
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আগের বক্তব্য উদ্ধৃত করায়. সংসদে পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতের ইসলামির আমির। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাজেট ঘাটতি পূরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘দৃঢ়তা’ ও ‘দক্ষতার’ কথা বলেন। এ সময় শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেন এমপি মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘কারণ আমাদের এই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা তিনি একটি কথা বলেছিলেন, তা হলো তিনি বলেছিলেন এই আন্দোলনের সম্পর্কে আমাদের সঙ্গে, আন্দোলনের প্রধান নায়ক আমি তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি জনাব তারেক রহমান আজকে সংযুক্ত হয়েছেন তিনি দূরে থেকেও জাতিকে আমি বলব অত্যন্ত বুদ্ধিভিত্তিকভাবে এবং সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি নেতৃত্ব দিয়ে গণঅভ্যুত্থান থেকে সফল করে আজকে আমরা এই জায়গায় এসেছি ইনশাআল্লাহ। এটা তার মুখের কথা।’ এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে মিল্লাতের উদ্ধৃতি নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ জনাব রশিদ জামান মিল্লাত সাহেবকে, উনি আমার একটা বক্তব্যের উদৃত্তি দিয়েছে, হ্যাঁ আমিও বক্তব্য রেখেছি কিন্তু সময়টা আপনি সঠিকভাবে বলেননি এই সময়টা ছিল চব্বিশের এপ্রিল মাস আর পরিবর্তনটা হয়েছে চব্বিশের অগাস্টের পাঁচ তারিখ। অগাস্টের পাঁচ তারিখের পরে আমার এই বক্তব্য।’
গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব এককভাবে কাউকে দেওয়ার কথা বিরোধিতা করে শফিকুর বলেন, ‘ওই সময় যাদের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে আমার মনে হয় আমরা সবাই অন্তর থেকে তাদেরকে সম্মান করি ভালোবাসি। তাদের এই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে।’ মুহাম্মদ ইউনূসের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এমনকি ডক্টর ইউনুস আমেরিকায় গিয়ে একজনকে তিনি মাস্টারমাইন্ড বলেছিলেন। আমি সেই ব্যক্তি প্রথমে প্রতিবাদ করে বলেছি এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের যুব সমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। আর মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।’ জামালপুর-১ আসনের এই এমপি বলেন, ‘এই ঘাটতি পূরণে আমার বিশ্বাস তার যে দৃঢ়তা, তার যে দক্ষতা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এই ঘাটতি পূরণেও আর কোনো অসুবিধা হবে না। কিভাবে পূরণ করবেন তিনি জানেন।’ প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই’।
‘এই ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটির যে বাজেট, এই বাজেট এটা তো ইনশাআল্লাহ সম্পূর্ণ পূরণ হবে। এটা হল জিওবির টাকার একটা বাজেট। সরকারের টাকা। এই টাকা এটা আয় ব্যয়ের সঙ্গে একটা হিসাব করে করা হয়।’
সরকারি বাজেটের বাইরে পিপিপি ও জি-টু-জি মডেলেও দেশে উন্নয়ন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা শুধু নয়। এখানে আরও অনেক অনেক বেশি কাজ হবে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই এই ৯ লাখ ৩৮ কোটি টাকা নিয়ে যে অবস্থা যে বিরাট বাজেট অবশ্যই আমাদের এই সরকারের আমলে তারেক রহমানের সরকারের এটা প্রথম বাজেট।’ বাজেটকে ‘অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, জনকল্যাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বাস্তব পরিকল্পনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মুদ্র মূল্যস্ফীতি আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বাস্তবতার মধ্যেও সরকার একটি ভারসম্যপূর্ণ দায়িত্বশীল এবং জনবান্ধব বাজেট উপস্থাপন করেছেন।’ নিত্যপণ্যের দাম, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি নিজের নির্বাচনি এলাকার দাবিও সংসদে জানান। বক্তব্যে বাহাদুরাবাদ ও বালাসী ঘাটে যমুনা নদীর ওপর সেতু করার দাবি জানিয়ে মিল্লাত বলেন, ওই সেতু হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন হবে।