ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শাহজালালের মাজারে প্রশাসনের দানবাক্স ভক্তদের ক্ষোভ

শাহজালালের মাজারে প্রশাসনের দানবাক্স ভক্তদের ক্ষোভ

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সিলগালা করা হয়েছে মাজারের দানের পুরোনো তিনটি ডেগ। গত বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে মাজার প্রাঙ্গণে একটি প্রধান দানবাক্সসহ বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকটি ছোট বাক্স বসানো হয়। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আবদুল বাছিত মোল্লা বলেন, ‘মাজারের দান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সকল দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা এই বাক্সগুলোতে জমা হবে।’

মাজারে দানবাক্স হিসাবে আগে থেকে ব্যবহৃত তিনটি ডেগেও দান করতে পারবেন ভক্তরা। তবে সেগুলোতে জমা হওয়া দানও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি এসব দানবাক্সের নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সিলেটের দুই ঐতিহাসিক স্থান শাহজালাল ও শাহপরাণের মাজারে প্রতিনিদনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশুসহ নানা মূল্যবানসামগ্রী দান করেন। কিন্তু সেই বিপুল দানের অর্থ কোথায় যায়, কীভাবে ব্যয় হয় তার সুষ্ঠু কোনো হিসাব কখনো রাখা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

১২ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম শাহজালাল ও শাহপরাণ মাজার পরিদর্শন করেন। সে সময় মাজারের দানবাক্সে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন তিনি। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অস্বচ্ছতার চিত্র সামনে আসে। পরে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে আলাদা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাব চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার প্রশাসনের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলো। এদিকে মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালার পর রাতে একদল ভক্ত দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা ‘লালে লাল-বাবা শাহজালাল’ স্লোগান দেন ও প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অনুসারী বলেন, প্রায় ৭০০ বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, সে ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতেই এই কাজ করা হচ্ছে।

দরগাহের খাদিম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, ‘এটা খুবই অন্যায় হচ্ছে। এটা মাজার ও অলি-আউলিয়া বিরোধী কর্মকাণ্ড। দানের টাকা কেবল খাদেমরা নেন না, মসজিদসহ মাজারের উন্নয়নেও ব্যয় করেন। হিসাব চাইতেই পারেন কেউ। কিন্তু জোর-জবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা চলছে, সেটা ঠিক নয়।’

এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী ১ মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। এ সময়ের মধ্যে দানের উৎস, ব্যয়ের খাত ও সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার চিত্র পর্যালোচনা করা হবে।’ ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ ও নিয়মিত অডিটের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত