ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মব-সহিংসতা ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সরকার

বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মব-সহিংসতা ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সরকার

মব-সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধের বিচার করার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে শাস্তি দেয়া বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মব সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ এবং আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘সহিংসতা বা গণপিটুনির ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন সন্দেহভাজন এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান টহল জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া কোনো ধরনের উগ্রতা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য এলাকার মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ মব-সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফেসবুক, টুইটারসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে মব সহিংসতা প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কাউকে শাস্তি দেয়ার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই।’

সংসদে হাসনাতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : ‘এটা প্রশ্ন, না পল্টনের বক্তৃতা বুঝতে পারিনি’ : কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সম্পূরক প্রশ্ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। হাসনাত তার বক্তব্যে প্রশ্ন রাখেন নাকি রাজনৈতিক বক্তৃতা দেন- তা বুঝতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা; বুঝতে পারিনি।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত জানতে চান, ‘এই ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কিনা? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কিনা, নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন?’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা- বুঝতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কিনা, এটা একটা প্রশ্ন। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সিনেমা হল কেন নেই, সেটা আরেকটা প্রশ্ন।’

হাসনাতের বক্তব্যে উল্লেখ করা হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত হত্যা হয়েছে, জখম হয়েছে ইত্যাদি যে ডাটা দিলেন, সেই ডাটাটা কীসের ভিত্তিতে দিলেন, কী পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিলেন- সেই স্ট্যাটিস্টিক্সটা আমি জানি না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কিনা, তা দৃশ্যমান।’ বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর অপরাধীদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সামাজিকভাবে যেকোনও স্পেসিফিক ঘটনা যদি আপনারা বলতে পারেন, সে স্পেসিফিক ঘটনা আমি ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিতে পারবো।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সামাজিক চাহিদার ভিত্তিতে আলোচিত ও অনালোচিত অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সহযোগিতা করেছে।’ তবে বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের- এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রামিসা থেকে শুরু করে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এখানে কোথায় কী ব্যর্থতা আছে, বলতে হবে। আইন রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বা এই সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি- এগুলো বক্তব্যে চলে। এটা সংসদ। সংসদে তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে।’ কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার কথা বলা হলে সেটির পরিপ্রেক্ষিতে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যদি কাগজ নিয়ে বলা হয়, এতটা হত্যা হয়েছে, এতটা গুম হয়েছে- সেটা কীসের স্টেটমেন্ট, আমরা জানি না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগে সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি এবং সাধারণ আলোচনায় সরকার অপরাধের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে। কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলে সংসদে তা নিয়ে বিতর্ক করা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত