ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না

বললেন জামায়াত আমির
আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না

বাজার পরিস্থিতি আগের চেয়ে বেশি অস্থির বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই বাজার অস্থির, ইদানিং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির।’ গতকাল মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১ নম্বরে সেকশনে শাহ আলী কাঁচা বাজার পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই যে একটা বিশাল আড়ত-মার্কেট আছে, এখানে যে দোকানগুলো আছে, স্বস্তিদায়কভাবে যারা ব্যবসা করে তারা পায় না। এখানেও দখলদারিত্ব আছে। এখানেও নীরব চাঁদাবাজি আছে। কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কথা বলতে চায় না। সবার মুখ চেপে রাখা হয়েছে। কারা করে এই চাঁদাবাজি? আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ করে না। এখানেই আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, ওঠাণ্ডবসা করে বসবাস করে, এই লোকেরা এগুলো করে। তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সংসদের শেষ দিবসে আপনারা শুনেছেন, আমি পরিষ্কার বলেছি যে, সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস পাবে না। কিন্তু এরাই যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব। আমরা চাই চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।’ ‘মানুষের নাভিশ্বাস, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ যারা, তাদের অবস্থা এখন বেঁচে থাকাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে,’ যোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

পরিস্থিতি বুঝতে বিরোধীদল খুচরা বাজার ও মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে যাবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, জায়গায় জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে এখানে যারা ব্যবসায়ী আছে তারাও কিন্তু ভালো ব্যবসা করতে পারে না। আমরা ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পণ্যগুলো পাই না। কৃষক তার উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্যমূল্য পায় না। মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই।’

‘কোনো দিন ভাঙতে পারব আল্লাহ ভালো জানেন, কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই চলবে। আমরা থামব না। আমাদের আওয়াজ, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের দাবি সংসদের ভেতরে ও বাইরে- সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে। এই দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারবো। একা কেউ পারবে না। একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার,’ যোগ করেন তিনি। এ সময় জামায়াত আমিরের আহ্বানে একজন ব্যবসায়ী তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। বলেন, সরকার ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে দোকান বরাদ্দ দিয়েছে। যারা বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মাসিক চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষকে ভাড়া দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়া প্রতি বর্গফুটে ১৩ টাকা। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘আমরা চাই চাঁদাবাজি বন্ধ হোক।’ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিরোধীদলের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে জামায়াত আমির গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমরা সংগ্রাম করব। এগুলো নিয়ে মাঠে নামব, আওয়াজ তুলব, জনগণকে সংগঠিত করব এবং একটা সময়ের ব্যবধানে এই যন্ত্রণা থেকে আমরা জনগণকে মুক্ত করব।’

বাজার পরিদর্শনকালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত