
‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চীনের জিয়াংসি প্রাদেশিক সরকার এবং জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলন’-এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ঝেং পেংউ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে তিনটি বড় সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক ফ্যান হংহুই যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পেই হংওয়েই ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ এবং সচিব মো. দাউদ মিয়া ও প্রফেসর ঝেং পেংউ বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
চীনের আধুনিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের শিক্ষা খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অবশ্যই শিল্পক্ষেত্র ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে হবে। তিনি পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক সুযোগে পরিণত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’ জিয়াংসি প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে উভয় পক্ষ শিল্প-শিক্ষা সংযোগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।