ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ৪৩৯, আক্রান্ত ৫৪ হাজার

হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ৪৩৯, আক্রান্ত ৫৪ হাজার

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে আরও সাত শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ছয় শিশুর। এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৬৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় চার, চট্টগ্রামে এক ও ময়মনসিংহে এক শিশু মারা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৬৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৭০ শিশু। মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫৪ হাজার ৪১৯ শিশুর। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৯ হাজার ১৬০ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩৪ হাজার ৯৬৮ শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৭ হাজার ৩০৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি। আক্রান্ত ও মৃতদের বেশিরভাগই শিশু হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হয়েছিল মাত্র ১৩২ জন। তবে চলতি বছরের শুরুতেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যখন হাম নির্মূলের পথে এগোচ্ছিল, তখন টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে হঠাৎ বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, ‘আক্রান্তের সংখ্যা যখন ৫৪ হাজার ছাড়িয়েছে, তখন এটিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা উচিত ছিল। এমন ঘোষণা না থাকায় সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।’

ভাইরোলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবা জামিল বলেন, চলতি বছরে অস্বাভাবিক হারে সংক্রমণ বেড়েছে। তবে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমতে শুরু করতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে ৫৪ হাজারের বেশি হাম আক্রান্তের ঘটনা রিপোর্ট করা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন পঞ্চম। এর আগে ভারত, ইউক্রেন, মাদাগাস্কার ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে এমন বড় প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় টিকা দেওয়া শুরু হয়। ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেওয়া শুরু হয়। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশের শহরে ও নগরে টিকা দেওয়া শুরু হয়। চলবে ২০ মে পর্যন্ত। টিকা ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৬ হাজার ৯১৪ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত