ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দুই যুদ্ধবিমান ও দুই ব্ল্যাকহক কপ্টার ধ্বংস করল ইরান

* যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে : ইরান * ট্রাম্পের আল্টিমেটামকে ‘দিশাহারা’ উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান ইরানের * ইয়েমেন থেকে হামলা, সরানো হলো বিমানবন্দরের সব কর্মীকে * ইরানের হামলায় আবুধাবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন * ইসরায়েলের যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হিজবুল্লাহর * কুয়েতে তেল কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলা
দুই যুদ্ধবিমান ও দুই ব্ল্যাকহক কপ্টার ধ্বংস করল ইরান

ইরানে আটকে পড়া যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর এক সদস্যকে উদ্ধারে অভিযান চলাকালে দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ও দুই ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। ইস্পাহানের দক্ষিণে ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানের পাশাপাশি দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও আছে বলে জানিয়েছেন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর একীভূত কমান্ডের এ মুখপাত্র। গতকাল রোববার ইস্পাহানে একটি ইসরায়েলি ড্রোনও ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানি সেনারা। ইরানের খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র মার্কিন উদ্ধার অভিযানকে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন। সদরদপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, তাদের অভিযানের ফলে একাধিক ‘শত্রু বিমান’ ধ্বংস হয়েছে। ১৯৮০ সালের এপ্রিলের ব্যর্থ ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’ অভিযানের সঙ্গে সাদৃশ্য টেনে এবারের উদ্ধার অভিযানেও যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপমানজনক পরাজয়’ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান ও দুটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ধ্বংস করল ইরান : ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের পাল্টা জবাবে বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইসফাহানে ইরানি বাহিনীর অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহণ বিমান এবং দুটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সময় অন্তত একটি সি-১৩০ বিমান ধ্বংস হয়েছিল। তবে আইআরজিসির সর্বশেষ বিবৃতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের ব্যবহৃত একাধিক আকাশযান ইরানি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

দক্ষিণ ইসফাহানের এই সামরিক সংঘাতের ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব আকাশযান ধ্বংসের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে, হুঁশিয়ারি ইরানের : ইরানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান চলমান যুদ্ধে তার পরিকল্পনা এবং ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা’ অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস এ হুঁশিয়ারিসহ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তবে ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার অনুগত শাসকগোষ্ঠীর জন্য আমাদের একটি বড় চমক রয়েছে। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে তারা সেটা দেখতে পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের আচরণ ঘটনাপ্রবাহের গতিপথ আমাদের অনুকূলে বদলে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু ‘যথাযথ নয়’ বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। তিনি ইরানের সেতুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার হুমকিকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে বলেন, ‘যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়াসহ মার্কিন সামরিক অভিযানের ব্যর্থতার কারণে তিনি (ট্রাম্প) এ হুমকি দিয়েছেন।’

ট্রাম্পের আল্টিমেটামকে ‘অসহায় ও দিশাহারা’ উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান ইরানের : ইরানে হামলা বন্ধের দাবিতে ইসরায়েলের তেল আবিবে বিক্ষোভণ্ডসমাবেশ। এতে এক বিক্ষোভকারীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোশ পরা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, যার হাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখোশ পরা একটি শিশু সদৃশ পুতুল রয়েছে। ইরানে হামলা বন্ধের দাবিতে ইসরায়েলের তেল আবিবে বিক্ষোভণ্ডসমাবেশ। এতে এক বিক্ষোভকারীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোশ পরা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, যার হাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখোশ পরা একটি শিশু সদৃশ পুতুল রয়েছে। ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তিচুক্তিতে রাজি না নিলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ?ট্রাম্পের দেওয়া হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করে। বিবৃতিতে জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলীআবাদি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকি একটি ‘অসহায়, দিশাহারা, ভারসাম্যহীন এবং বিবেচনাহীন কাজ।’ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সোমবারের মধ্যে এটি করতে ব্যর্থ হলে ইরানে ‘নরক’ নেমে আসবে। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুমকি দেন। ট্রাম্প পোস্টে লিখেছেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে। এখন হাতে আছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপরই তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।’ ট্রাম্পের এ হুমকির জবাবে আলী আবাদি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই বার্তার সহজ অর্থ হলো- আপনাদের জন্য দোজখের দরজাগুলো খুলে যাবে।’

যুদ্ধ বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ‘পুরো অঞ্চল দোজখে পরিণত হবে’- ইরান : ইরানের পুলিশের স্থাপনায় হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে দেশটির একটি জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে। ইরানের পুলিশের স্থাপনায় হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে দেশটির একটি জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের আরও বিস্তৃতি ঘটলে তার ফল হবে ভয়াবহ এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র পাল্টা আঘাত হানা হবে। ইরানের সামরিক বাহিনীর এই মুখপাত্র বলেন, ‘যদি আগ্রাসন বৃদ্ধি পায়, তবে পুরো অঞ্চল আপনাদের জন্য দোজখে পরিণত হবে। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করার যে বিভ্রম আপনারা লালন করছেন, তা একটি জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে আপনারা ডুবে মরবেন।’

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, সোমবারের মধ্যে এটি করতে ব্যর্থ হলে ইরানে ‘নরক’ নেমে আসবে। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুমকি দেন। ট্রাম্প পোস্টে লিখেছেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে। এখন হাতে আছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপরই তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।’

ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সরানো হলো বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের সব কর্মীকে : ইসরায়েলের জাফায় অবস্থিত বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্লাস্টার (গুচ্ছ) ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে একটি সন্দেহজনক প্যাকেজ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়। ওই প্যাকেজ থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিমানবন্দরে আতঙ্ক তৈরি হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় সেখানকার সব কর্মীকে। প্যাকেজটির ভেতর কী ধরনের পদার্থ রয়েছে তা শনাক্ত করতে এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে বর্তমানে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলছে।

ইরানের হামলায় আবুধাবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আবুধাবির বোরুজ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানার একাধিক স্থানে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বলেছে, আবুধাবির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলা প্রতিহত করার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর পেট্রোকেমিক্যাল ক্ষেত্রটির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। কর্তৃপক্ষ জনগণকে তথ্যের জন্য শুধু সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি এমন গুজব কিংবা খবর শেয়ার করা এড়িয়ে চলতে বলেছে। আরব আমিরাতের জাতীয় জরুরি সংকট ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার ভোরে এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৪৪টা মিনিটে আমিরাতের আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি শনাক্ত করে এবং সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করে। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং সতর্কতা ও পরবর্তী খবরের জন্য সরাসরি সরকারি চ্যানেলগুলো অনুসরণ করার অনুরোধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলের যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হিজবুল্লাহর : লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা দেশটির উপকূল থেকে ৬৮ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানরত একটি ইসরায়েলি সামরিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধজাহাজটি লেবাননের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে নজরদারি চালানোর পর তারা এই হামলায় একটি নাভাল ক্রুজ (নৌ) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

কুয়েতে তেল কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলায় আগুন : কুয়েতের সুয়াইখ তেল সেক্টর কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গতকাল রোববার সকালের এ হামলায় সেখানকার অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায়। কুয়েতি রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ওই কমপ্লেক্সে কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং তেল মন্ত্রণালয় ভবন অবস্থিত। এ হামলায় কেউ হতাহত হননি। হামলার পর লাগা আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আলাদা এক প্রতিবেদনে কুয়েতি বার্তাসংস্থা দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলেছে, ইরানের ড্রোন আঘাত হেনেছে সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর অফিস কমপ্লেক্সে। এতে সেখানে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু কেউ হতাহত হননি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে তেহরান তেল আবিব ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তেহরান।

ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করল যুক্তরাষ্ট্র : ইরানে গত শুক্রবার ভূপাতিত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের একটির নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েল যখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, তখনই এ খবর এল। নতুন চুক্তি করতে অথবা হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় দেশটিকে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ওই বৈমানিক সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরান বলেছে, শুক্রবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। বিমানে দুজন ক্রু ছিলেন। উদ্ধার হওয়া বৈমানিক তাদেরই একজন। এর আগে বিমানের প্রথম ক্রুকে উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল রয়টার্স। একই দিন আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কথা জানায় তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প নানা ধরনের মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন। কখনো তিনি কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস দিচ্ছেন, আবার কখনো ইরানকে বোমা মেরে ‘পাথর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তার দাবি পূরণ না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এবার তিনি তেহরানকে মনে করিয়ে দিলেন যে, যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে- আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ওপর চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।’ ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় এ যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। চলমান এ যুদ্ধে এরইমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

বড় ধরনের সংঘাত আসন্ন- এমন বার্তা দিচ্ছে ইসরায়েল : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার এই পর্যায়ে অনেকগুলো ঘটনা একই সঙ্গে ঘটছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, ইরানের ইস্পাত শিল্প ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় তাদের হামলা করা হয়েছে, যাতে করে দেশটি অস্ত্র তৈরিতে বাধার মুখে পড়ে। এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছে। ফলে স্কুলে পাঠদান অনলাইন অব্যাহত থাকবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো জনসমাগম করা যাবে না। ফলে আপাতত জনজীবন স্বাভাবিক হচ্ছে না। এসব যখন ঘটছে, ঠিক তখন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাদের সংবাদমাধ্যমগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত বৃদ্ধির বিষয়ে এরই মধ্যে ব্রিফিং চলছে। কারণ মনে হচ্ছে, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ইরানের পাওয়ার গ্রিড ও জ্বালানি সম্পদে আঘাত হানার অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব হামলার বিষয়ে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তাটি হলো- একটি বড় ধরনের সংঘাত আসন্ন এবং এটি হবে এই যুদ্ধের শেষ পর্ব। তবে এই বার্তায় সমীকরণের অন্য দিকটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি হলো, ইরানের হামলায় ইসরায়েলের জনগণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দেশটির অনেক সমালোচক এখন বলছেন, এই যুদ্ধের কোনো রাজনৈতিক কৌশল বা যুদ্ধ শেষের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেতানিয়াহু সরকারের নেই।

ইরানে দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস : ইরানে বিধ্বস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রুদের উদ্ধারে চালানো এক বিশেষ অভিযানের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হওয়া নিজেদেরই দুটি পরিবহন বিমান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত