
রাঙামাটির লংগদু মাইনি উত্তর গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আলিম মাদ্রাসার বার্ষিক তামাদ্দুনিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, দাখিল পরীক্ষার্থীদের দোয়া মাহফিলে এবং বাঘাইছড়ি বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে আয়োজিত মতবিনিময় ও পাঠাগারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী মা.জি.আ) বলেন, তিন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় বিশ লক্ষ পাহাড়ি ও বাঙালি আবহমান কাল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করলেও স্বাধীনতার পর ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মাঝে পশ্চিমা মিশনারি গ্রুপ ধর্মান্তকরণের পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদ উস্কে দেয়। নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার অভাব, সরলতার সুযোগ নিয়ে সুদীর্ঘকাল থেকে তিন পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে এনজিও-র নামে মিশনারী কার্যক্রম পরিচালনা করে বেশিরভাগ নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করে ফেলে। দারিদ্র্যতা ও অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে মিশনারি গ্রুপ অনেক মুসলিম পরিবারকেও ধর্মান্তরিত করে। বিগত শতাব্দীর আশির দশকে বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার মুজাদ্দিদে যামান শাহ সুফি মাওলানা আবদুল জব্বার (রহ.) দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন।
খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা মোকাবিলায় শুরুতেই মসজিদণ্ডমক্তব প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্তমানবতার সেবার মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়া শুরু করেন। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মতো দুর্গম এলাকায় ইসলামী দাওয়াতি কার্যক্রম অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। নৌকায়, চাঁদের গাড়ি, পায়ে হেঁটে স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি এবং ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে রাঙামাটি বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স, খাগড়াছড়ি বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স এবং বান্দরবান বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শাহ সুফি মাওলানা আবদুল জব্বার (রহ.) দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দেন এবং এই কাজে তিনি প্রভূত সাফল্য লাভ করেন। দুর্গম তিন পার্বত্য এলাকায় ধর্ম-বর্ণ সর্বসাধারণের কাছে বায়তুশ শরফ বহুল আলোচিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত।