
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিদিনই নতুন করে রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের। চিকিৎসকরা জানান, টিকাদানের ঘাটতি, অসচেতনতা এবং ঋতু পরিবর্তনের কারণে হামের প্রকোপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ায় জটিলতাও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে এবং সবাইকে শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে হাসপাতালে কথা হয় আফিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি মহাখালীর কড়াইল বস্তি এলাকা থেকে সন্তানের চিকিৎসার জন্য এসেছেন। আফিয়া বেগম বলেন, ‘এখানে সাত দিন ধরে ভর্তি আছি। আমার বাচ্চার কাশি এখনো কমছে না, ডাক্তার থাকতে বলেছেন। তাই আছি।’ হোসাইনের অসুস্থতা শুরু হয়েছিল জ্বর, সর্দি ও কাশি দিয়ে। পরবর্তী সময়ে শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ায় ছেলেকে নিয়ে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে যান মা আফিয়া। পরে সেখানকার পরামর্শে আসেন ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩৭৬ জন রোগী এখানে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ভর্তি আছে ২৪০ জন, সাধারণ ওয়ার্ডে ১৮৭ জন এবং আইসিইউ ওয়ার্ডে ৫৩ জন। তারা হাম ও এই ব্যাধির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এসেছে ৭৫ জন নতুন রোগী, যার মধ্যে ৫৮ জন হামে আক্রান্ত। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগই শিশু, তবে প্রাপ্তবয়স্করাও আছেন। ২২ বছর বয়সী শিউলি আক্তার হামে আক্রান্ত হয়ে চার দিন ধরে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় চিকিৎসাধীন। তার মা নবিজুন নেছা বলেন, শুরুতে জ্বর ও সর্দি- কাশি ছিল। এখন শুধু কাশি আছে, গ্যাস (নেবুলাইজার) দিতে হয়। ছোটবেলায় মেয়েকে সব ধরনের টিকা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। ডিএনসিসি কোভিড- ১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর চাপ বাড়ায় সোমবার থেকে এই হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগীদের এখানে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোগীরই বয়স কম।
২০ মাস বয়সী শিশু মাইশা তুন নূরের হামের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর লালবাগ থেকে এই হাসপাতালে এসেছেন তার বাবা মো. মিলন। তিনি বলেন, মেয়ের হামের লক্ষণ আছে। শুরুতে জ্বর, সর্দি ও কাশি ছিল। পরে কাশি বেড়ে যাওয়ায় মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে এখানে আনা হয়েছে। মাইশা তুন নূরের পরীক্ষা- নিরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো রিপোর্ট পাননি বাবা মিলন। ছয় বছর বয়সী শিশু নিহালকে নিয়ে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় হাম ওয়ার্ডে আছেন মা নাহার বেগম। পেশায় গৃহকর্মী এই নারীর আরেক সন্তান তিন বছর বয়সী সিয়াম হামে আক্রান্ত হয়ে ঈদের দিন সকালে মারা গেছে।
কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সন্তানের চিকিৎসার জন্য আসা নাহার বেগম বলেন, ‘ছেলেদের নিয়ে আমার শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইলে গিয়েছিলাম। সেখানে বড় ছেলের জ্বর আসে, পরে হাসপাতালে নিলে হাম শনাক্ত হয়। পরে ঢাকায় ফিরে কয়েকটি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার ছেলের ভালো চিকিৎসা হয়নি। তাকে বাঁচাতে পারিনি।’ রোববার থেকে ছোট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন জানিয়ে নাহার বেগম বলেন, ‘ওর এখনো কাশি আছে, সে জন্য ডাক্তার থাকতে বলেছেন।’ ডিএনসিসি কোভিড- ১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আসিফ আহমেদ হাওলাদার বলেন, ‘এখানে রোগীর যথেষ্ট চাপ আছে, আমরা সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখানে রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংকটাপন্ন রোগীদের প্রয়োজনীয় বিশেষ সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।’
হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু বেড়ে ৩ : হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার চট্টগ্রামের বেসরকারি ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশু মারা গেলেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিশুটি নোয়াখালীর বাসিন্দা। হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। আজ (বৃহস্পতিবার) আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। শিশুটির নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখনো ফলাফল হাতে পাইনি।’ এ নিয়ে তিনদিনে চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুরে মৃত্যুর তথ্য মিলল। এদের মধ্যে দুজনই কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা।
বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট-পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মাস বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ার বাসিন্দা। এর আগে মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় মাস বয়সী আরেক শিশু মারা যায়। সেই শিশুটিও কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা ছিল। বৃহস্পতিবার বিকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এদিন নগরীতে ১৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯৩। এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ শিশুর নমুনায় হাম শনাক্ত হয়েছে। হাম শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে ছয়জন নগরীর এবং দুইজন উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া হাম শনাক্তের জন্য বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা থেকে আরও ১২ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১২৩ জনের নমুনা শনাক্তের জন্য ঢাকার পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিসেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরি-এনপিএমএলে পাঠানো হয়েছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, র্যাশ ও চোখ ওঠার মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং যদি জ্বর না কমে বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং বেসরকারি মা ও শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুরা চিকিৎসা নিচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে পৃথক একটি কর্নার চালু করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের লক্ষণ নিয়ে ২৬ শিশু ভর্তি : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ২৬টি শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে এখানে ৭৯টি শিশু চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৬টি শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৭২টি শিশু। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৪ শিশু। মৃত্যু হয়েছে ৫ শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৭৯ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ১০টি শিশু।
হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধে হাইকোর্টে রিট : দেশে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দাখিল করা হয়। আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর আগে গত বুধবার দেশের শিশুদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা নিশ্চিত করতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া নোটিশটি প্রেরণ করেন। এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, কিছুদিন ধরে হামের টিকার অভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুবরণসহ অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। অথচ এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। নোটিশে পত্রিকায় প্রকাশিত ‘হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শতাধিক’ প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি নোটিশে আরো উল্লেখ করেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে।
পাবনায় হামের টিকা নিতে কেন্দ্রে ভিড়, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় ভোগান্তি : পাবনায় হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে টিকাদানকেন্দ্রগুলোয় ভিড় বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়া অনেক শিশু টিকাদানকেন্দ্রে আসছে। যদিও কিছুদিন আগে টিকার ঘাটতি ছিল, তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে সেই ঘাটতি পূরণ হয়েছে। জেলা শহরে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয় পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভা ক্যাম্পাসের এক কোনায় এই টিকাদানকেন্দ্র। একতলা ভবনের সামনে ত্রিপল টানিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। পুরো জায়গাটি মানুষে ঠাসা।
টিকাদানকেন্দ্রের কর্মী শাহারা খাতুন বলেন, গত কয়েক মাসে মাঝেমধ্যে হামের টিকার ঘাটতি হচ্ছিল। এক মাস ধরে পোলিওর টিকা (ওপিভি) নেই। গত বুধবার বিকেলে ২৬৪ ভায়াল হামের টিকা এসেছে, যা দিয়ে ১ হাজার ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়া যাবে। টিকা আসার খবরে বৃহস্পতিবার প্রথম দিন মাত্র দুই ঘণ্টায় প্রায় ১০০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যে পরিমাণ টিকা আছে, তাতে আগামী দুই থেকে তিন দিন চলতে পারে।
পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক মাস হামের টিকা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা পায়নি। তবে এখন টিকা এসেছে, যা দিয়ে দুই থেকে চার দিন চালানো যাবে। এরপর আবার টিকা লাগবে। অন্যদিকে পোলিওর টিকা প্রায় নেই, অনেক শিশু ফিরে যাচ্ছে। এই টিকারও সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে। জেলায় হামে আক্রান্ত শিশু বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। তারা টিকার জন্য টিকাদানকেন্দ্রে ভিড় করছেন। এই মুহূর্তে টিকার ঘাটতি হলে আমরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ব।’
এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। জানুয়ারি থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১৫৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ দিনেই ভর্তি হয়েছে ৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১৫ জন। নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৩ শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৩ জন। পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হামে আক্রান্ত রোগী বাড়ায় টিকার চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের কাছে ২১ হাজার ৪৯০ ডোজ টিকা মজুত আছে। আগে টিকার যে ঘাটতি ছিল, এখন তা আর নেই। আগামী রোববার আবার টিকা আসার কথা রয়েছে। আশা করছি, টিকা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’