ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় চাপে হাসপাতালগুলো

ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় চাপে হাসপাতালগুলো

একদিকে হাম, অন্যদিকে ডেঙ্গু— দুই সংক্রামক রোগের একসঙ্গে ছোবলে দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন উপচে পড়া রোগীর চাপ। নির্ধারিত শয্যা ফুরিয়ে যাওয়ার পর মেঝেতে তোষক বিছিয়ে চলছে চিকিৎসা। কোনো কোনো হাসপাতালে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি। চিকিৎসক-নার্সের সীমিত জনবল দিয়েই সামলাতে হচ্ছে বাড়তি রোগী। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এক দিনেই সারা দেশে হাম ও ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১০ হাজার ১২১ জন। এর মধ্যে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন ৫ হাজার ৯৫৯ জন। ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ৪ হাজার ১৬৬ জন। অর্থাৎ ওই দিন দেশের মোট হাসপাতাল শয্যার প্রায় ১৬ ভাগের এক ভাগই এই দুই রোগে আক্রান্ত রোগীদের দখলে ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাসপাতালের মোট শয্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৩টি। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত শয্যা ৭১ হাজার ৯৬২টি। নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা ৯২ হাজার ৬০১টি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি হাসপাতাল ছাড়া মাত্র ৫৯টি বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত রোগীর চাপ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ডেঙ্গুর পাশাপাশি আগস্ট থেকে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়ার ঘটনা দেশের টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতাগুলোও সামনে এনেছে। হামের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় একই সময়ে দুই রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোকে।

সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে হাসপাতালগুলোতে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৭৫ জন। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৭০ জন। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৬৫ জন হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ১ হাজার ৪০৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগের কয়েক দিনের পরিসংখ্যানেও রোগীর চাপ বৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাম ও ডেঙ্গু মিলিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৯ হাজার ৭৫৫ জন। পরদিন এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৯৫১ জনে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোহরাওয়ার্দীতে শয্যার চেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী

ডেঙ্গু চিকিৎসার চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে রাজধানীর বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর অন্যতম উদাহরণ। চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটি ২ হাজার ৬৫৬ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে, যা দেশের হাসপাতালগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ১ হাজার ৩৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ১৯১টি শয্যা। কিন্তু গত বুধবার সেখানে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন ২৪৭ জন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী সামলাতে গিয়ে সাধারণ মেডিসিন ওয়ার্ড এবং মেঝেতেও রোগীদের জায়গা করে দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক নন্দ দুলাল সাহা বলেন, বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে এখনো অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হয়নি। ফলে সীমিত জনবল দিয়েই অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমাদের সাধারণ মেডিসিন ওয়ার্ডে অথবা মেঝেতে জায়গা করে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।' অন্যান্য রোগের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে কি না— এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও হাসপাতালের ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে বলে জানান তিনি। নন্দ দুলাল সাহা বলেন, 'আমরা কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারি না। এটি আমাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।'

ডেঙ্গুর রোগী যাচ্ছে অন্য হাসপাতালে

রাজধানীর ডেঙ্গু চিকিৎসায় গত বছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল এবার ডেঙ্গু রোগী ভর্তি না নেওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে। ৬০০ শয্যার ওই হাসপাতালে গত বছর ৫৪টি আইসিইউ শয্যাসহ ৭ হাজার ২০০ জনের বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি হাসপাতালটিকে শুধু হামের চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় সেখানে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই পরিবর্তনের আগে হাসপাতালটিতে মাত্র ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ফলে ডেঙ্গু রোগীদের এখন রাজধানীর অন্যান্য বড় সরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ বেড়েছে।

মুগদায় ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ রোগী

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে চলতি বছরের শুরুর দিকে আরও ৫০০ শয্যা বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল এখনো পুরোপুরি যুক্ত হয়নি। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তিনটি ফ্লোর বরাদ্দ করেছে। সেখানে প্রায় ২০০ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০০ শিশু রোগীর জায়গা হয়। গতকালের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে মোট রোগী ভর্তি ছিলেন ১ হাজার ৩১৪ জন। অর্থাৎ হাসপাতালের মূল ধারণক্ষমতার আড়াই গুণেরও বেশি রোগী সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের মধ্যে ২১৮ জন ডেঙ্গু এবং ৫৩ জন হাম আক্রান্ত রোগী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দ করা তিনটি ফ্লোরে সীমিতসংখ্যক শয্যার ব্যবস্থা করা গেলেও বেশির ভাগ রোগীকে মেঝেতে তোষক বিছিয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

জেলা হাসপাতালেও একই চিত্র

রোগীর চাপ শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই। জেলা পর্যায়েও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ঝালকাঠিতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জেলার ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতেও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালটির জন্য ১৫০ শয্যার একটি সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণাধীন। তবে সেটি পুরোপুরি চালু হওয়ার আগেই রোগীর চাপ সামলাতে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে ২৮টি অস্থায়ী শয্যা এবং মূল হাসপাতালের ভেতরে আরও ১২টি ডেডিকেটেড ডেঙ্গু শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম ইফতেখার জানান, গত কয়েক দিনে রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতেন, মঙ্গলবার তা কমে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

বাড়তি শয্যা-জনবল দেওয়ার উদ্যোগ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, একসঙ্গে হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরে সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে বাড়তি শয্যা ও জনবল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি ১০০টিরও বেশি শয্যা যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও শয্যা বাড়ানো হবে। জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, গত দুই-তিন দিনে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন অতিরিক্ত চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে। আরও নার্স ও কর্মী দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ডা. বিশ্বাস বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে— এ বিষয়টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আগে থেকেই জানা ছিল। সে কারণে হাসপাতালগুলোকে বাড়তি জায়গা প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, 'এই সময়ে ডেঙ্গু রোগীর এমন তীব্র বৃদ্ধি অনুমিত ছিল। তাই আমরা আগে থেকেই হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলাম, তারাও সে অনুযায়ী কাজ করছে। এখন পরিস্থিতি কেমন হয়, তার ওপর বাকিটা নির্ভর করছে।' রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে গেলে ফিল্ড হাসপাতাল বা অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, 'পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সেবার ধরনে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এটাই এখনকার বাস্তব চিত্র। তবে আমরা অবশ্যই রোগীদের, বিশেষ করে যাদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।' একদিকে হামের প্রাদুর্ভাব, অন্যদিকে ডেঙ্গুর মৌসুমি ঊর্ধ্বগতি— দুইয়ের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে দেশের হাসপাতাল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলো এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীর চাপ কমাতে শুধু অস্থায়ী শয্যা বাড়ানো নয়; টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, রোগীর দ্রুত শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ এবং হাসপাতালের স্থায়ী সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮ জনে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে দুইজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে। এ ছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৪৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এ ছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুইজন মৃত্যুবরণ করেছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ৭৪৭ জন

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ভর্তি হলেন ৫৯ হাজার ১৪৭ জন। এছাড়া ডেঙ্গুতে নতুন কেউ মারা না গেলেও চলতি বছর মোট ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৭৬ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৭৯ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ২৩ ও সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ৩২, ময়মনসিংহে ১৮, বরিশালে ১৩, চট্টগ্রামে ১৬, রাজশাহীতে আট, রংপুরে চার ও সিলেটে একজন মারা গেছেন। রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৩০১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের মাস আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন। এর আগে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭ ও জুলাইতে ৮ হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত