ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জীবননগরে আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

জীবননগরে আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা আইসিটি অফিসার (সহকারী প্রোগ্রামার) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে জীবননগর পৌরশহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপোতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি জীবননগর উপজেলা আইসিটি অফিসার (সহকারী প্রোগ্রামার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাহমুদুর রহমান স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে জীবননগর পৌরশহরের আশতলা পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

শুক্রবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাসার বাইরে চলে যান। পরে মাহমুদুর রহমান নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতি বাসায় ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক চেষ্টা করেও দরজা খুলতে না পেরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মাহমুদুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে জীবননগর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাহমুদুর রহমান উপজেলার অন্যতম ভালো ও হাস্যোজ্জ্বল কর্মকর্তা ছিলেন। তবে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতি ও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীরের মাঝে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। সম্প্রতি মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন নাসরিন আক্তারের পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টির মীমাংসা হওয়ায় তারা আবার একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতি জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া হলেও তা পরে মিটে যেত। ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ হয়নি। সকালে মাহমুদুর রহমান ঘুম থেকে উঠে ছেলের জন্য জুস কিনতে বাইরে যান। পরে বাসায় ফিরে একটি কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় তিনি ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

নিহতের বাবা আতাউর রহমান জানান, তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মনোমালিন্য হতো। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং খোঁজখবর নেন। এরপর হঠাৎ করেই ফোন কেটে দেন। পরে তারা মুঠোফোনে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

তদন্তে পুলিশ,মরদেহ উদ্ধার,আইসিটি কর্মকর্তা,জীবননগর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত