ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইসতেখারা নামাজের দোয়া ও নিয়ম

ইসতেখারা নামাজের দোয়া ও নিয়ম

নতুন কোনো কাজ শুরুর আগে ইসতেখারা করে নেওয়া ভালো। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে, এ ক্ষেত্রে ইসতেখারার বিকল্প নেই। ইসতেখারা আরবি শব্দ, অর্থ কোনো জিনিসের ক্ষেত্রে কল্যাণ কামনা করা।

সুন্নতের অনুসরণে ইসতেখারা করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইঙ্গিত প্রদান করেন। তাই নতুন যেকোনো কাজ কিংবা কাজের সঠিক সিদ্ধান্ত পেতে ইসতেখারা করার নিয়ম জানিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সুতরাং বিয়েশাদি, চাকরি, ব্যবসা কিংবা বিদেশ সফরের বিষয়ে ইসতেখারা করা উত্তম।

ইসতেখারা করার নিয়ম : ইসতেখারা করা সুন্নত। ইসতেখারার নিয়ম হলো-

১. নামাজের শুরুতে অজু করা।

২. ইসতেখারার উদ্দেশে দুই রাকাত নামাজ পড়া। নামাজে সুরা ফাতেহার পর যে কোনো সুরা পড়া যায়।

৩. নামাজে সালাম ফেরানোর পর আল্লাহর বড়ত্ব ও মর্যাদার কথা মনে করে একান্ত বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া পড়া।

ইসতেখারা নামাজের নিয়ম : ইসতেখারা নামাজ দুই রাকাত পড়বে। নফল নামাজের মতোই এ নামাজ পড়বে। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। এর জন্য ভিন্ন কোনো নিয়ম নেই। আলাদা নিয়তেরও প্রয়োজন নেই। নফল নামাজের নিয়ত করবে। নামাজ শেষে আল্লাহর প্রশংসা করবে। মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়বে। এরপর ইসতেখারার দোয়া পড়বে।

জাবের বিন আবদুল্লাহ আস-সুলামি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তার সাহাবিদের সব বিষয়ে ইসতেখারা করার শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি তাদের কোরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের উদ্যোগ নেয়, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে। এরপর দোয়া পড়ে। দোয়াটি পড়ে-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসতাখিরুকা বি ইলমিকা, ওয়া আসতাকদিরুকা বি কুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাজলিকাল আজিম। ফা ইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু, ওয়া তালামু ওয়ালা আলামু, ওয়া আংতা আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন্না কুংতা তালামু আন্না হাজাল আমরা খায়রু লি ফি দিনি ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি। (অথবা বলবে) ফি আজিলি আমরি ওয়া আজিলিহি। ফাকদুরহু লি ওয়া ইয়াসসিরহু লি। সুম্মা বারিক লি ফিইহি ওয়া ইন কুংতা তালামু। আন্না হাজাল আমরা (এখানে নিজের কাজের কথা মনে মনে উল্লেখ করবেন) শাররু লি ফি দিনি। ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি। ফি আজালি আমরি ওয়া আজিলিহি। ফাসরিফহু আন্নি ওয়াস রিফনি আনহু। ওয়াকদুর লিআল খাইরা হাইসু কানা সুম্মা আরজিনি বিহি।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের সাহায্যে আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আমি আপনার সাহায্যে শক্তি ও আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা, আপনিই ক্ষমতাবান, আমি ক্ষমতা রাখি না। আপনি জ্ঞান রাখেন, আমার জ্ঞান নেই এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়ে সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত।

হে আল্লাহ, আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ (নিজের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে অথবা মনে মনে স্মরণ করবে) আমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য (কিংবা বলবে আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে) কল্যাণকর হলে, আপনি তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন। সেটা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং এতে বরকত দিন।

হে আল্লাহ, আর যদি আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে (কিংবা বলবে, আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য) অকল্যাণকর হয়, তবে আপনি আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে দিন এবং সেটাকেও আমার থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আমার জন্য সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ নির্ধারণ করে রাখুন এবং আমাকে সেটার প্রতি সন্তুষ্ট করে দিন। (বোখারি : ৬৩৮২)।

ইসতেখারা,নামাজ,নিয়ম
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত