
উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় চার মার্কিন সেনা এবং তিনজন বেসামরিক ঠিকাদারসহ মোট সাতজন আহত হয়েছেন। ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে তারা এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি জানান, বন্দর আব্বাসে মার্কিন হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় ভোর ৪:৫০ মিনিটে এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। অবশ্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও দাবি করেছে যে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে আরেকটি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স সেই মার্কিন ঘাঁটিটি লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে সিরিক দ্বীপে অভিযান চালানো হয়েছিল।
তেহরান স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার এবং এর জন্য ওয়াশিংটনই দায়ী থাকবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইল যৌথ জোটের সাথে ইরানের যে সংঘাত শুরু হয়েছিল এবং যার প্রেক্ষিতে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল, মূলত সেই ধারাবাহিকতারই নতুন রূপ এই সাম্প্রতিক হামলা। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এদিকে, এই নতুন উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির বিষয়ে বেশ আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আসলে আমেরিকার সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান সত্যিই চুক্তি করতে চায়, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক সহযোগী দেশগুলোর জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে। একই সাথে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থান নেওয়া মার্কিন বিরোধী দল ও নিজের শিবিরের সমালোচকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে একে ‘অনর্থক কিচিরমিচির’ বলে আখ্যা দেন।
ট্রাম্প সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি যেভাবে চলছে তা দেখতে থাকুন, শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতিটিকে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক চুক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে।
ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কুয়েত : উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কুয়েতের ওপর ইরানের বারবার চালানো হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (১ জুন) ভোরে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েতের একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল কুয়েত। ইরান দাবি করেছে, দেশটির সিরিক দ্বীপে হামলার জন্য ওই ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের এই হামলাগুলো একটি বিপজ্জনক উস্কানি এবং কুয়েত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি আঘাত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম, জাতিসংঘ সনদ এবং ২০২৬ সালের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবের চরম লঙ্ঘন। পাশাপাশি এটি দেশের বেসামরিক নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষার জন্য একটি মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কুয়েত যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তারা উল্লেখ করেছে, নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার কুয়েতের রয়েছে। একই সঙ্গে এই আগ্রাসনের জন্য ইরানকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করা হয়েছে।
ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা : যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা গত সপ্তাহান্তে ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে দেশটির রাডারসহ ড্রোন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম এ তথ্য জানায়। সেন্টকম বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়াসহ ইরানের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, একটি স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও একমুখী হামলার জন্য ব্যবহৃত দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এগুলো আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’ ছিল। এর আগে গতকাল রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ–১ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুতামূলক অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে মার্কিন ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। ড্রোনটিকে দ্রুত শনাক্ত করা হয়। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়।
হরমুজের ওপর ‘সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের’ অধিকার শুধু ইরান এবং ওমানেরই আছে : ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের’ অধিকার শুধু ইরান এবং ওমানেরই রয়েছে। ইরানের আইআরআইবি সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত এক মন্তব্যে গরিবাবাদি বলেন, ইরান এই জলপথে যানবাহন চলাচল ও নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন প্রক্রিয়া চালু করেছে। তবে এই ব্যবস্থা ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রণালির বিষয়ে ওমান যদি অন্য সবার মতো আচরণ না করে, তবে ট্রাম্প দেশটিকে ?‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার পর ইরান ওমানকে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কাছে ‘নতি স্বীকার না করার’ আহ্বান জানিয়েছে।
তেহরান দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেই যাচ্ছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দক্ষিণের একটি বন্দরে মার্কিন হামলার পর সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজ সকালেও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি অঙ্গীকার করেছেন যে, ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান : যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেই যাচ্ছে বলে দাবি করেছে তেহরান। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দক্ষিণের একটি বন্দরে মার্কিন হামলার পর সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে। খবর এএফপির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজ সকালেও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি অঙ্গীকার করেছেন যে, ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর আগে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং ইরানি জনগণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না। তার এ বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে আরও কঠোর শর্তযুক্ত একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খসড়া চুক্তিতে নতুন পরিবর্তন এলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালুর বিষয়ে সমঝোতা আরও বিলম্বিত হতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর আগে থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান : কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নেবে না- এই শর্তে রাজি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি পৃথক চুক্তির কাজ চলছে এবং তা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতি এবং সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প, পৌর স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত খাতে ব্যয় করা হবে ক্ষতিপূরণের এই অর্থ। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণ চুক্তির খসড়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ নামের একটি তহবিলের উল্লেখ রয়েছে। সেই তহবিলে জমা থাকবে ক্ষতিপূরণের এই ৩০ হাজার কোটি ডলার। এ অর্থের যোগান আসবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’দশক ধরে টানাপোড়েন চলছে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে। ইরান অবশ্য বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত দু’দশকে একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানের অর্থনীতিকে কার্যত বিধ্বস্ত করার পর ২০২৫ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি প্রথমবারের মতো দেশটিতে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেবার ১২ দিন ধরে চলেছিল সংঘাত। একই ইস্যুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের ইরানে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী এবং টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এখনও সেই বিরতি চলছে।
সম্প্রতি ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং একটি চূড়ান্ত শান্তি ও সমঝোতা চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা নিয়ে আলোচনা চলছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। যদি এ ইস্যুটি চূড়ান্ত হয়, তাহলে বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদকালে দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরানের অবরোধের কারণে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটছে। তাছাড়া ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের যে মজুত রয়েছে, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়। কারণ বিশুদ্ধতার মান যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে অনায়াসে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মকর্তারা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, যদি ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়, হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে রাজি হয়- শুধু তখনই ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরু হবে।