ঢাকা শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দিল্লির আচরণে ক্ষুব্ধ ঢাকা

দিল্লির আচরণে ক্ষুব্ধ ঢাকা

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গত বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, ‘পলাতক অভিযুক্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে গত (বুধবার) বিকালে নয়া দিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। যেখানে তিনি এবং অনুচররা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন। ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে এ অনুষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে আগে থেকে ভারত সরকারের কাছে উদ্বেগ জানানোর পরও তা হতে দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ জানাচ্ছে ঢাকা।’

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বুধবার বিকালে নয়া দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালিযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। অডিও কলে যুক্ত হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন। এ সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালিযুক্ত হয়ে আরও বক্তব্য দেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। সশরীরে মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এর আগে এ সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালিযুক্ত থাকার খবর সামনে আসার পর তিনি দিল্লি থেকে যাতে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

গত সোমবার ঢাকায় ভারতের ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ সহযোগিতা চান তিনি। একই দিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান ‘স্পষ্ট’ করতে আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে এমন আয়োজন, দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’

শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে এরপর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের তরফে তথ্য বিবরণীতে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে অনুরোধ করা হয়। একই দিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলেছেন। গত বুধবার দিল্লিতে এ অনুষ্ঠানের ঘণ্টা কয়েক পরে বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার বলেছে, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেদিন জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করছে, সেদিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত এবং জুলাই বিপ্লবে শহিদের প্রতি বেদনাদায়ক অবমাননা।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট ফ্যাসিস্ট শাসনগোষ্ঠী দ্বারা ক্ষুদে শিশুসহ নিরাপরাধ সাধারণ মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্যকে অস্বীকার করার মানে হচ্ছে, ইতিহাসের স্রোত পাল্টে দিতে পলাতক অভিযুক্ত গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার দাগী সহযোগীদের ব্যর্থ প্রচেষ্টা। ‘বাংলাদেশ এই ধরনের ঘৃণ্য প্রচেষ্টাকে এরইমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও প্রত্যাখ্যান করে যাবে।’

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আর রাজনীতির সুযোগ না থাকার কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখার মাধ্যমে আমাদের জনগণ সংকল্পদ্ধ হয়েছে, এই জাতি আর কখনও ফ্যাসিজমের কালো দিনে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র (ক্লায়েন্ট স্টেট) হবে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না অভিযুক্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার মাফিয়া চক্র।’

এমন আয়োজনকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ‘ক্ষতিকারক’ হিসেবে অভিহিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপহীনতা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক রাখতে চায় বাংলাদেশ।’

‘দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্ত অপরাধী হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারংবার পাঠানো অনুরোধের কোনো জবাব এখনও মেলেনি। এর বিপরীতে, কোনো এক অজুহাতে তাকে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।’

শেখ হাসিনাকে ভারতে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের ক্ষোভ : ভারতে অবস্থানরত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে গত বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। গত বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আগেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি হওয়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই কার্যক্রম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মৃতির প্রতি চরম অসম্মান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনাসহ জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা ইতিহাসকে বিকৃত করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। তবে দেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এ ধরনের অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।

সরকার বলেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের মানুষ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছে যে বাংলাদেশ আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং কোনো দেশের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার ‘মাফিয়া চক্রের’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের বারবার অনুরোধের পরও ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো অজুহাতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুস্থ বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। গত বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূইয়া এ তথ্য জানান।

দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র : দিল্লিতে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ প্রদানকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বৃহস্পতিবার ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন। যেদিন এই দেশে গণতন্ত্রের জন্য, অবাধে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগের জন্য, এ দেশের জনগণের কথা বলার জন্য, আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে যে গণজাগরণ, যে মহাবিপ্লব হয়েছে, সেই দিনই এই প্রোগ্রামটি (সংবাদ সম্মেলন) দিল্লিতে হয়েছে। যেখানে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়। অর্থাৎ মহাবিপ্লবের শহিদদের অপমান করার জন্যই এই সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনাকে কথা বলার জন্য। আমি এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছি।

রিজভী বলেন, যখন আমরা শুনি শেখ হাসিনা দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখবেন- গতকাল রেখেছেন অডিও বক্তব্য- গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়া তাদের প্রোগ্রামে বক্তব্য রেখেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এটি ভারতের নীতিনির্ধারকদের অ্যারেঞ্জমেন্টেই এই কাজটা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পলাতক একজন আসামি উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং নানা খুনের মামলা, দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন। আমাদের ২০১৩ সালের বন্দী প্রত্যর্পণ যে চুক্তি বা এক্সট্রাডিশন চুক্তি দুই দেশের মধ্যে হয়েছে, তার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া যায়। এজন্য সরকার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যাবাসনের জন্য, তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন, সে আইন এবং দুই দেশ তাতে সই করেছে। অথচ তারপরও তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ক্ষোভের সুরে বলেন, এই অপমান। পার্শ্ববর্তী দেশ, আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলি, আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরস্পরের অবস্থান করব। সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো এবং তার পুত্রসহ, তার পুত্রের সহযোগিতায়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায় করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি যে আমাদের মিউচুয়াল ট্রাস্ট, মিউচুয়াল রেসপেক্ট- এটা সম্পূর্ণরূপে একটি হস্তক্ষেপ। আমাদের যে ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স, সেই ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্সেও এটা এক ধরনের হস্তক্ষেপ, ইন্টারফারেন্স বলে আমরা করি পার্শ্ববর্তী দেশের। অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনা দিল্লিতে- এই সংবাদ যখন আমরা পেলাম, বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে- সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অবহিত করেছে ভারতের সরকারকে। কিন্তু সেটিতে সাড়া না দিয়ে ভারত সরকার ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনার পতনের দিন, পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিয়েছে।

তিনি বলেন, যে গণবিপ্লবে দেড় হাজারেরও বেশি তরুণ-কিশোর শিক্ষার্থীর জীবন চলে গেল, তাদের রক্ত ঝরল রাজপথে বাংলাদেশে, এক ভয়ংকর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে পালাতে বাধ্য হলো শেখ হাসিনা। এক ভয়ংকর রক্তপিপাসু স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা- পার্শ্ববর্তী একটি দেশ, যেটি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ বলে তারা নিজেরা দাবি করে, সেই দেশেই তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ওই দিন, যেদিন তার পতনের দিন, যেদিন ভয়ংকর রক্ত ঝরানো পথ মাড়িয়ে বিপ্লব সাধিত হচ্ছে, সেই দিন তাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে- এটা ষড়যন্ত্রমূলক। ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের নিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত