ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘রেডলাইন’ জানিয়ে দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘রেডলাইন’ জানিয়ে দিল ইরান

ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনোভাবেই আপস করবে না- এ বিষয়ের একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখার তালিকা পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন এই তালিকার বিষয়বস্তুগুলো দ্রুততম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেওয়া হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তার সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের সময় দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এই গোপনীয় তালিকাটি তুলে দেন। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তালিকায় মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীর মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই বার্তা প্রদানের বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছে। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই তালিকা বা বার্তা দেওয়ার সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বা সম্ভাব্য কোনো সরাসরি আলোচনার সম্পর্ক নেই। বরং এটি বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অনড় অবস্থান পরিষ্কার করার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মাত্র। তেহরান মনে করছে, পাকিস্তানের মতো একটি প্রতিবেশী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তির মাধ্যমে এই বার্তা ওয়াশিংটনে পৌঁছালে তা যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে বা যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করবে। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইরানের এই ‘রেড লাইন’ তালিকায় পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই দুটি ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বা সরাসরি আঘাত তেহরান কোনোভাবেই সহ্য করবে না। যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল এই সীমারেখা অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে ইরান কঠোরতম পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও তালিকার অন্য বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য সংবাদ সংস্থাগুলো প্রকাশ করেনি, তবে এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ছায়া যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই তালিকা পাঠানোর সিদ্ধান্তটি তেহরানের একটি সুচিন্তিত কূটনৈতিক কৌশল। পাকিস্তান একদিকে যেমন ইরানের প্রতিবেশী, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দেশটির দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

ফলে একটি নির্ভরযোগ্যমাধ্যম হিসেবে ইসলামাবাদকে ব্যবহার করে তেহরান মূলত সরাসরি সংঘাত এড়ানোর একটি পরোক্ষ পথ বেছে নিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই ‘রেড লাইন’ তালিকাটিকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। বর্তমানে পুরো বিশ্ব এ গোপন বার্তার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যা ওই অঞ্চলের সামরিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে- ইরান : যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। রাশিয়ায় পৌঁছে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি। আরাঘচির টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা এক সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, সেন্ট পিটার্সবার্গে নেমে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে রুশ মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর আরাঘচি রাশিয়ায় পৌঁছেছেন। রাশিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কোন কোন শর্তসাপেক্ষে আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে, সেটা নিয়েও কথা হয়েছে।

বর্তমানে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেন আব্বাস আরাঘচি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদ চলাচল একটি বৈশ্বিক ইস্যু এবং ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই প্রণালীতে তাদের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ইরান ও ওমানের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন আরাঘচি। এই প্রণালী নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী আলোচনার বিষয়ে একটি চুক্তিও হয়েছে বলে জানান তিনি।

তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘কার্ড’ আছে- ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার : ওয়াশিংটন ও তেহরানের অর্থনৈতিক ‘কার্ড’ বিশ্লেষণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আধিপত্যের দাবি তিনি নাকচ করেছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তির বড় অংশই এরইমধ্যে হারিয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘কার্ড’ রয়েছে, যা ব্যবহার করা হয়নি। গত রোববার রাতে নিজের এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে গালিবাফ এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার একটি সমীকরণ তুলে ধরেন। এর একদিকে রয়েছে ইরানের সরবরাহভিত্তিক সক্ষমতাণ্ডহরমুজ প্রণালী, বাব এল-মান্দেব প্রণালী ও তেলের পাইপলাইন। সমীকরণের অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদাভিত্তিক পদক্ষেপ- কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, তেহরানের হাতে এমন কিছু বিকল্প আছে, যা এখনও ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে তার বেশ কিছু হাতিয়ার ব্যবহার করেছে বা আংশিকভাবে প্রয়োগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার লিখেছেন, ‘ওরা কার্ড নিয়ে বড়াই করছে। দেখা যাক: সরবরাহ কার্ড, চাহিদা কার্ড।’ তেহরানের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, হরমুজ প্রণালী কার্ড আংশিক ব্যবহার হয়েছে। বাব এল-মান্দেব কার্ড ব্যবহার হয়নি। পাইপলাইন কার্ডও ব্যবহার করা হয়নি। ওয়াশিংটনের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। চাহিদা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আংশিক ব্যবহৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও মূল্য সমন্বয় আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার’ দিকটি তুলে ধরে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার আরও বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে দেশটিতে জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

রাশিয়ায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী : রাশিয়া সফরের সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের বরাতে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে। ইরনার খবরে বলা হয়েছে, আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও অংশ নেবেন। তাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হবে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের বর্তমান আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া।

এর আগে রোববার পাকিস্তান সফর শেষে রাশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন আব্বাস আরাগচি। এ নিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে দুইবার পাকিস্তান সফর করলেন তিনি। পাকিস্তানের দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আব্বাস আরাগচি দেখা করলেও মার্কিন কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেননি।

ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেল-আল্টিমেটাম’ ছাড়তে হবে- রাশিয়ার দূত : ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেল’ ও ‘আল্টিমেটাম’ দেওয়া ছাড়তে হবে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিযুক্ত রাশিয়ার দূত মিখাইল আলইয়ানভ এমনটাই জানান। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলইয়ানভ লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ, কঠোর নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে আলোচনা চালাতে চায়। শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যেতে অভ্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানে তা কাজ করবে না। ওই পোস্টে আলইয়ানভ আরও লেখেন, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এসব বাদ দেওয়া। তিনি হ্যাশট্যাগ দিয়ে তিনটি কৌশল বাদ দেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেন। এগুলো হলো ‘ব্ল্যাকমেলিং’, ‘আল্টিমেটাম’ ও ‘ডেডলাইন’।

২ হাজার পাউন্ড ওজনের তিনটি মার্কিন বাংকারবিধ্বংসী অবিস্ফোরিত বোমা ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির : ইরানের জাঞ্জান প্রদেশে ৯ হাজার ৫০০টি বোমার ক্ষুদ্র অংশ (বোম্বেট), কয়েক ডজন অবিস্ফোরিত রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের মার্কিন জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা শনাক্ত-নিষ্ক্রিয় করার কথা জানিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি। প্রদেশটিতে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চালানো আগ্রাসনের অবিস্ফোরিত অস্ত্র-গোলাবারুদ শনাক্ত-নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়কারী-অপসারণ ইউনিটগুলো অভিযান চালায়। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই অভিযান চালানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৯ হাজার ৫০০টির বেশি বোমার ক্ষুদ্র অংশ শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এগুলো শত্রুর যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হয়েছিল। এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া বিভিন্ন ধরনের অবিস্ফোরিত রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। মোট ৫২টি রকেট ধ্বংস করা হয়েছে। ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, তিনটি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের মার্কিন জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা ধ্বংস করা হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হরমুজ বন্ধ, হাজারো নাবিক জানেন না কবে ফিরবেন : বন্ধ হরমুজ প্রণালীতে ১০৫টির বেশি ট্যাঙ্কারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন নাবিক আটকে আছেন। ট্যাঙ্কার কোম্পানিগুলোর একটি বাণিজ্য সংগঠন এই তথ্য জানিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আবার চালু করা সম্ভব নয়। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ট্যাঙ্কার বাণিজ্য সংগঠন ইন্টারট্যাঙ্কোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স বলেন, হরমুজ প্রণালীর এই বন্ধ অবস্থার কারণে ইরানের উপকূলে বহু নাবিক আটকে আছেন।

জাহাজগুলোতে থাকা ক্রুদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি ভর করেছে বলে উল্লেখ করেন টিম উইলকিন্স। তিনি বলেন, ক্রুদের খাবার, পানিসহ মৌলিক সরবরাহ ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার মতো কাজ সামলাতে হচ্ছে। টিম উইলকিন্স আরও বলেন, ‘অনেকেই জাহাজে আটকে আছেন এবং তাঁরা কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও এ অঞ্চলের নৌপথে সংঘাতসহ পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে ইরান জানায়, তারা হরমুজ প্রণালীতে দুটি কার্গো জাহাজ ‘পরিদর্শনের’ জন্য আটক করেছে।

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালাতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনা নিহত : দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চলাকালে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। গত রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে নিহত ইসরায়েলি সেনার নাম সার্জেন্ট ইদান ফুকস। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। বাকি দুজনের আঘাত গুরুতর নয়। আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট ইদান ফুকস ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৭ম ব্রিগেডের ৭৭তম ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। তিনি দক্ষিণ লেবাননে নিহত হন। ঘটনার সময় একজন সেনা কর্মকর্তা ও তিনজন সেনা গুরুতরভাবে আহত হন। আর দুই সেনার আঘাত হালকা। আহত সেনাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানায় আইডিএফ। বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘যুদ্ধবিরতি’ সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এতে হাজারো মানুষ আবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। লেবাননে রোববারের এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত