
দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের মধ্যে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সীমিত থাকায় বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজেলের ‘নীরব ঘাটতি’ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এসব কথা জানান। চিঠিতে তিনি চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিপিসির চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। একই সময়ে মোট গ্যাসের চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বড় শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এতে সারা দেশে ডিজেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সংগঠনটির দাবি, ঢাকা বিভাগে ডিজেলের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেড়েছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ না করে বিপণন কোম্পানিগুলোকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্ধারিত পরিমাণের বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হলে সংশ্লিষ্ট বিপণন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের জন্য দায়ী করা হবে- এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে চাহিদা বেশি থাকা সত্ত্বেও অনেক এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল মজুত করতে পারছে না।
বিশেষ করে ঘন শিল্পকারখানা-বেষ্টিত এলাকাগুলোর পেট্রোল পাম্পগুলো প্রতিদিন যে পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ পাচ্ছে, তা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে রেশনিং করে গ্রাহকদের জ্বালানি দিতে হচ্ছে। এতে পাম্প মালিকরা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় কম পরিমাণ ডিজেল মজুত রাখতে পারছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘প্যানিক’ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনটি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে ডিজেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, নিয়ন্ত্রিত সরবরাহের নির্দেশদাতাদেরই এর দায় নিতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসি রুমে বসে সিদ্ধান্ত নেন, মাঠের অবস্থা জানেন না। লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে।
জেনারেটর চালাতে প্রচুর ডিজেল দরকার হয়। এখন চাহিদা বাড়লে তো সাপ্লাই বাড়াতে হবে। কিন্তু সেটি করা হচ্ছে না। সরবরাহ আগের মতোই আছে। তিনি বলেন, পাম্প থেকে গাড়ি গেলে সাড়ে ৪ হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে আগামীকাল আবার আসেন।
গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া এলাকায় ডিজেলের চাহিদা বেশি। আগে যেখানে এসব পাম্পে দৈনিক ৪-৫ হাজার লিটার চাহিদা ছিল, সেখানে এখন ২০ হাজার লিটার চাহিদা হয়ে গেছে।
বিপিসি চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়েছি। গতকাল শুক্রবার বিধায় হোয়াটসঅ্যাপে চিঠি পাঠিয়েছি। অফিস খুললে সরাসরি চিঠি দেব, যোগ করেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক।
গ্যাস সংকটে বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি : সকাল ৮টা বাজলেই উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে জেসমিন আলমের বাসায় দিনের রান্না শুরু করেন গৃহকর্মী। কিন্তু গ্যাসের চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করেও কোনো কোনো দিন সম্ভব হয় না। দিনের বেশিরভাগ সময় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে চুলা জ্বালানো কঠিন, কখনও আবার গ্যাস থাকেই না। পরিবারের রান্না চালিয়ে নিতে তাই বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকেছেন জেসমিন। গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করে একটি ইনফ্রারেড কুকার কিনেছেন তিনি। সঙ্গে কিনেছেন রাইস কুকারও। অথচ গ্যাস সংকটের আগে এসব যন্ত্র তার রান্নাঘরে খুব একটা প্রয়োজনই হতো না।
জেসমিনের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অনেক পরিবারকেই এখন একই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দিনের বেলা দীর্ঘ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় পাইপলাইনের গ্যাসে অভ্যস্ত পরিবারগুলোকে রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। আর তাতে বাড়ছে বাড়তি খরচও।
গত ২২ জুলাই দেশের ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘেœর পর এই সংকট শুরু হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) এলএনজি সরবরাহ কমে যায়, যা মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ। এর প্রভাব পড়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায়। দিনের বেলায় বহু বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কমে যায়। চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েক সপ্তাহের এই সংকটে বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের বাজারে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাহিদা।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, দেশে বৈদ্যুতিক কুকারের বার্ষিক বাজার ২০০ কোটি টাকারও কম। তবে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটে বিশেষ করে ইনফ্রারেড ও রাইস কুকারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বছরের একই সময়ের তুলনায় ইনফ্রারেড কুকারের চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আর রাইস কুকারের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ। ‘মানুষ গ্যাসের চুলা থেকে বৈদ্যুতিক কুকারের দিকে যেতে শুরু করেছে,’ বলেন তিনি।
ইনফ্রারেড কুকারের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো এতে বাসায় থাকা সাধারণ হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে ইনডাকশন কুকারের জন্য বিশেষ ধরনের হাঁড়ি ও প্যান প্রয়োজন হয়। ফলে ইনডাকশন কুকারের চাহিদা তুলনামূলক ধীরে বেড়েছে বলে জানান মুর্শিদ।
তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় আরএফএল তাদের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়িয়েছে। কিন্তু চাহিদা তার চেয়েও দ্রুত বাড়ায় বাজারে উল্লেখযোগ্য সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আরএফএলের ঘোড়াশালের ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কারখানার উৎপাদনেও।
মুর্শিদের দাবি, সরকার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে অন্যান্য শিল্পকারখানা প্রয়োজনের তুলনায় কম গ্যাস পাচ্ছে। তবে বৈদ্যুতিক কুকারের বাজারে কেবল আরএফএল নয়, রয়েছে আরও কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান। ওয়ালটন ও কিয়ামও দেশে বৈদ্যুতিক কুকার তৈরি করে। এ ছাড়া অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান আমদানি করা কুকার বাজারজাত করে।
দেশের বাজারে ওয়ালটন, ভিশন, ভিগো, কিয়াম, গাজী, মিয়াকো ও ফিলিপসের বৈদ্যুতিক কুকার পাওয়া যায়। নোভা ও প্রেস্টিজও এ বাজারে আছে।
সাধারণত ইনফ্রারেড কুকারের দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। তবে উন্নত বা প্রিমিয়াম মডেলের দাম আরও বেশি।
ওয়ালটন হোম অ্যাপ্লায়েন্সেসের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ-আল-জুনায়েদ বলেন, গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তাদের বৈদ্যুতিক কুকারের চাহিদা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
‘চাহিদা স্পষ্টভাবেই বাড়ছে। ভোক্তারা বিকল্প খুঁজছেন। আর বৈদ্যুতিক কুকার সেই বিকল্প হিসেবে নির্ভরযোগ্য সমাধান দিচ্ছে,’ বলেন তিনি।
আবদুল্লাহ জানান, ওয়ালটনের ১২ থেকে ১৫ ধরনের ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড কুকার রয়েছে। এসব কুকারের দাম ৩ হাজার ৭৯০ থেকে ৫ হাজার ৭৯০ টাকার মধ্যে। তবে বাজারের সব প্রতিষ্ঠানের চিত্র এক নয়।
কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিয়ার রহমান হায়দার বলেন, গ্যাস সংকট তাদের বৈদ্যুতিক কুকারের বিক্রিতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি। ‘আমাদের বিক্রি কমবেশি আগের মতোই আছে,’ বলেন তিনি।
কিয়ামের ব্যবসার খুব সামান্য অংশ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামনির্ভর। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রেসার কুকার, ফ্রাই প্যান, ক্যাসেরোল, অ্যালুমিনিয়ামের পণ্য ও হটপট।
‘এসব পণ্যের বাজারই আমাদের জন্য অনেক বড়,’ বলেন হায়দার।
বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বাজারে কিয়ামের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম হওয়ায় গ্যাস সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত এ খাতে চাহিদায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখেনি।
রাজধানীতে পাম্পে গ্যাসের প্রেসার কিছুটা বেড়েছে : দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটে ভুগতে থাকা চালকরা গতকাল শুক্রবার পাম্পে গ্যাসের তুলনামূলক ভালো প্রেসার পেয়েছেন। যেখানে গেল এক মাস ধরে একটি সিএনজি অটোরিকশায় সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস ঢুকতো, সেখানে আজ ১৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস পেয়েছেন চালকরা। আর প্রাইভেটকারের চালকরা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস নিতে পেরেছেন। তবে গ্যাসের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন অব্যাহত ছিল। চালক ও সিএনজি পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে আকারভেদে সিএনজি-চালিত অটোরিকশায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস নেওয়া যায়। আর ৬০ লিটারের সিলিন্ডার থাকা প্রাইভেটকারে প্রায় ৬০০ টাকার গ্যাস এবং ৯০ লিটারের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত গ্যাস নেওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় এক মাস ধরে রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। লাইনে গ্যাসের অভাবে অনেক পাম্প গ্যাস দেওয়া বন্ধও করে দিয়েছে। আর যেসব পাম্পে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল, সেগুলোতেও প্রেসার ছিল খুবই কম। অর্থাৎ একটি সিএনজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস ঢুকতো। এর বেশি কোনোভাবেই পাওয়া যেতো না।
এই গ্যাস নিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার গ্যাসের প্রেসার কিছুটা বেড়েছে। গ্যাস নেওয়ার জন্য গাড়ির লাইন থাকলেও সিএনজি চালকরা ১০০ টাকার ওপরে গ্যাস পাচ্ছেন। আর প্রাইভেটকার চালকরাও প্রায় ৩৫০ টাকার গ্যাস পাচ্ছেন।
সিএনজি অটোরিকশাচালক সুশিল কুমার বলেন, সকালে তিনি রাজধানীর রামপুরা এলাকার হাজিপাড়া পাম্পে সিরিয়াল দিয়ে ঘণ্টাখানেক পর ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। পরে সাড়ে ১২টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়ে ২টার সময় ১৪০ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, ‘১০০ টাকার ওপরে গ্যাস পেলেও দুই থেকে তিনটা বা ছোট হলে চারটা পর্যন্ত ভাড়া মারা যায়। কিন্তু ১০০-এর নিচে হলে দুইটা ভাড়া মারার পর আবার গ্যাস নিতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ যেভাবে পেলাম, এটি পেলেও মন্দের ভালো। কিন্তু আমাদের যা অবস্থা যাচ্ছে, ছেলে-মেয়ে নিয়ে টিকাই দায় হয়ে যাচ্ছে।’
আরেক সিএনজি অটোরিকশাচালক মুসা বলেন, ভোরে ডেমরায় লাইনে দাঁড়িয়ে দেড় ঘণ্টা পর গ্যাস পান। এরপর সেখান থেকে ৬টার দিকে ভাড়া নিয়ে উত্তরায় যান। এরপর বনানী ও ধানমন্ডি ট্রিপ মারার পর ১২টার কিছু পর আবার গ্যাস নিতে মগবাজার যান। সেখানে ১৫০ টাকার গ্যাস পান। এরপর আবার শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘তিন ভাড়াতে ১২শ’ টাকা আয় হয়েছে। এরপর মধ্যে খরচও হয়েছে ৪০০ টাকার মতো। বিকেল ও রাত মিলে আরও ১ হাজার ১২০০-এর মতো হলেই চলবে।’
মুসা বলেন, ‘আজ যেভাবে গ্যাস পেলাম, তাতে করে এভাবে পেলেও হতো। কিন্তু কাল কী হবে, এটা বলা যাচ্ছে না।’
প্রাইভেটকার চালক ইউনূস বলেন, ‘গ্যাসের প্রেসার আজ ভালোই পেলাম। আগে ১২০-এর ওপর তো উঠেই না। আর আজ ৩৫০ টাকার গ্যাস উঠেছে। তারপরও ভালো।’
তিনি জানান, তার গাড়িতে ৬০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যায়। সেখানে আজ ৩৫০ টাকার নিতে পেরেছেন। তার ভাষ্য, ‘এটাও খারাপ না। এভাবে থাকলেও তারা কিছু ভাড়া মারতে পারবো। কিন্তু ১২০ টাকার গ্যাস নিয়ে নারায়ণগঞ্জ গেলে আর ফিরে আসা যাবে না। এ ভয়ে তারা বাইরে গাড়ি নিয়ে যেতেও ভয় পাই।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড্ডা, উত্তরা, খিলক্ষেত, মিরপুরসহ বেশ কিছু স্থানে গ্যাসের প্রেসার ভালো পাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
বাড্ডার ‘জামান সিএনজি’ পাম্পের কর্মী জামিল বলেন, ‘আজ শুক্রবার প্রেসার আগের চেয়ে কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে। কিন্তু কাল কী হবে বলতে পারছি না।’
হাজিপাড়ার একটি সিএনজি পাম্পের কর্মী ইব্রাহিম বলেন, ‘গ্যাসের প্রেসার আজ কিছুটা বেড়েছে। আমরা গ্যাস দিচ্ছি। সিরিয়াল আছে, কিন্তু প্রেসার বাড়ায় গ্যাস পাচ্ছেন চালকরা।’