
নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনেরই পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৮ জনের লাশ এরইমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হায়াতকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া/সরকারপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী 'আরপি পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে বাস ও ট্রাক দুটিই সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়।
ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ জন মারা গেলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ জনে। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ৩০-৩৩ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।
নিহত ১৪ জনের মধ্যে শরীয়তপুর জেলার ৭ জন, রাজশাহী জেলার ২ জন, পটুয়াখালী জেলার ২ জন এবং ঝিনাইদহ, নওগাঁ ও ফরিদপুর জেলার ১ জন করে রয়েছেন। নিহতরা হলেন— রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসচালক সোহেল রানা (৩৫) ও বাগমারার আনোয়ার হক (৩০); পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের শহিদুল ইসলাম ও তার ৮ বছরের মেয়ে তাসফিয়া; শরীয়তপুর জাজিরার জুয়েল মাতবর (৪০), সালাল মোল্লা (৪৬), সোহাগ (৩০), আব্দুস সামাদ (৭০), কাশেম (৩৫), জহুর উদ্দিন ও শাহিন (৩২); ঝিনাইদহ সদরের ট্রাকচালক আবু কালাম (৪৮); নওগাঁ সাপাহারের রাসেল এবং ফরিদপুর সদরের হিমেশ জমাদার।
নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যাত্রী আব্দুস সালাম জানান, ড্রাইভারের চোখে ঘুম ঘুম ভাব ছিল এবং তিনি কখনও খুব দ্রুত আবার কখনও ধীরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। অন্য এক আহত যাত্রীর দাবি, ট্রাকটি নিজের সাইডেই ছিল এবং বাসের চালক রং সাইডে গিয়ে ট্রাকটিকে আঘাত করেন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে— একটি গাড়ি ওভারটেক করতে গিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হায়াতকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ১ লাখ টাকা এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি উক্ত মহাসড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়ারও আশ্বাস দেন।