ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আওয়ামী লীগকে কখনোই জাতি গ্রহণ করবে না

বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আওয়ামী লীগকে কখনোই জাতি গ্রহণ করবে না

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের 'অপতৎপরতায়' মোটেও শঙ্কিত নন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতি কখনোই দলটিকে গ্রহণ করবে না। গতকাল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এক সাংবাদিক বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে গুলশানে লকডাউন কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। এখনও তো কয়েক মাস বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আসলে কোন দিকে যেতে পারে? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "লকডাউন— আমরা শব্দ শুনেছি। এখানে লকডাউন কি দৃশ্যমান হয়েছে? এগুলো জাতি প্রত্যাখ্যান করেছে, আপনার প্রশ্ন আমি বুঝতেই পেরেছি। যেই শক্তি, আওয়ামী শক্তি ১৪০০ লোকের প্রাণ নিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে— এটা জাতিসংঘের রিপোর্ট। আমাদের রিপোর্ট অনুসারে এটা ২০০০-এরও বেশি। সেই দুষ্কৃতকারী, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের যারা নিষিদ্ধ এখন, তারা এখনো জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করে নাই, দোষ স্বীকার করে নাই, উচ্চবাচ্য করছে বিদেশে বসে। "তাদের এ সমস্ত অপতৎপরতায় আমরা মোটেও শঙ্কিত না। এই জাতি তাদের কখনোই এই দেশে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করবে না। তো সুতরাং এগুলো অপাংক্তেয়। তারা ডিসেম্বরে ফিরবে বলে, না ফেব্রুয়ারিতে ফিরবে বলে— এগুলাতে আমাদের কোনো মনোযোগ নেই।" এক সাংবাদিক বলেন, দুইদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসবের সঙ্গে কারা জড়িত বা কজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আমরা শুনেছি, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, মাফিয়া শক্তি, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তারা আইসিটি কোর্টের, মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালতের একটা রায়ের প্রেক্ষিতে একটা তথাকথিত কর্মসূচি দিয়েছে। সেটা মনে হয় আজকে, ২০ তারিখ। লকডাউন নাকি যেন নাম দিয়েছে। "সেটাকে উদ্দেশ্য করে রাজধানীতে কিছু ককটেলবাজি করেছে, রাতের অন্ধকারে দুই-একটি জায়গায়। প্রত্যেকটা আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি, মোটরসাইকেলসহ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্টের ফটকের সামনে যারা একটা ককটেল মেরেছিল, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে থাকেন, "তারা কিছু বাস, পরিত্যক্ত বাস এবং কিছু বাস— যেগুলো চালক এবং হেলপার বিহীন অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং করা থাকে রাতে; সেগুলো টার্গেট করে দুই-একটাতে অগ্নিসংযোগ করেছে, আপনারা দেখেছেন। এগুলোও আমরা ফাইন্ড আউট করার চেষ্টা করছি সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে। তাদের শনাক্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 'তাদের অপতৎপরতা আগে থেকেই দৃশ্যমান ছিল। এগুলো তো আমরা খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছি না।' আরেক সাংবাদিক বলেন, বিরোধীদল যে লংমার্চ করছে, সেটার সুযোগ কি আওয়ামী লীগ নিচ্ছে কি না? রাজপথে নামার সুযোগ বিরোধীদলের কাছ থেকে পাচ্ছে কি না?...বিরোধীদলের যারা আছে লংমার্চে, তারা বিশেষ করে আপনাকে টার্গেট করে বেশি বক্তব্য দিচ্ছে, 'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই, ভালোর দিকে যাচ্ছে না'— এই বিষয়ে আসলে আপনার মতামত কী?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "বিরোধী দল যখন সমালোচনা করে, সেটা আমরা মনোযোগের সঙ্গে নিই। লংমার্চের তাদের কিছু দাবি ছিল— বিরোধীদলের, সেই দাবিগুলো নিয়ে তারা লংমার্চ করেছে, করতেই পারে। এটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে।

"আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে সেই কর্মসূচি পালন করতে পারে, সহযোগিতা করা। আমরা করেছি। চট্টগ্রামে লংমার্চ করেছে, কোথাও কোনো দুর্ঘটনা হয়নি, সহিংসতা হয়নি, কোনো ক্ল্যাশ হয়নি। কালকে উত্তরাঞ্চলে লংমার্চ করেছে ঢাকা থেকে, শান্তিপূর্ণভাবে করেছে। তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে।

'এখন তাদের দাবি, বিভিন্ন রকমের দাবি থাকতে পারে, সেই দাবির পক্ষে যদি জনগণ থাকে, তখন সেটা জনগণ কথা বলবে। পাঁচ বছর পরে নির্বাচন হবে বিধি মোতাবেক, নিয়ম মোতাবেক, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। তখন জনমত কাদের পক্ষে যায়, সেটা তখন দেখা যাবে। এখন এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।'

'উগ্রবাদী সংগঠন' গড়ার পরিকল্পনা থেকে মসজিদে বৈঠক : ঢাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১২ জন খেলাফত প্রতিষ্ঠায় 'ইত্তেহাদুল উম্মাহ' নামের একটি উগ্রবাদী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা এঁটেছিলেন। সচিবালয়ে গতকাল রোববার সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন মসজিদে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'কিছু সংখ্যক লোক মসজিদে নামাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তারা বসে আলাপ আলোচনা করছিলেন। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার ইনফরমেশন ছিল যে এরকম কিছু তৎপরতা হতে পারে। তারা তাদের ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট অনুসারে সেখানে যায় এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। তাদের সংখ্যা ২৩ জনের মতো ছিল সম্ভবত।' গ্রেপ্তারদের প্রত্যেকের মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, "ওখান থেকে ১১ জনের মতো লোক যাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ বা তথ্য সেই টেলিফোন ফরেনসিকে পাওয়া যায়নি। পরে তাদের মুরুব্বিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।" বাকি ১২ জনের বিষয়ে তিনি বলেন, "তাদের টেলিফোনের ফরেনসিক রিপোর্টে এবং জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায়, তারা ইত্তেহাদুল উম্মাহ নামে আরেকটা সংগঠন করতে চায়। তারা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে এবং অনেকটা এক্সট্রিমিস্ট আমি বলব যে উগ্রবাদী তৎপরতার জন্য তারা সংগঠিত হতে চেয়েছিল।' এই বিষয়ে সরকার 'জিরো টলারেন্স' জানিয়ে মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সেজন্য তাদের রিমান্ডে আনা হয়েছে। বাকি তথ্য উদ্ঘাটিত হবে।" ফার্মগেইট এলাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে শুক্রবার জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এরপর তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

অপ্রতিম হত্যার বিচার রামিসা হত্যার মতোই 'সংক্ষিপ্ত সময়ে' করার আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার 'সংক্ষিপ্ত' সময়ে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি তার মায়ের আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, 'আশা করি রামিসা হত্যার বিচারের মত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটা আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব।' ১৩ বছর বয়সি অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় সে। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

গত শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি তখন পাওয়া যায়নি। গতকাল রোববারের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'সর্বশেষ হিসাব মতে আগে তিনজন, আজকে একজন, চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে।' যে কিশোরদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের কম হতে পারে বলে ধারণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এদের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্ক, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল, প্রায় সময় আড্ডা দিত।' কুমিল্লার পুলিশ জানিয়েছিল, প্রিতম সেদিন যাদের সঙ্গে বেরিয়েছিল, তাদের একজন, তুহিনের বাসা থেকেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। তুহিনকেই 'প্রধান সন্দেহভাজন' হিসেবে বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'মোবাইলসহ সমস্ত আলামত পাওয়া গেছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম বা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি করানো যায় কিনা এগুলো নিয়ে কাজ করছে।'

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত