
গত দুই মাসে ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণ গ্রীষ্মকাল দেখেছে ইউরোপ। ঠিক এরমধ্যেই একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে অতি-পরিচিত এক সতর্কবার্তা আবারও প্রতিধ্বনিত হয়েছে, আর তা হলো তীব্র তাপদাহ শুধু আবহাওয়াগত কোনো দুর্যোগ নয়; এটি মানুষের জীবন, উৎপাদনশীলতা, আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে উঠছে।
গত জুলাইয়ে পশ্চিম ইউরোপে বয়ে যাওয়া তাপদাহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করেছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে, বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে দাবানল ছড়িয়ে দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও- যদি ধনী দেশগুলো অপ্রস্তুত অবস্থায় এমন সংঙ্কটে পড়ে, তবে স্বল্প আয়ের ও ভৌগোলিক কারণে বেশি উষ্ণ দেশগুলোতে এর পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। আন্তর্জাতিক একাধিক গবেষণার তাপদাহ-জনিত সতর্কবার্তার কেন্দ্রে বারবার উঠে এসেছে বাংলাদেশেরও নাম। বার্লিনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডেলফি গ্লোবাল’-এর জুলাই মাসের একটি গবেষণায়, বাংলাদেশসহ ৮টি দেশে তীব্র তাপদাহের কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং চিকিৎসা খরচ বাড়ার ফলে তৈরি হওয়া আর্থিক ঝুঁকির প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রায় একই সময়ে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ২০২৪ সালেই তীব্র তাপদাহের কারণে বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতায় ১.৩ থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে- যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশের সমান।
জুলাইয়ে প্রকাশিত ‘ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ’-এর এক গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোতে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষদের মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। আর সবচেয়ে সাম্প্রতিক সতর্কবার্তাটি এসেছে ব্রাসেলসভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা থেকে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার শিশুরা তাপপ্রবাহজনিত মানসিক ও শারীরিক চাপে (হিট স্ট্রেস) কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে তা দেখানো হয়েছে। ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত এবং ভ্রিজে ইউনিভার্সিটেট ব্রাসেলস (ভিইউবি)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এই গবেষণায় বলা হয়, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বাংলাদেশে ২ কোটি ৩০ লাখ শিশুকে বছরে আরও অন্তত এক মাস তীব্র তাপদাহের মুখে পড়তে হবে।
এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন সতর্কবার্তা নয়। বহু বছর ধরে তাপদাহকে উৎপাদনশীলতা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী এজেন্ডায় তীব্র তাপদাহের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত পরিণতির বিষয়টি এখনও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
বাংলাদেশ ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কারণ এটি এরইমধ্যে গরম, আর্দ্র আবহাওয়া ও ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ, যেখানে লাখ লাখ মানুষ খোলা আকাশের নিচে অথবা বাতাস চলাচল অপর্যাপ্ত এমন জায়গায় কাজ করেন। এরমধ্যে ক্রমেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি শ্রমঘন খাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
অ্যাডেলফি গ্লোবাল-এর গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র তাপদাহের কারণে বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়ার কৃষি ও নির্মাণখাতের শ্রমিকরা বছরে গড়ে প্রায় ২০ কর্মঘণ্টা বা তার বেশি কাজের সময় হারাচ্ছেন। এই ক্ষতি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত শোচনীয়, কারণ প্রতিটি দিনের রুজি-রোজগার তাদের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।
তাদের গবেষণামতে, বাংলাদেশ, ভারত ও নাইজেরিয়া সবচেয়ে বেশি বহুমুখী ঝুঁকিতে আছে। কারণ কর্মঘণ্টার বড় ধরনের ক্ষতি, নিজ পকেট থেকে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা খরচ এবং দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা- একটি অপরটিকে আরও বেশি জটিল করে তুলছে। কমতে থাকা আয় এবং বাড়তে থাকা চিকিৎসা খরচের যৌথ প্রভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণও সমান উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত ‘এ লিভেবল ফিউচার: প্রটেক্টিং জবস অ্যান্ড গ্রোথ ফ্রম এক্সট্রিম হিট ইন সাউথ এশিয়া’স সিটিস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে উৎপাদনশীলতার ক্ষতি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে। শুধু ঢাকাতেই তাপদাহের কারণে বার্ষিক কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশ তাত্ত্বিকভাবে অব্যবহৃত থেকে যায়- যা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ।
এই ক্ষতির প্রভাব প্রসারিত হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আইএফসি এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউট’-এর যৌথ বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, তাপদাহের এই সংকট মোকাবিলা করা না গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার পোশাক খাত যৌথভাবে প্রায় ৬৫.৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হারাতে পারে।
ফলে, এটি আর শুধু জলবায়ু সংক্রান্ত কোনো বিষয় নয়; এটি এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার বিষয়। এছাড়া কোনো শিশু বড় হয়ে শ্রমশক্তির অংশ হওয়ার আগেই তার ওপর এর প্রভাব পড়া শুরু হয়। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনে অতিরিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি থমকে যাওয়ার (স্টান্টিং) ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তীব্র তাপদাহের অর্থনৈতিক মূল্য এবং এর প্রভাব মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। ‘বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং এর প্রভাব প্রশমন ছাড়া বাংলাদেশ আর কী করতে পারে?’- প্রশ্ন তোলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের পরামর্শ দেন, যার মধ্যে রয়েছে কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণ করা, তাপদাহের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে শ্রমিকদের সতর্ক করা, তাপজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা খরচ বহনে নিয়োগকর্তাদের সচেতন করা এবং কৃষি ও অন্যান্য শ্রমঘন কর্মকাণ্ডে যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করা।
ড. ফাহমিদা বলেন, ‘প্রথমত, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং নিয়োগকর্তাদের শ্রম আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এটি কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করতে এবং তাপদাহজনিত অভিঘাত থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষায় সহায়তা করবে।’
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্পবিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে তাপমাত্রা এরই মধ্যে ১.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার। প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ’-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে তাপদাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
তাপপ্রবাহের অর্থনৈতিক ক্ষতি নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টা ও উৎপাদনের পরিমাপে হিসাব করা সম্ভব। কিন্তু এর স্বাস্থ্যগত মূল্য অনেক ক্ষেত্রেই অদৃশ্য- যা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে পেশির টান (ক্র্যাম্প) ও প্রচণ্ড শারীরিক ক্লান্তি থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী ‘হিটস্ট্রোক’ পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তাপদাহকে একটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং মানুষের জীবন, শ্রম উৎপাদনশীলতা ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষায় প্রতিটি দেশকে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ বা তাপদাহ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই চ্যালেঞ্জটি আরও তীব্র, কারণ কাজের জায়গায় তাপপ্রবাহের ঝুঁকিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন শ্রমিক, হকার ও অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত লাখ লাখ মানুষের জীবিকা নির্বাহের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ডা. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যে তাপদাহজনিত প্রভাবের আর্থিক পরিমাণ নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা হয়নি। সরাসরি রোদের ভেতর কাজ করা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তাপপ্রবাহ স্পষ্ট প্রভাব ফেলে, তবে এর ফলে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক বোঝা তৈরি হয়, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব রয়েছে। অর্থায়ন এবং নীতিগত সহায়তা একসূত্রে মিললে অভিযোজন যে সম্ভব, তার কিছু লক্ষণ এরইমধ্যে দৃশ্যমান।
উৎপাদকদের জ্বালানি ও পানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তার জন্য ২০১৬ সালে চালু হওয়া বাংলাদেশের ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’-এর কথা উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। সীমিত সংখ্যক কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও- এটি এখন পুরো উৎপাদন খাতজুড়ে একটি বিস্তৃত রূপান্তরে পরিণত হচ্ছে।
আইএফসি-র ‘পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল’ এবং টেকসইতাণ্ডসংশ্লিষ্ট অর্থায়নের ফলে এই অগ্রগতি আরও বেগবান হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা ২৭০টি ছাড়িয়ে গেছে এবং আরও অনেক কারখানা এই সনদ লাভের প্রক্রিয়ায় রয়েছে- যা এক দশকের সামান্য বেশি সময়ে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন।
এই অভিজ্ঞতা যে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিচ্ছে, তা হলো: অর্থায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং সুস্পষ্ট বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকলে অভিযোজন অবশ্যই সম্ভব। তবে শুধু কারখানা পর্যায়ের উন্নয়ন দিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ঘরের বাইরে কাজ করা লাখ লাখ মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।
অ্যাডেলফি গ্লোবাল সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টার ক্ষতিপূরণ প্রদান, রাষ্ট্রপরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের শ্রম সুরক্ষার আওতায় আনা। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শ্রমিক সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক অভিযোজন তহবিল সংগ্রহের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুপারিশগুলোকে কীভাবে বাস্তবসম্মত নীতিতে রূপান্তর করা যাবে- সেটাই বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ। এফবিসিসিআই-এর নতুন প্রশাসক এবং শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক মো. ফজলুল হক স্বীকার করেছেন যে, ভবিষ্যতে কারখানা উৎপাদন ব্যবস্থায় তাপদাহ ব্যবস্থাপনা একটি বাধ্যবাধকতা হয়ে উঠতে পারে। কিছু পোশাক কারখানা, বিশেষ করে যেগুলো পরিবেশবান্ধব (গ্রিন সার্টিফাইড), সেগুলোতে ভেতরকার তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে কিছুটা ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শুধু এই গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলোই যথেষ্ট নয়; কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষতি কমাতে কারখানাগুলোতে বাস্তবে সার্বিক তাপদাহ ব্যবস্থাপনা কৌশল থাকা প্রয়োজন।
গত বৃহস্পতিবার টিবিএস-এর টকশো ‘জিরো-সাম গেম’-এ যুক্ত হয়ে ফজলুল হক বলেন, ‘আপনি বাইরের তাপমাত্রা কমাতে পারবেন না। কিন্তু বছরের যে ১৫/২০ দিন তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করে, অন্তত সেই দিনগুলোতে কারখানার ভেতরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।’ এর সমাধান হিসেবে সান্ধ্যকালীন শিফটে কাজ করানো এবং নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টার জন্য শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডা. শিমুল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আগে পরিচালিত একটি সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা পাইলট প্রকল্পের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তাপদাহের ঝুঁকিতে থাকা শ্রমিকদের জন্য বিস্তৃত বিমা সুবিধা দেওয়ার বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই ধরনের জটিলতার কারণেই তাপ প্রতিরোধী সুরক্ষা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ একা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি থামাতে পারবে না। কিন্তু তাপদাহ বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতি অবশ্যই কমিয়ে আনতে পারে। এর অর্থ হলো, তাপদাহকে শুধু একটি সাময়িক ঋতুভিত্তিক অসুবিধা বা পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে না দেখে একে একটি জনস্বাস্থ্য, শ্রমবাজার এবং অর্থনৈতিক নীতির মূল বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ইউরোপের সাম্প্রতিক দুর্যোগ থেকে আমাদেরও বিষয়টি উপলব্ধি করা উচিত। ধনী দেশগুলো বুঝতে পারছে যে প্রচলিত ব্যবস্থাগুলো চরম তাপদাহের মুখে ভেঙে পড়তে পারে। আর বাংলাদেশের মতো একটি দেশে- যেখানে লাখ লাখ মানুষ তাপদাহের ঝুঁকিতে খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন এবং সামাজিক নিরাপত্তাও যেখানে সীমিত- সেখানে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রমাণিত হবে।