ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জামায়াতের সমালোচনা নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখার ফর্মুলা

বললেন ইসি আনোয়ারুল
জামায়াতের সমালোচনা নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখার ফর্মুলা

নির্বাচন কমিশন-ইসি 'স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না' বলে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী যে সমালোচনা করেছে সেটিকে দলটির কৌশল বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, "আমি চাপে আছি, নাকি স্বাধীন আছি— এটা তো আমি জানি। বরং এ কথা বলে আমাদের চাপে রাখারই তো একটা ফর্মুলা আমি মনে করি। "কারণ আমরা যেটা করি না, নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করে না, সেটা যদি আপনি চাপায় দেওয়ার চেষ্টা করেন সেটাও সঠিক না।"

গতকাল রোববার দুপুরে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতের সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল এ কথা বলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী ৯ দফা দাবি নিয়ে ইসির সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে।

সবশেষ ১ সেপ্টেম্বর ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, "বলতে আমাদের দ্বিধা নেই যে ক্ষমতায় যেহেতু দলীয় সরকার, তাদের যে একটা চাপ ইসির ওপর আছে, কথা শুনলে আর উত্তর দিলে বোঝা যায় যে, কোথাও একটা অসহায়ত্ব তাদের (ইসি) মধ্যে আছে।" স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারীদের ভোটে অযোগ্য, এমপিওভুক্তদের ভোটে রাখাসহ ৯ দফা দাবি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংবাদমাধ্যমে ইসির বিষয়ে এসব বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কশিনার আনোয়ারুল বলেন, "আপনার ভাবনা চিন্তা আপনার মত করে আপনি করতেই পারেন। সবগুলো যে সব ক্ষেত্রে সঠিক হবে তা না।" অরাজনৈতিক (নির্দলীয়) স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক পদধারীদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণার দাবি নিয়ে ইসির কিছু বলার নেই, বলেন তিনি।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, "বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন ছাড়া অরাজনৈতিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। সেগুলোর প্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালাটাও সংশোধন হবে।" কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কেউ কি এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?

জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, "অরাজনৈতিকভাবে নির্বাচন তো হতেই হবে। যেহেতু আইন রয়েছে। সেখানে কি এই বিষয়টা আমাদের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলার সুযোগ আছে? বলার সুযোগ তো নেই।"

তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ভোটে অংশ নিলে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবেও থাকলে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে বলেই নির্বাচন কমিশনার আইন সংশোধনের সুপারিশ রেখেছে। এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজটা হচ্ছে একটা নিরপেক্ষ, সুন্দরভাবে সুষ্ঠুভাবে বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে নির্বাচনটা উঠিয়ে আনা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত