প্রতি। এদিকে দি টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত এক আর্টিকেলে এদিন লেখা হয়, বিক্ষোভে উত্তাল পূর্ব পাকিস্তানের হাতে এখন দুটি বিকল্প আছে, তিনি এককভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারেন অথবা তিনি নিজেই জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকতে পারেন এবং একই সঙ্গে তিনি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের এ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন।