ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

‘রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

‘রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

সুইডেনে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, কারিগরি সহায়তা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুইডেনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দক্ষ ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরিতে সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা ও প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সুইডেনসহ ইউরোপের বাজারে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ জোরদার এবং দক্ষ মানবসম্পদ রফতানির ক্ষেত্রে সুইডেনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। বৈঠকে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই সুইডেনের ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কৌশল’ বা ‘বাইলেটালার কোঅপারেশন স্ট্রাটেজি’ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে। তৈরি পোশাক ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইডিশ বিনিয়োগও বাড়ছে। বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী বলেও জানান তিনি।

সুইডেনে অনিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, অসাধু মানবপাচারকারীচক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং পাচারকারীদের প্রলোভন অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকটকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুইডেন রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হওয়ায় সংকটটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রাখতে দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তার পরিমাণ বাড়াতেও সুইডেনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার বিষয়ে সুইডেনের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র সমাধান। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকায় সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত