ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিশ্বমানের চিকিৎসা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করুন

বললেন রাষ্ট্রপতি
বিশ্বমানের চিকিৎসা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করুন

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের মধ্যেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের অনেক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হন। বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান এবং আস্থার বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। এ প্রবণতা কমাতে দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাইদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুইদিনব্যাপী আয়োজিত 'কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন' শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়। এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশার সঙ্গে সম্পর্কিত এক মহান দায়িত্ব। রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, চিকিৎসার বিষয়গুলো সহজ ভাষায় রোগী ও তার স্বজনদের বুঝিয়ে বলা, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এবং দরিদ্র রোগীদের প্রতি বিশেষ সহমর্মিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন সে লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসন, অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। অবকাঠামোর অভাবে অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকেছে। এমনকি টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়াই পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, জনবান্ধব নীতি, জবাবদিহিতা এবং অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এই অর্থের প্রতিটি টাকা কার্যকর, যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার দেশের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনমুখী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোলোরেক্টাল রোগে আক্রান্ত। লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে আসতে দেরি করেন, ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে। সম্মেলনে একটি জাতীয় কোলোরেক্টাল সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত