
জামালপুর-কুড়িগ্রাম সীমান্তে এক রাতে শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে তাদের এ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন বিজিবি ও স্থানীয়রা। গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে জামালপুর ব্যাটালিয়ন ৩৫ বিজিবির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাত ১২টা থেকে দাঁতভাঙা বিওপির ১০৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা, মুল্লারচর সীমান্ত পিলার ১০৬২-এর পাশে কুচুনিমারা, ইজলামারি বিওপির ১০৬৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে মানকারচর, খেয়ারচর বিওপির ১০৬৯ নম্বর পিলারের বিপরীতে সদরটিলা, পাথরেরচর বিওপির ১০৭৫ নম্বর পিলারের বিপরীতে লুকায়েরচর, বাঘারচর বিওপির ১০৭৩ নম্বর পিলারের বিপরীতে বালুরঘাট, ঝাউডাঙা বিওপির ১০৭৮ নম্বর পিলারের বিপরীতে দর্গাপাড়া এবং সাতানীপাড়া বিওপির ১০৮৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে বিলডুবা এলাকায় শতাধিক মানুষকে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও অনেক সজাগ। যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।’
পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার : ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুশইন নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ শঙ্কায় সীমান্তজুড়ে বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ সতর্কতাবস্থা গ্রহণ করেছ, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি ও টহল। উপজেলার বালাপাড়া, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কয়েক দিন ধরে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চলছে। বালাপাড়া, ঠাকুরগঞ্জ, কালীগঞ্জ, থানারহাট, বার্নিরঘাট ও চরখড়িবাড়ী সীমান্ত ফাঁড়িতে বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে রাতভর পাহারার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে সম্ভাব্য ‘পুশইন-এর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডিমলার সীমান্তসংলগ্ন জনপদেও উদ্বেগ দেখা দেয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি দেখলে দ্রুত প্রশাসন বা বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাত জেগে পাহারা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান জানান, বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বালাপাড়া বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের দায়িত্বাধীন সীমান্তে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান বলেন, বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। এখনও কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।