
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাহশহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালায় ইসরায়েল। একে ‘মার্কিন-ইসরায়েলি’ হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে আইআরজিসি। তারা বলেছে, এর বদলা হিসেবে তারা ইসরায়েলের হাইফায় অনুরূপ একটি কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, এ অঞ্চলে বেসামরিক ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আরও হামলা হলে তার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর পড়বে। এর দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।
ইসরায়েলে হামলার কারণ জানাল আইআরজিসি : ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, ইসরায়েলে চালানো এই হামলা আরও ব্যাপক জবাবের একটি সতর্কবার্তা। যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ইসরায়েল ও এই অঞ্চলে তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক জবাব দেবে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের উপশহরগুলোতে হামলা বন্ধ করতে হবে। ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করে জায়নবাদী আগ্রাসী শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) অপরাধী যুক্তরাষ্ট্রের সবুজসংকেত-সমর্থনে লেবাননের নিপীড়িত জনগণের ওপর দিন দিন নৃশংসতা বাড়িয়ে চলছে। জায়নবাদী সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপশহরগুলোতে হামলা বন্ধ করতে হবে। তারা যদি ওই অঞ্চলে হামলা আরও বিস্তৃত করে বা ইরানের পদক্ষেপের জবাব দেয়, তাহলে তাদের আরও কঠোর ও অনুশোচনীয় আঘাতের মুখোমুখি হতে হবে। তখন ওই শাসনব্যবস্থা ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক হামলা শুরু হবে।
সৌদির বিমানঘাঁটিতে ‘বিস্ফোরণ’, জড়িত নয় দাবি ইরানের : সৌদি আরবের আল-খারজ বিমানঘাঁটিতে ‘বিস্ফোরণের’ শব্দ শোনো গেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। ইরানের সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দেশটির একজন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে। নাম প্রকাশ না করা ইরানি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইরান আল-খারজ বিমানঘাঁটি নিশানা করে কোনো হামলা চালায়নি। এর আগে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ দেশটির আল-খারজ গভর্নরেটে সতর্কতা জারি করে। আল-খারজ বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশের পর ইরানের পক্ষ থেকে হামলার কথা অস্বীকার করা হলো।
ইরানের মাহশহরে পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা : ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাহশহরে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ বলেছে, এই হামলায় কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশে আঘাত হানা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেছে আইডিএফ। এর আগে ইরানের গণমাধ্যমগুলো দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এই হামলার খবর প্রকাশ করে। ইরানি গণমাধ্যম আরও জানায়, ক্ষয়ক্ষতি ও সম্ভাব্য হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
ইসরায়েল ও ইরানকে ‘গোলাগুলি’ বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের : ইসরায়েল ও ইরানের মাঝে নতুন করে শুরু হওয়া হামলা-পাল্টা হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালে এক লাইনের পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ?ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে ?‘গোলাগুলি’ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া দেশটির সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছালে ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম ধ্বংসে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের মাঝে চলা তিন মাসব্যাপী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তিনি যদি তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তাহলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার ও ধ্বংস করতে ইরানকে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। আর যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনীকে এমনভাবে দুর্বল করে দেবেন তিনি; তখন মার্কিন বাহিনী নিজেরাই নিরাপদে সেই উপাদান সংগ্রহ করতে পারবে। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যদি এমন একটি চুক্তি করি, যার মাধ্যমে আমরা বন্ধুভাবাপন্ন হবো, তখন আমরা সবাই একসঙ্গে যাব। সেখানে আমাদের সরঞ্জাম থাকবে। আমরা সেগুলো বের করে এনে ধ্বংস করব, তা ঘটনাস্থলে হোক বা অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে হোক।
ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে নিয়ে যাব, অথবা তাদের ছাড়াই যাব। তবে আমাদের ওপর কেউ গুলি চালাবে না, ঠিক আছে? তিনি বলেন, এখন আমরা যদি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারি, তাহলে আমরা সামরিকভাবে অত্যন্ত কঠোরভাবে তাদের গুঁড়িয়ে দেব। আর তা করার আগে আমরা অপেক্ষা করব; যার ফলে যেভাবেই হোক আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নাজুক এক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর এই প্রথম ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে রোববার রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। লেবাননে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলার প্রতিশোধে ইসরায়েলে নতুন করে ওই হামলা শুরু করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানি হামলার জবাবে ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। চিরবৈরী দুই শত্রুপক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
তেহরানের শহর এলাকায় হামলা হয়নি, দাবি ইরানি গণমাধ্যমের : ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলা হচ্ছে রাজধানী তেহরানেও। তবে তেহরানের শহর এলাকার কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তেহরানের ফায়ার সার্ভিসের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আজ সোমবার ভোরে রাজধানীর পশ্চিমাংশে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তেহরান ছাড়াও ইরানের তাবরিজ, ইস্পাহান ও কারাজের কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
তেহরান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে ইরান : ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে ইরানি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান ও তার মিত্ররা। এবার ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনবরত বাজছে যুদ্ধকালীন সতর্কতা সাইরেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইয়েমেনের দিক থেকেও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, জেরুজালেম এবং গুশ দানসহ মধ্য ইসরায়েলের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হচ্ছে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি ‘সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু’ নিশানা করে হামলা চালানোর কথা জানাল হুতিরা : ইসরায়েলে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুতি গোষ্ঠী। তারা বলেছে, অধিকৃত জাফা অঞ্চলে ইসরায়েলি শত্রুর সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছিল, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করেছে। এই হুমকি প্রতিহত করতে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কাজ করছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ ও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তারা উত্তেজনার জবাব উত্তেজনা দিয়েই দেবে। হুতি গোষ্ঠী বলেছে, ‘ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকে আমাদের জনগণ এবং জিহাদ ও প্রতিরোধ অক্ষের জনগণের ওপর আরোপিত অন্যায্য অবরোধের মুখে আমরা নীরব থাকব না।’
তেহরানের আকাশে ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর’ ড্রোন, ধ্বংসের দাবি ইরানের : ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর’ একটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তু করে তা ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ইরানের মেহর বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরানের আকাশে ড্রোনটি উড়ছিল। তখন সেটিকে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভূপাতিত করে। এর আগে ইরানের রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া দেশটির ইস্পাহান শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা ‘কয়েক দিন চলতে পারে’ : ইসরায়েলি সেনা রেডিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ইসরায়েলি সেনা রেডিওর সাংবাদিক ডোরন কাদোশের তথ্যমতে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘বৃহৎ পরিসরে রিজার্ভ সেনা সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একাধিক রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন ডাকা হতে পারে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে কাদোশ আরও জানান, ইসরায়েল সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করবে। বিশেষ করে অধিকৃত পশ্চিম তীর-জর্ডান সীমান্তে। ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ডও আজ সকালে বড় পরিসরে রিজার্ভ সেনা সক্রিয় করা শুরু করেছে।