ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

'পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দেন' তাহসিফ

ধারণা পিবিআইয়ের
'পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দেন' তাহসিফ

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে এখন ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। তাহসিফের 'বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই' আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনে যান পিবিআই কর্মকর্তারা। এ সংস্থার এক পুলিশ সুপার বলেন, ওরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পুলিশের একটি দল তাদের ধাওয়া দিলে দীপ তুরাগ তীরে স্থাপিত বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে গিয়ে লুকান। 'আর তাহসিফ নদে গিয়ে ঝাঁপ দেন। এরপর সুযোগ বুঝে দীপ সেখান থেকে চলে আসেন। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন দীপ।' ওই এলাকাটা 'মাদকস্পট' হিসেবে পরিচিত। গভীর রাতে দুজন কেন সেখানে অবস্থান করছিলেন, জানতে চাইলে পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা বিষয়টি জেনেছি, এটা একটু সেনসিটিভ। আরেকটু ক্রসচেক করে নিই।'

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, আমরাও শুনেছি, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। 'পুলিশের কোন টিম তাদের ধাওয়া দিয়েছিল, কেন ধাওয়া দিয়েছিল— আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখছি।' এর আগে সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি থেকে তাহসিফের ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পিবিআই। যেখানে মোটরসাইকেলটি রাখা ছিল, তার খুব কাছেই তুরাগ নদ। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে। অবশ্য পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল গতকাল শুক্রবার সকালে বলেন, 'আমরা তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছি।' ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের 'ভিডিও ধারণকারী' হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ স্থানটি উত্তরখান থানায় পড়লেও উদ্ধার হওয়া বাইকের ঘটনাস্থল টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন। তবে দুই স্থানেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে। পুলিশ বলছে, জোয়ারের সময় নদীতে বেশ স্রোত হয়। তাতে তাহসিফের দেহটি উত্তরখানের দিকে ভেসে যাওয়া সম্ভব। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে যে বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর।

দীপকে নিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর তথ্য দিয়ে পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার সকালে বলেন, 'দীপ বলেছে, 'আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ ভাই নদীতে ঝাঁপ দেয়। আর আমি পালিয়ে আসি'। দুপুরে দীপকে নিয়ে টঙ্গী যাওয়ার পর তার বক্তব্যে কিছুটা পরিবর্তন আসে।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, 'দীপ বলছে, তাদের পুলিশের পোশাক পরা কেউ ধাওয়া দিয়েছে। কে ধাওয়া দিল, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। 'তারা মাদকাসক্ত ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। দীপ অনেক কিছু বলেছে, আমরা সব কিছু যাচাই-বাছাই করছি।' মোটরসাইকেলটি তাহসিফের ব্যবহৃত হলেও সেটির মালিকানা কার নামে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পিবিআই।

মাজার বস্তিতে মিলল নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল : তুরাগ নদের যে স্থান থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তার সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে। অবশ্য পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল গতকাল শুক্রবার সকালে বলেন, 'আমরা তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছি।'

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের 'ভিডিও ধারণকারী' হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ স্থানটি উত্তরখান থানায় পড়লেও উদ্ধার হওয়া বাইকের ঘটনাস্থল টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন। তবে দুই স্থানেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে।

পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার বলেন, 'দীপের দেখানো মতে নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বর প্লেট না থাকায় মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফ বাসা থেকে যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন, সেটিও নম্বর প্লেটবিহীন বলে সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে।'

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে যে বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। দীপকে নিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর তথ্য দিয়ে ওই পুলিশ সুপার বলেন, 'দীপ বলেছে, 'আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ ভাই নদীতে ঝাঁপ দেয়। আর আমি পালিয়ে আসি।' 'দীপের এ কথাসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।'

অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, 'দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি।' তদন্তের স্বার্থে সেসব এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন কলেই তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন। তবে ওই বার্তায় তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল জানিয়ে তিনি গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, এরপর থেকে তাহসিফ সাউরীর আর কোনো হদিস মিলছিল না। তবে তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় বলেছেন, মায়ের মোবাইলে সবশেষ পাঠানো 'ভয়েস মেসেজটি' তার কাছে তাহসিফের বলে মনে হয়নি। গত বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। বিমান বাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার লাশ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পেলেও তখন বাইকটির সন্ধান পায়নি।

রেজা দীপ গত বৃহস্পতিবার বিকালে বলেছিলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বাইক মেরামতের জন্য তারা গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্সের 'কুকরুকু' রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে দুজন নিজ নিজ বাইকে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর দীপ নিজে বাসায় ফিরলেও তাহসিফের বিষয়ে 'আর কিছু জানেন না' বলে দাবি করেন। দীপ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন জানিয়ে বলেন, তার বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায়।

পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল গতকাল শুক্রবার সকালে বলেন, দীপ ও তাহসিফ মোটরসাইকেল ঠিক করা এবং রেস্তোরাঁয় যাওয়া ছাড়া আর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সেই জায়গাগুলোতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

তাহসিফের পরিবার মামলা না করলে বাদী হবে পুলিশ -নৌপুলিশ প্রধান : বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনো মামলা করেনি তার পরিবার। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা না হলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানিয়েছেন নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম। গতকাল শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। পরিবার মামলা না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

এদিকে, শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোটরসাইকেলটি তাহসিফ সৌরির কি না, তা যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দপ্তর। এর আগে পিবিআই জানিয়েছিল, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। সেটির পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। পরদিন বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ পুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখান এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তাহসিফের বাবা জানান, গত ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছিলেন তার ছেলে। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। এদিকে, তাহসিফের মৃত্যুর আগে তার গতিবিধি নিয়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, বন্ধুস্থানীয় জুনিয়র আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন তাহসিফ। এরপর তারা আলাদা মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বের হন। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার আগে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, আমি নিহত তাহসিফের বাবাকে ফোন দিয়েছিলাম থানায় এসে মামলা করার জন্য।এখনো তিনি থানায় আসেননি। তিনি আসলে আমাদের থানায় মামলা দায়ের হবে। এখন পর্যন্ত আমাদের থানায় মামলা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান তাহসিফের বাবা : বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার মামলা করবে কি না, সেই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে মামলা করা বা না করার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকারের নিজস্ব আইনে ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি এ কথা জানান। কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, 'আমরা পারিবারিকভাবে এখনও কোনো ধরনের মামলা করার সিদ্ধান্ত নিইনি। মামলা করব কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ আমাদের নানা ব্যস্ততা আছে। হয়তো আজ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। তবে আমরা চাই, থানায় গিয়ে দুই কলম কী লিখলাম বা না লিখলাম, সেটির ওপর সরকার গুরুত্ব না দিয়ে নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে এ দেশের একজন সুনাগরিক ছিলেন।

সশস্ত্র বাহিনীর একজন সদস্যও ছিলেন। তার এ ধরনের মৃত্যুর যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয় এবং প্রকৃত কারণ বের হয়ে আসে। আমরা মামলা করছি কি না, সেটির ওপর নজর না দিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী যেন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে। এদিকে, উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, আমি নিহত তাহসিফ সৌরির বাবাকে ফোন দিয়েছিলাম থানায় এসে মামলা করার জন্য। এখনও তিনি থানায় আসেননি। তিনি থানায় আসলে আমাদের থানায় মামলা দায়ের হবে। এখন পর্যন্ত আমাদের থানায় মামলা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার 'জুনিয়র বন্ধু' দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় দীপকে পিবিআই সদস্যরা নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা নেই বলেও জানান তিনি।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।

ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে ওই ব্যক্তির দেখা হয়। এ সময় তারা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলান। পরে দুটি পৃথক মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরে দীপ তাদের জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা সেটি মেরামত করতে একটি ওয়ার্কশপে যান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত