
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ও ডেথ রেফারেন্সসহ (মৃত্যু পরোয়ানা) ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এই আদেশ দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত। মাত্র চার কর্মদিবসে বিচারকাজ শেষে গত রোববার এই মামলার রায় দেওয়া হয়।
ডেথ রেফারেন্স পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ। তিনি বলেন, আজকে মামলাটির ৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় এবং ৩ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট আদালতের অফিস সহায়ক শহিদুল ইসলামকে লাল কাপড়ে মোড়ানো ডেথ রেফারেন্সটি পুলিশি নিরাপত্তায় বহন করে উচ্চ আদালতে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
গত রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান অভিযুক্ত আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল রানা ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর সেদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। গত ২০ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। ১ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে ৭ জুন রায় ঘোষণা করেন আদালত।