ঢাকা শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ১১ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ

গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ১১ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোটসহ ১১টি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটির সরকার পক্ষের সংসদ সদস্যরা। তবে এই কমিটির বিরোধী দলীয় তিনজন সদস্য এসব অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অধ্যাদেশ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। এছাড়া, ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ৪টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদ এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট পেশ করার জন্য বরিশাল -৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে, যেখানে বিরোধী দলের ৩ জন সংসদ সদস্য ছিলেন। এই কমিটি তিনটি বৈঠক করে যাচাই-বাছাই করেছে। এক্ষেত্রে অধ্যাদেশগুলো কী প্রয়োজনে ্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে তা জানার জন্য কমিটি অধ্যাদেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মতামত নিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কমিটির সরকার দলের সদস্য ও বিরোধী দলের সদস্যরা ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে একমত হতে পারেননি। ফলে বিরোধী দলের সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং গাজী নজরুল ইসলাম এই ১৩ টি অধ্যাদেশে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ সরকার পক্ষ বাতিল করার প্রস্তাব করেছে।

এসব অধ্যাদেশে বিরোধী দলের সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অধ্যাদেশ বহাল রাখার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫ পাশের বিষয়ে সরকার পক্ষ ভিন্ন নীতি অনুসরণ করতে চাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় তিনজন সংসদ সদস্য এই নীতি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সরকার পক্ষ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ পাশ করার প্রস্তাব করেছে।

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সম্পাদিত আলোচিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে সরকার। অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য ও অসম শর্তের তথ্য সামনে আসায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত অথবা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান।

দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৬টি, উৎপাদন ক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট : দেশের বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে সরকার। বর্তমানে সারাদেশে সরকারি-বেসরকারিতে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সচল রয়েছে। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই তথ্য জানান। তিনি জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেরই শক্তিশালী অংশগ্রহণ রয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ৬৪টি। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৩০২ মেগাওয়াট। সেই সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ৬৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার ৮৫৩ মেগাওয়াট। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি যৌথ মালিকানায় রয়েছে তিনটি বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ৩ হাজার ৬৮ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। মন্ত্রী জানান, সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত নির্ভর করে প্রতিদিনের চাহিদার ওপর। বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই : চাহিদা অনুযায়ী দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, তবে গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রাথমিকভাবে জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কিছুটা বিভ্রাট ঘটে। যদিও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। গ্রাহকের চাহিদা পূরণে বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর জন্য কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।

দৈনিক ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দৈনিক ২৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবুর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এ কথা জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সপ্তম দিনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাস সংকট নিরসনে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধিকল্পে স্বল্প, মধ্য ও দীর্মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী এক বছরে মোট ১১৭টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। দেশে গ্যাস সংকট নিরসনে পেট্রোবাংলা গৃহীত অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের অগ্রগতি ও গ্যাস মজুত সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার পেট্রোবাংলা কর্তৃক ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনার আওতায় ২০২২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ২৫টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে দৈনিক ২৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং বর্তমানে দৈনিক ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির আওতায় স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা কর্তৃক প্রস্তুত করা ‘অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ ও ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। সম্ভাব্য নতুন গ্যাস মজুত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোবাংলা থেকে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার আওতায় সব কূপ খনন কাজের সফল সমাপ্তিতে আনুমানিক ১৫৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিথ্যাকে সত্য, সত্যকে মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন- সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বৃহস্পতিবার একাত্তর বিধিতে (পয়েন্ট অফ অর্ডার) দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতার ব্যবহৃত ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় অভিহিত করে তা এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া) করার দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবারের এই অধিবেশনে পাল্টাপাল্টি বাক্যবিনিময় চলে দুই নেতার মধ্যে।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য : স্পিকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা কালকে চলে যাওয়ার পরে আমাকে ভালোবেসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি একটি অসত্য কথা এখানে বলে গেছি। আমি এটা জানতে পারলাম। আসলে আল্লাহ তা’আলা তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন। জাস্ট বোতল পরিবর্তন করে মেটেরিয়াল ঠিক রেখে তিনি সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্যই আমি আজ দাঁড়িয়েছি।’

স্পিকারের হস্তক্ষেপ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব : স্পিকার এ সময় জানান, বিষয়টি গতকালের এবং নতুন করে তোলার প্রয়োজন নেই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেটা হচ্ছে ‘মিথ্যা’। এটা অসত্য বললে আমি আপত্তি করতাম না। আমি অনুরোধ করবো এটি এক্সপাঞ্জ করা হোক।’

তেলের জন্য রাস্তায় দীর্ঘ সারি, মন্ত্রী কী দেখতে পাচ্ছেন না : জ্বালানি তেলের জন্য রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হলেও সরকার কেন এই সমস্যাটি এড়িয়ে যাচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি এই প্রশ্ন রাখেন। সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি গ্রেজুয়ালি পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আজকে সিলেটের পাম্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা দেখছি যে, রাস্তাতে লাইনের গাড়ির দীর্ঘ সারি এবং আমরা বারবার করে দেখতে পাচ্ছি যে সবাই প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় সরকার এ বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।’

মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী এই প্রবলেমটি একনলেজ করার পরিবর্তে মন্ত্রী আগের মতো আমরা সমস্যা এভয়েড করে যেতাম। মন্ত্রীদের মধ্যে এই ধরনের এক ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’ হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন রাখেন, ‘উনি কি দেখতে পাচ্ছেন না, গাড়ির দীর্ঘ সারি এবং গ্রেজুয়ালি যে পাম্পগুলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে, স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেই জায়গাতে উনি কবে নাগাদ এই সমস্যা যথাযথভাবে উনি সমাধান দেবেন এবং উনি প্রবলেমটি একনলেজ করবেন কি না?’ জবাবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা প্রতিটি পাম্পে যে পরিমাণ তেল প্রতিদিন দেওয়ার কথা সেই পরিমাণ তেল আমাদের পাম্পগুলোতে সাপ্লাই করা হচ্ছে। কিন্তু ইরান ঘটনার পর থেকে হঠাৎ করে বৃদ্ধি বেড়ে গেছে। বিক্রি বেড়ে যাওয়ার ফলে যে পেট্রোল পাম্পে যে পরিমাণে তেল দিতাম, এক দিন দেড় দিন লাগত বিক্রি করতে, এখন দুই ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়। সেই জন্য মানুষের যে প্যানিক শুরু হয়েছে, লাইন দেখা যায়। কিন্তু পেট্রোল সাপ্লাই হয় না এটা ঠিক না। পেট্রোল প্রতিদিন সাপ্লাই করা হয়।’ গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশে যে গ্যাস সঞ্চালন লাইন আছে, অনেক পুরোনো এবং গ্যাসের উত্তোলনের কমের জন্য চাপ কমে গেছে। সেজন্য প্রেসার কম থাকে। সেজন্য মাঝে মাঝে গ্যাসের লাইনে যায় না। আমরা একটা প্রকল্প নিয়েছি, প্রকল্পটা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত