ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি, তদন্তে পদ্মার টিম

৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি, তদন্তে পদ্মার টিম

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি দল তদন্তে নেমেছে। গতকাল শনিবার কুর্মিটোলা ডিপোতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত দলে রয়েছেন, পদ্মা অয়েলের উপ মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিম।

তদন্ত দলের সদস্যরা ডিপোর বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি তেলবাহী গাড়ির চলাচল সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই-বাছাই করা হয়। পাশাপাশি ডিপোতে থাকা তেলও পরিমাপ করে দেখেন তারা। এ সময় ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথাও বলেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, তদন্ত দল বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী গাড়িগুলোর গতিপথ ও ডিপোতে প্রবেশ সংক্রান্ত তথ্য। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে তা পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়টি যাচাই চলছে। এ বিষয়ে পদ্মা অয়েলের উপ মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ বলেন, খবরের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে, ওই তদন্ত চলমান আছে। আমরা সবকিছু মিলিয়ে দেখছি। পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল সাধারণত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে অপেক্ষাকৃত কমমূল্য হওয়ায় এটি অকটেনের সঙ্গে মিশ্রিত করে দুর্বৃত্তরা খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে জেড ফুয়েল নিয়ে ছেড়ে যাওয়া অন্তত ৪টি গাড়ি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। গাড়ি নম্বরগুলো হলো, ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮। কাগজে-কলমেও গাড়িগুলো কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে উল্লেখ করা হয়। পুরনো সিন্ডিকেট ফের একই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিকভাবে চুরির অভিযোগে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানার সই করা চিঠিতে কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু যথাসময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। সবশেষ তারা তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৮ মার্চ পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত