ঢাকা সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইরান যুদ্ধ

তেহরানের তেল শোধনাগার জ্বলছে, ইরানের পাল্টা আঘাত

* ‘বেশ কয়েকজন’ মার্কিন সেনা বন্দি * যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত * তেহরান ও আশপাশের ৫ তেল স্থাপনায় হামলা * ২৪ ঘণ্টায় ‘২২০ মার্কিন সেনা হতাহত’ * ইরানি হামলায় হাসপাতালে ২ হাজার ইসরায়েলি * ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ৮২ ড্রোন ভূপাতিত * ৩২০০ মিসাইল-ড্রোন দিয়ে হামলা ইরানের * শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দেব না : পেজেশকিয়ান * ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন কাতারের আমির * যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চীনের হুঁশিয়ারি
তেহরানের তেল শোধনাগার জ্বলছে, ইরানের পাল্টা আঘাত

ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ইরানি হামলায় যে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে, তা অভাবনীয়। ওয়াশিংটন ও তেলআবিব ভেবেছিল, তিনদিনের মধ্যে ইরান পরাজিত হবে। কিন্তু, ইরানের সর্বাত্মক হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী হতাশা ও বিস্ময়ের ঘোর থেকে বেরোতে পারছে না। এর মধ্যে ইরানের হাতে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা বন্দি হওয়ার খবর এসেছে। আগ্রাসনের জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি তাদের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ফোর’-এর অংশ হিসেবে ২৭তম দফার প্রতিশোধমূলক হামলার যে বিবরণ দিয়েছে, তাতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। শনিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, এই দফায় উন্নত ড্রোন এবং মিসাইল ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে প্রচণ্ড আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফাতে ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের আঘাত। এই অভিযানে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন সলিড-ফুয়েল ‘খাইবার-শেখান’ মিসাইল ব্যবহার করা হয়। এই মিসাইলগুলো আঘাত হানার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দিক পরিবর্তন বা লক্ষ্যবস্তু অনুসরণে সক্ষম। তাছাড়া, ইরানের ড্রোন ইউনিটগুলো দুবাইয়ের মারিনায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে। এই দফায় আইআরজিসি-র নৌবাহিনী বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে। এর মধ্যে পঞ্চম নৌবহরের চালকবিহীন জলযান নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর সামরিক সাপোর্ট হ্যাঙ্গারগুলো অন্যতম। বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নাগরিক ও সামরিক সদস্যদের রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে। ইরানি বাহিনীর সুনির্দিষ্ট হামলাগুলোর পর ইসরায়েলে ক্রমাগত বিপদ সংকেত বেজে চলেছে এবং সেখানে জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো হামলাই কঠোর জবাব ছাড়া পার পাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত : রোববারও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। আলজাজিরা জানিয়েছে, সকালে কুয়েতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা হয়েছে। সেখানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বাসিন্দারা। হামলার পর একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কুয়েত সিটির সুউচ্চ টাওয়ারে আগুন জ্বলছে। আলজাজিরা জানায়, টাওয়ারটিতে কুয়েতের পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির সদর দপ্তর অবস্থিত। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এছাড়াও ভোরে কুয়েত বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে যে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন দমকলকর্মীরা। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার সকালে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করার কয়েক মিনিট পরই এই হামলাগুলোর খবর এলো।

বাহরাইনের পানি শোধনাগারে ইরানের হামলা : ইরানের লবণ পানি শোধনাগারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রোববার বাহরাইনের একটি পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলা করেছে ইরান। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই হামলায় লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি। এর একদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে একটি মিঠা পানি উৎপাদনকারী ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্সে এক পোস্টে তিনি জানান, এ শোধনাগার থেকে ৩০টি গ্রামে পানি সরবরাহ করা হতো। হামলার পর যা বন্ধ হয়ে গেছে।

আমিরাত, সৌদি ও ইসরায়েলে হামলা : আরব আমিরাতেও নতুন করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা হয়েছে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলে জানায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে তিনটি ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। রিয়াদের কূটনৈতিক কোয়ার্টারে বড় ধরনের ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টা পর নতুন হামলার খবর দেয় তারা। বিভিন্ন এলাকায় ইরানি মিসাইল হামলার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। মিসাইলের ঝাঁক প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে বলে জানায় আইডিএফ। টাইমস অব ইসরায়েল রোববার সকালে জানায়, নুতন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে।

২৪ ঘণ্টায় ২২০ মার্কিন সেনা হতাহত : ইরানের খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র শনিবার জানিয়েছেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২২০ জনের বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। এই মুখপাত্র বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবিস্থত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ধ্বংসাত্মক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর বহু সৈন্য ও কমান্ডার হতাহত হয়েছেন এবং তাদের অবকাঠামো ও সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরে হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আল-ধাফরা মার্কিন ঘাঁটিতে প্রায় ২০০ জন হতাহত হন। পারস্য উপসাগরের উত্তরে মার্কিন মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা করা হয়েছে। সেখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ইরানি হামলায় হাসপাতালে ২ হাজার ইসরায়েলি : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৫৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আহত ও অসুস্থদের সংখ্যা এখন দুই হাজারের কাছাকাছি। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ৪২ জন মাঝারি ধরনের আঘাত পেয়েছেন এবং ৭০ জনের চোট সামান্য।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ৮২ ড্রোন ভূপাতিত : ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা শত্রুপক্ষের ১৩টি উন্নত ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ধ্বংস করা ড্রোনের মধ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রযুক্তির এমকিউ নাইন হার্মিস এবং অরবিটার মডেলের ড্রোন রয়েছে। সেনাবাহিনী জানায়, ইরানের উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম ও দক্ষিণ অঞ্চলসহ ইসফাহান, কেরমান এবং রাজধানী তেহরানের আকাশে এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর থেকে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত মোট ৮২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এদিকে, ইরানের নৌবাহিনী মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে তীব্র ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনহাদ বিমান ঘাঁটি ও আবুধাবির সামরিক স্থাপনা এবং কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান অন্যতম। এছাড়াও, ইসরায়েলি শাসনের কৌশলগত ‘সদত মিচা’ রাডার সিস্টেমগুলোতেও আঘাত হেনেছে সেনাবাহিনী।

সপ্তাহে ৩২০০ মিসাইল-ড্রোন দিয়ে হামলা ইরানের : আইআরজিসি-র এক সপ্তাহের অভিযানের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো শনিবার তুলে ধরেছেন বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী-মোহাম্মদ নায়েইনি। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে ইরান মোট ৬০০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা করেছে। এই হামলায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অন্তত ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি ও মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে বারবার ভারী হামলা চালানো হয়েছে। নায়েইনি জানান, তারা এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের মোট ১৭টি জাহাজ বা জলযানে আঘাত করেছে। এছাড়া, ‘ডেজার্ট আই’ এবং জর্ডানে মোতায়েন থাড-এর মতো বিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার মাধ্যমে এই অঞ্চলে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।

বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা বন্দি : ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বন্দী করা হয়েছে। রোববার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে রিপোর্ট এসেছে, বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে আটক করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তারা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।’ লারিজানি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্য গোপন করার বৃথা চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘ সময় লুকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এর আগের দিন এক টেলিভিশন ভাষণে লারিজানি সতর্ক করে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনকে বুঝতে হবে ইরানের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করলে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করলে তা বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের জাতীয় সংকল্পের ওপর ভিত্তি করে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঔদ্ধত্য বা আগ্রাসনকে ক্ষমা করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে লারিজানি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কৌশলগত ব্যর্থতা নিশ্চিত। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করা, যা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। লারিজানি বলেন, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগান এখন ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’-এ পরিণত হয়েছে।

শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেব না- পেজেশকিয়ান : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না ইরান।’ ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। প্রতিবেশী ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরান সুসম্পর্ক চায়, এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, শত্রু দেশগুলো বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে।

ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন কাতারের আামির : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি। শনিবার রাতে কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, টেলিফোনে দুই নেতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কাতারি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশে ইরানের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। আলোচনায় কাতারের আমির চলমান সংকট নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এর পরিণতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় অভিযান হিজবুল্লাহর : লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলসহ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে অব্যাহত ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আল-খিয়াম শহরের কাছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর ওপর রকেট হামলা চালান। এছাড়া তাল্লাত আল-হামামেস এবং খাল্লাত আল-আসফিরের দক্ষিণে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপরও সফল হামলা চালানো হয়। তাছাড়া, লেবানন-ফিলিস্তিন সীমান্তের কাফর কিলা শহরের ফাতেমা গেটে ইসরায়েলি সামরিক যানের একটি বহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চীনের হুঁশিয়ারি : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেষ্টার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বর্তমান সংকটের কখনও সমাধান হবে না। সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক পন্থায় সংকট উত্তরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিশ্ব আবারও ‘জোর যার মুল্লুক তার’- এমন শাসনে ফিরে যেতে পারে না। ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্য বিষয়ে ওয়াং ই বলেন, ‘রঙিন বিপ্লব বা ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতি সেখানকার জনগণের কোনো সমর্থন নেই। মূলত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব।’

তেহরান ও আশপাশের ৫ তেল স্থাপনায় হামলা : ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের পাঁচটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। রোববার ইরানের এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ তথ্য জানিয়েছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়। ইরানি তেলজাত পণ্য বিতরণ সংস্থার প্রধান নির্বাহী কেরামত ভেইস্কারামি রাষ্ট্রীয় টিভিকে বলেছেন, শনিবার রাতে তেহরান ও আলবোরজে চারটি তেল ডিপো এবং একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন কেন্দ্রে শত্রুপক্ষ বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমাদের চার কর্মী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন তেল ট্যাংকারচালক ছিলেন। স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত