ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আর্জেন্টিনার তিনে তিন

মেসির বিশ্ব রেকর্ড

সতীর্থদের সুযোগ দিতে পুরো ৯০ মিনিট খেলেননি মেসি
মেসির বিশ্ব রেকর্ড

মাঠে খেলা চলছে; কিন্তু দর্শকের চোখ যেন অন্য কোথাও-একজনের দিকে, যিনি তখনও বেঞ্চে। লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলো পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো যায় না। এগুলো গল্প হয়ে থাকে। কিংবদন্তির অংশ হয়ে যায়। ডালাসে গতকাল রোববার আর্জেন্টিনার ৩-১ গোলের জয়ও এমনই একটি গল্পের ভেতর ঢুকে পড়ল- যেখানে প্রতিপক্ষ জর্ডান; কিন্তু আসল প্রতিপক্ষ ছিল সময়, ইতিহাস, আর ‘আর কত দূর?’ প্রশ্নটা। ম্যাচের শুরুতে আর্জেন্টিনা যেন নিজেদের ছায়া নিয়েই খেলছিল। ৯টি পরিবর্তন। প্রথম একাদশ অনেকটাই ‘রিজার্ভ বেঞ্চ’। তবু ছন্দের অভাব নেই। ১৯ মিনিটে জিওভান্নি লো সেলসোর বাঁ পায়ের ফ্রি-কিক, একটি বাঁক নেওয়া কবিতা। বলটা দেয়াল পেরিয়ে গোলপোস্টের কোণে ঢুকে গেল এমনভাবে, যেন আগে থেকেই ঠিক করে রাখা ছিল। তারপর লাওতারো। পেনাল্টি স্পট থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল। স্কোরলাইন ২-০। সবকিছুই যেন নিয়ম মেনে এগোচ্ছে। জর্ডান এরমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটা তাই অনেকটাই আনুষ্ঠানিক। কিন্তু ফুটবল কখনোই পুরোপুরি আনুষ্ঠানিক হয় না।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জর্ডানের পাল্টা আঘাত। মুসা আলতামারি গোল করলেন। প্রথমবারের মতো এই বিশ্বকাপে গোল খেলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। গ্যালারিতে এক মুহূর্তের জন্য শব্দ বদলে গেল। যেন কেউ গল্পের ভেতর একটু সন্দেহ ঢুকিয়ে দিল। এরপরই আসে সেই মুহূর্ত।

ঘণ্টাখানেকের মাথায় বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়ান মেসি। স্টেডিয়ামের শব্দ তখন আর শব্দ থাকে না, একটা ঢেউ হয়ে ওঠে। আপনি সেটা শুনতে পারবেন না, শুধু অনুভব করবেন। তিনি মাঠে নামলেন। ধীরে। স্বাভাবিক। যেন জানেন, সময় এখন তার।

৮০ মিনিটে ফ্রি-কিক, দূরত্ব প্রায় ২৫ মিটার। এই দৃশ্যটা আমরা আগে দেখেছি। অসংখ্যবার। তবু প্রতিবারই নতুন লাগে। যেমন পুরনো কোনো প্রিয় গান নতুন করে শুনলে ভালো লাগে।

শট নিলেন তিনি। নিচু, নিখুঁত, হিসেবি। বলটা দেয়াল ঘুরে গোলকিপার ইয়াজিদ আবুলাইলার ভুল আন্দাজকে শাস্তি দিয়ে জালে ঢুকে গেল।

এটাই সেই গোল। টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল। ফুটবলের ইতিহাসে এর আগে কেউ পারেনি। তিনি পেছনে ফেললেন ফ্রান্সের জুস্ত ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোর মতো কিংবদন্তিদের। এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এরই মধ্যে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে। গ্রুপ জয় নিশ্চিত। নকআউট সামনে। কিন্তু এই ম্যাচটা, এই ৩-১ জয়, শুধু তিন পয়েন্টের হিসাব নয়। এটা একটা বার্তা। কেপ ভার্দের জন্য, পরের প্রতিপক্ষদের জন্য, আর সবচেয়ে বড় কথা-ইতিহাসের জন্য।

কারণ ইতিহাস কখনোই শুধু ফলাফল মনে রাখে না। ইতিহাস মনে রাখে মুহূর্ত। লো সেলসোর ফ্রি–কিক ছিল নিখুঁত। মার্তিনেসের পেনাল্টি ছিল নিশ্চিত। কিন্তু মেসির গোল—এটা ছিল অনিবার্য। যেন এই গল্পে তার নামটা আগেই লেখা ছিল।

সতীর্থদের সুযোগ দিতে পুরো ৯০ মিনিট খেলেনি মেসি : তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ জর্ডানের বিপক্ষে কেন শুরু থেকে খেলেননি লিওনেল মেসি, এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনা কোচ বলেছেন, সতীর্থদের সুযোগ দিতেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেননি অধিনায়ক। বাংলাদেশ সময় গতকাল রোববার সকালে ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে জালের দেখা পেয়েছেন মেসি। গড়েছেন প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা সাত ম?্যাচে গোলের রেকর্ড।

ম?্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে উঠল মেসির শুরুর একাদশে না থাকার প্রসঙ্গ। সে সময় স্কালোনি পরিষ্কার করলেন পেছনের প্রেক্ষাপট। ‘গতকাল সে পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারত।

আর প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো অসম্মান না করেই বলছি, নিজের অর্জনের মুকুটে আরও পালক যোগ করতে পারত।’ ‘তবে সে চেয়েছে, সতীর্থরা খেলার সুযোগ পাক, আর সামনের চ্যালেঞ্জের দিকে মনোযোগ দিক। এটাই মেসি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। সবাই যে সংখ?্যাগুলোর কথা বলছে, এগুলো নিয়ে সে পড়ে থাকে না। জাতীয় দল সম্পর্কে, নিজের সতীর্থদের সম্পর্কে তার ভাবনারও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় এতে।’

দ্বিতীয়ার্ধে ৬০তম মিনিটে বদলি নামেন মেসি। ৮০তম মিনিটে দারুণ ফ্রি কিকে তিনি পান জালের দেখা। চলতি আসরে ছয় গোল করে সবার উপরে আছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসেও চূড়ায় তিনি, ১৯ গোল করে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত