
সারা দেশে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে হামে আক্রান্ত শিশু। অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারাও যাচ্ছে, ইতোমধ্যে সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে হাম। এ অবস্থায় হাম মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বজ্রপাতের মত এসেছে হাম, কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ে হাম মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত আমরা। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ যথাযথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা নির্ভুলভাবে কাজ করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমাদের অনেক শিশু মারা গেছে। আমি খুব ব্যথিত হয়েছি। আমরা আর চাই না, এমন ঘটনা ঘটুক।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, আল্লাহ বিপদ দেন এবং সহযোগিতাও করেন। আপনাদের এই পেশাটাতে যদি অবহেলা থাকে? আপনারা অন্ধকার ঘরে একবার চিন্তা করেন, আপনারা কারা? তাহলে আর অবহেলা করবেন না। আর আমাদের ডাক্তাররা অবহেলা করেনও না। ডাক্তার যা বলেন রোগী তা-ই করেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের প্রতি অনুরোধ করোনাকালীন সময়ে আপনারা সেবা দিয়েছেন এবং রোগীদের পাশে ছিলেন। আপনাদের অবদান সবাই স্মরণ করবে এবং এই অবদান ভুলবার নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেক সংকট তা আমরা অবগত হয়েছি। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, অতি দ্রুত সময়ে আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। কিন্তু তার আগে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের সহযোগিতা চাইছি।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা, রাজশাহীসহ হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে হামের চিকিৎসায়। রাজশাহী এবং মানিকগঞ্জ ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে হামের টিকা দেওয়ার বিষয়ে দেশে কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। টিকা সংগ্রহের জন্য এরই মধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফের মাধ্যমে শিগগিরই টিকা সংগ্রহ করা হবে।