ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল বুধবার ভোররাত তিনটার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য তিনজন হলেন-ঢাকার শ্যামপুর থানার পরী মোল্লারবাগ, জুরাইন এলাকার জাফরের ছেলে আল ইসলাম আলিফ তমাল, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে শামিম, যিনি বর্তমানে ঢাকার মতিঝিল থানার আর.কে মিশন রোড এলাকায় বসবাস করেন এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সাহারপাড়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে সাফায়েত হোসেন, বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা যশোর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ জানা গেছে, ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে গত কয়েক বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে। ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. মুসা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি তিনি। পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাদের একজন ডেভিড ইমন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

চারদিন আগে ভারত থেকে দেশে ঢোকেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন : ভারত থেকে দেশে ঢোকেন চারদিন আগে। এরপর আবার ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে। পুলিশ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে যশোর থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী তিনি। চট্টগ্রামের অন্তত দুই বছর ধরে বেশ কটি হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নাজিমুল হক গতকাল বুধবার বিকালে বলেন, ‘সন্ত্রাসী ইমন চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢোকেন। পুলিশের অভিযানের তথ্য পেয়ে তিনি আবার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরইমধ্যে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইমন প্রায়ই আসা-যাওয়া করেন। আমাদের কাছে তথ্য আছে, তার কাছে দুটি দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয়ের বিস্তারিত জানা যাবে।’

পুলিশ সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। তার সঙ্গে সেখানে থাকতেন ইমন। এদিকে সাজ্জাদ আলীর আরেক সহযোগী মো. রায়হানকে ধরতেও গতকাল রাতে নোয়াখালীতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই বাড়ির দেয়াল টপকে রায়হান পালিয়ে যান। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোবারক হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫ টি। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন- এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অপরজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

যশোর থেকে গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নেওয়া হয় চট্টগ্রামে : চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে যশোরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার আরও তিন সহযোগী আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীমকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সড়কপথে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। পুলিশ জানায়, মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলারও আসামি ইমন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে একাধিক চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, বড় সাজ্জাদ বিদেশে পলাতক থাকায় বর্তমানে চট্টগ্রামে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে গত ১৩ জুলাই নগরীর এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটওয়ার্ক (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা চালায় ১৫ থেকে ২০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী। লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় ৩৫ লাখ টাকা। এই ঘটনায় সম্পৃক্ততায় উঠে এসেছে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ বাহিনীর নাম। এর আগে ডেভিড ইমন পরিচয়ে মোবাইল ফোনে ডিডিএনের স্বত্ত্বাধিকারীকে হুমকি ও ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

ভারতে পালাতে গিয়ে যেভাবে গ্রেপ্তার হলো ডেভিড ইমন : চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন এবং তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম যশোর নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন তথ্য ছিল যশোর পুলিশের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। বুধবার ভোরে সন্দেহ হলে কালো রঙের একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালালে ইমনকে শনাক্ত করে পুলিশ। ইমনের আলোচিত গোফ কেটে ফেলায় পুলিশের চিনতে বেগ পেতে হয়। পরে এক পর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন সেচট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা তার তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ রেকর্ড অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ডাবল মার্ডার (জোড়া খুন) এবং চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকা চাঁদা দাবির হামলাসহ অন্তত সাতটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির চক্র সচল রাখার পেছনে তার মূল ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সবশেষ চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ভবনটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ভয়ে ভবনটির কাজ করতে আসছেন না নির্মাণশ্রমিকরা।

নির্মাণাধীন ভবনটির মালিক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের ঘটনায় ভবনের মালিক বাদী হয়ে রবিবার রাতে হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতেও ইমনের নাম এসেছে। মামলার পর ৫০ লাখ টাকা চেয়েছে সন্ত্রাসীরা। তার আগে চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না পাওয়ায় তার নির্দেশে চন্দনপুরার ওই ইন্টারনেট অফিসে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এরপর নতুন করে আবার আলোচনায় আসে এই ডেভিড ইমনের নাম। ওই হামলায় তার নির্দেশে অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নেন। ডেভিড ইমন দুই বছরেই সাত খুনের আসামি। পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা। ৩০ থেকে ৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এ হামলা চালান। অথচ এর আগে গত শনিবার (১১ জুলাই) ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ডিডিএন মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়। এতে ডেভিড ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো। আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো। মুজিব থেকে গিয়ে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত