ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি

প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি
রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। গতকাল সোমবার সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেশের কোটি কোটি ভোক্তা এবং প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের স্বার্থে এই আবেদন।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের খুচরা ব্যবসা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য দোকান, মার্কেট ও শপিংমলকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সময়ে ব্যবসায়িক ব্যয়, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সংকটের মধ্যে রয়েছেন। সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখার বর্তমান সিদ্ধান্ত দেশের খুচরা ব্যবসার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অনেক ক্রেতা কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের বেলায় কেনাকাটা করতে পারেন না এবং বিকেল বা সন্ধ্যার পর বাজারে আসেন। ফলে দোকান ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রত্যাশিত বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হন। এতে ব্যবসার পরিমাণ কমে যায়, কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষা করা এবং সাধারণ জনগণের কেনাকাটার সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি যে, সরকারের বিবেচনায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতিদিন দুপুর ১২টা বা সরকারের উপযুক্ত মনে হওয়া যেকোনো সময় থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের সকল দোকান, শপিং মল, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমোদন প্রদান করা হোক।

চিঠিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর জীবিকা সুরক্ষিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে; সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে; সাধারণ জনগণ সুবিধাজনক সময়ে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন; দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, অন্যথায় বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়ে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন, যার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়বে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান আবারও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত ১ জুন বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা এবং সব বিলবোর্ডের বাতি আবশ্যিকভাবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ও অনুষ্ঠেয় মেলা, বাণিজ্যমেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেই সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুন থেকে আবারও আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ফলে রাত ১০টার পরিবর্তে সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতি, দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্যমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত