
দাসত্ব ও নিপীড়ন নির্মূলের জন্য জোরালো বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত স্মারক সভায় এ আহ্বান জানান। তিনি দাসত্বের শিকারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করা সাহসী মানুষদের প্রশংসা করেন। ড. রহমান বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্য মানবজাতির ওপর স্থায়ী প্রভাব রেখেছে। তিনি বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশ সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও বৈষম্য প্রত্যাখ্যান এবং শোষিত জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯২৬ সালের দাসত্ব সংক্রান্ত কনভেনশন এবং মানবাধিকার সনদ দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে দাসত্ব বিলুপ্ত, তবে এর প্রভাব আজও সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বিদ্যমান। ড. রহমান মানব পাচার প্রতিরোধ, ডিজিটাল ফরেনসিক সমন্বয় এবং শিক্ষাব্যবস্থা ও সংলাপে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমন একটি বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান, যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং মানব মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।