ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী’ আখ্যা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী’ আখ্যা ইরানের

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির পরিপন্থী এবং অন্যায় বলে আখ্যায়িত করেছেন। গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তারা দাবি করে যে আমরাই আসল সন্ত্রাসী। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারাই আসল সন্ত্রাসী।’

ইসরায়েলের চার ‘গুপ্তচর’কে গ্রেপ্তার করল ইরান : ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা ইরনা (আইআরএনএ) জানায়, ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ গিলান থেকে মোসাদের সঙ্গে যুক্ত ওই চার এজেন্টকে আটক করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে মোসাদের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে ইরানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সামরিক এবং নিরাপত্তা স্থাপনার ছবি ও অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য পাঠাতেন। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশ’ হতে চাইলে মার্কিন জাহাজগুলো ডুববে, হুঁশিয়ারি ইরানের : ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র ‘পুলিশের’ ভূমিকা পালন করতে চায়, তবে সেখানে মার্কিন জাহাজগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। এখন এই প্রণালি আর ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ- অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিস্থিতিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে মোহসিন রেজাই বলেন, ‘ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে পুলিশ হতে চান। এটা কি আপনার কাজ? এটা কি যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী একটি সামরিক বাহিনীর কাজ?’ মোহসিন রেজাই সতর্ক করে বলেন, ‘আপনাদের জাহাজগুলো (অবরোধ কার্যকর করতে নজরদারি করা মার্কিন জাহাজ) আমাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ডুবতে পারে।’ মোহসিন রেজাই ইরানের উচ্চপদস্থ একজন সামরিক কর্মকর্তা। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সাবেক কমাণ্ডার- ইন- চিফ ছিলেন তিনি। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে অবসরে যান। গত মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়, মোহসিন রেজাই অবসর ভেঙে মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ পাড়ি দিল ইরানের সুপার ট্যাংকার : যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা আরও একটি সুপার ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এই প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলার মধ্যেই এ নিয়ে দ্বিতীয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞাধীন ট্যাংকার হরমুজ পাড়ি দিল। খালি অবস্থায় ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ‘আরএইচএন’ গতকাল বুধবার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা এলএসইজি ও কেপলারের তথ্যে এ খবর পাওয়া গেছে। ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বহনে সক্ষম ট্যাংকারটি কোন দিকে যাচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি গত বুধবার জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের একটি সুপার ট্যাংকার চলমান অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। ট্যাংকারটি ইরানের ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার থেকে ওই অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসে ওয়াশিংটন ও তেহরান। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা হলেও দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়। শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প অবরোধের ঘোষণা দেন। গত সোমবার অবরোধ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, কোনো জাহাজ অবরোধ ভাঙেনি। মার্কিন বাহিনীর নির্দেশে ১০টি জাহাজের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাধীন আরেকটি ট্যাংকারের অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। সেটির নাম ‘রিচ স্টারি’। এটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে। এলএসইজি আর কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি আকারের এ ট্যাংকারে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল বহন করা হয়। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে চীনা ক্রু রয়েছেন এবং এটি চীনের মালিকানাধীন।

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার আহ্বান চীনের : হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একনিষ্ঠ দাবি বলে মন্তব্য করেছে চীন। গতকাল বুধবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ আহ্বান জানান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাপকালে ওয়াং ই বলেন, হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় দেশ হিসেবে ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ন্যায়সংগত অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো উচিত। তবে একই সঙ্গে এ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এখন যুদ্ধ ও শান্তির এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তবে তিনি আশা ব্যক্ত করেন, শান্তির একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এদিকে চীনের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জবাবে বলেছেন, তার দেশ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে আগ্রহী।

নিজেদের সেরা গোয়েন্দা ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র : পারস্য উপসাগরে নিজেদের অন্যতম দামি ও আধুনিক একটি ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত ৯ এপ্রিল ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ মডেলের এ ড্রোন বিধ্বস্ত হয় বলে গত মঙ্গলবার নৌবাহিনীর সেফটি কমান্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট রাডার ২৪’-এর তথ্য বলছে, ওই দিন ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটি থেকে ওড়ার পর পারস্য উপসাগরের ওপর নিখোঁজ হয়। এটি হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে ওড়ার সময় হঠাৎ রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত ৯ হাজার ফুটে নেমে আসে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফ্লাইট ডাটায় দেখা যায়, ওড়ার সময় ড্রোনটি ‘৭৪০০’ সংকেত পাঠাচ্ছিল, যার অর্থ ড্রোনটির সঙ্গে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল বা চালকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর প্রায় ৭০ মিনিট পর এটি ‘৭৭০০’ সংকেত পাঠায়, যা জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

সবশেষে ৯ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়। মার্কিন নৌবাহিনী ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি। ড্রোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নরথ্রপ গ্রামান এটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা ও নজরদারি মনুষ্যবিহীন বিমান হিসেবে দাবি করে। জেট ইঞ্জিনচালিত এই ড্রোন টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি আকাশে উড়তে পারে। ড্রোনটির পাল্লা ৮ হাজার ৫০০ মাইল। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কাছে থাকা সবচেয়ে বিরল বিমানগুলোর একটি। এর মাত্র ২০টি এ পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা), যা একটি এফ-৩৫সি স্টিলথ যুদ্ধবিমানের দামের দ্বিগুণেরও বেশি।

ইউরোপে হয়তো ছয় সপ্তাহের জন্য জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে- আইইএ : আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, ইউরোপের হয়তো ছয় সপ্তাহ কিংবা তার কিছু বেশি জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে শিগগিরই ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। আল- জাজিরার খবরে বলা হয়, আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরোল এপির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে— যা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলছে।

ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয় তবে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, এবার যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি শক্তি নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেন, ইরান, তোমাদের সামনে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে। আমরা আশা করি, তোমরা তা ইরানি জনগণের জন্য বেছে নেবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিন্তু ইরান যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের ওপর অবরোধ আরোপ করা হবে এবং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বোমা বর্ষণ করা হবে।

ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেশটির সঙ্গে সম্পর্কিত সব জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে চাওয়া সব জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়ছে। দিকে, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, আমরা সক্রিয়ভাবে যে কোনো ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ কিংবা ইরানকে উপকরণগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন যে কোনো জাহাজকে অনুসরণ করবো। তিনি আরও জানান, অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে জাহাজগুলোকে আটক করা হবে ও সতর্ক করা হবে। কেউ যদি এই অবরোধ মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আমরা শক্তি প্রয়োগ করবো। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে ও আন্তর্জাতিক জলসীমাতেও এই অবরোধ কার্যকর করা হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত