
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। সদ্যবিদায়ী মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে প্রায় ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪১ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা।
গত রোববার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ২৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সবশেষ ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ২৪ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৪৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স।
এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা, ব্যাংকিং খাতে আস্থা বৃদ্ধি এবং ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রবণতার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। আর মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।
এ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, তখন প্রবাসী আয় ছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে আসে ৩১৭ কোটি ডলার, যা চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।