ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ডিবির হারুনসহ আট পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি খোয়ালেন

ডিবির হারুনসহ আট পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি খোয়ালেন

অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ডিএমপির সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদসহ সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার। আর অসদাচরণের অভিযোগে বাহিনীর এক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ ও শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা পৃথক আদেশে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এসব শাস্তির আদেশ অনুমোদন করেন। প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

বরখাস্ত হওয়ারা হলেন— পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জি, লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাসান, ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন ও মনিরুজ্জামান সরকার। এ ছাড়া সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির আলোচিত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৪ সালের ৬ অগাস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অনুপস্থিতির শুরু দিন থেকেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি আনিসুর রহমান ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। সেদিন থেকেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল।

ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি রাজশাহীতে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দিন থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর ১৫ দিনের শ্রান্তি বিনোদন ছুটিতে যান। ছুটি শেষে ১৭ নভেম্বর তার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর যোগ দেননি। পরে ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র দিলেও তা কর্তৃপক্ষ নাকচ করে। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ১৫ দিনের বিদেশ ছুটিতে যান। ছুটি বাড়ানোর আবেদন নাকচ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে বিদেশে অবস্থান করেন। তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কানাডায় যান। ৪২ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর ২৮ মার্চ কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর যোগ দেননি। বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। তাকে ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান সরকার ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের কিংস্টন ইউনিভার্সিটিতে অপরাধবিজ্ঞানে পিএইচডি করতে যান। পরে তাকে কয়েক দফায় ছুটি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিনা বেতনে ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছিল।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে আরও দুই বছরের ছুটির আবেদন করলে তা নাকচ করে তাকে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু তিনি দেশে না ফিরে যুক্তরাজ্যেই অবস্থান করেন। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে অসদাচরণের অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। সবশেষ তিনি দিনাজপুরে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এক কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এসব বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আদেশে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত