ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পঞ্চদশ সংশোধনী

আপিল শুনানি ফের আজ

আপিল শুনানি ফের আজ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন রেখেছে সর্বোচ্চ আদালত। দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় পর গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে পুনরায় এ মামলার শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর রহমান হক। অন্যদিকে আপিলকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়াসহ ও মোহাম্মদ শিশির মনির প্রথম দিনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ঠিক করে দেয়। শুনানি শেষে শরীফ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান বেঞ্চের একজন বিচারপতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অবসরে যাবেন। তাই এর আগেই শুনানি শেষ করে আদালত রায় ঘোষণা করবেন বলে আমরা আশা করছি।’ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বহুল আলোচিত এই মামলার শুনানি এর আগে শুরু হয়েছিল বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন সৈয়দ রিফাত আহমেদ। শুনানির প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মামলাটির শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসাদ নির্বাচনের পরে হবে বলে মুলতবির আদেশ দেয়। শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘এই বেঞ্চ যেহেতু শুনানি শুরু করেছে, এই বেঞ্চকেই শেষ করতে হবে। জুলাই মাসের ১৩-১৪ তারিখের মধ্যে এটি শেষ করতেই হবে, কারণ এরপর একজন মাননীয় বিচারক অবসরে যাবেন। ওই বিচারক অবসরে যাওয়ার আগে রায় না হলে এই পুরো শুনানি আগেরবারের মতো বিফলে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আদালতও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তিতে উদগ্রীব।’ সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ কয়েকজনের করা রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করে হাই কোর্ট। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ২০১১ সালে সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল। এর মধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয় হাইকোর্টের রায়ে। পাশাপাশি পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ৭ (ক) অনুচ্ছেদে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। ৭ (খ) সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা ছিল এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদে বলা ছিল, ‘এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।’

হাই কোর্টের রায়ে বলা হয়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের কথা ছিল, যা পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাতিল করা হয়। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বিবেচনায় তা বাতিল ঘোষণা করা হল এবং দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হল। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। ওই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরার পথ তৈরি হয়। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন রিট মামলার বাদীপক্ষ। এ মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও আলাদাভাবে আপিল করেন। সব মিলিয়ে তিনটি আপিলের শুনানি এখন একসঙ্গে চলছে। নিজের যুক্তিতর্ক মঙ্গলবারের মধ্যেই শেষ করবেন জানিয়ে শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘আদালতের মনোভাব থেকে আমরা বুঝলাম, উনারা এটি খুব দ্রুত শেষ করতে চান। আগে একবার উনারা বিস্তারিত শুনেছেন, কাজেই অনেক কিছুই ওনাদের মনে আছে। আমরা সংক্ষেপে মনে করিয়ে দিলে ওনারা দ্রুত রায় দিতে চান।’ পঞ্চদশ সংশোধনীকে ‘সংবিধানের পুনর্লিখন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি বাতিল হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী সংশোধনী আর না হয় এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করা না যায়।’ আপিল করার কারণ ব্যাখ্যা করে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘হাইকোর্ট বিভাগ পুরোটা বাতিল করেননি। আমরা এখানে সাবমিশন করব যে এটি পুরোটা বাতিল করা উচিত। তবে পুরোটা বাতিল করলে হয়ত কিছু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, সেক্ষেত্রে আদালত সুরক্ষা দিতে পারেন। সেগুলোও আমরা বলব।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত