ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

খাবারের আড়ালে মনের গল্প

লিনা আক্তার
খাবারের আড়ালে মনের গল্প

মন খারাপ, দুশ্চিন্তা, একাকিত্ব কিংবা একঘেয়েমির সময় অনেকেই খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। ক্ষুধা না থাকলেও চিপস, বিস্কুট, মিষ্টি বা পছন্দের খাবার খেতে ইচ্ছা করে। এটিই আবেগপ্রবণ হয়ে খাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

আবেগপ্রবণ হয়ে খাওয়া : ক্ষুধা মেটানোর পরিবর্তে নিজের অনুভূতি সামলানোর জন্য খাবার খাওয়াকে আবেগপ্রবণ হয়ে খাওয়া বলা হয়। একঘেয়েমি দূর করতে চিপস খাওয়া কিংবা পরীক্ষার চাপের মধ্যে একের পর এক বিস্কুট খাওয়া এর উদাহরণ। এমনটি নিয়মিত ঘটলে ওজন, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

মানসিক চাপ, দুঃখ, উদ্বেগ, একাকিত্ব কিংবা একঘেয়েমি মানুষকে খাবারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আনন্দের সময়ও উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানে খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ছোটবেলা থেকেই এ অভ্যাস তৈরি হতে পারে। সাফল্যের জন্য শিশুকে মিষ্টি দিলে সে খাবারকে পুরস্কার হিসেবে এবং কান্না থামাতে বিস্কুট দিলে মানসিক স্বস্তির উপায় হিসেবে দেখতে শিখতে পারে।

শারীরিক ক্ষুধা, নাকি মানসিক ক্ষুধা : শারীরিক ক্ষুধা ধীরে ধীরে তৈরি হয়, কিছুটা অপেক্ষা করা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারে তা মেটে। পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করা সম্ভব; সাধারণত অপরাধবোধও হয় না।

অন্যদিকে, আবেগপ্রবণ ক্ষুধা হঠাৎ আসে, তীব্র ও জরুরি মনে হয়। পিৎজা বা আইসক্রিমের মতো নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাওয়া, পরে অপরাধবোধ এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। খাওয়ার আনন্দ শেষ হলেও যে অনুভূতির কারণে খাওয়া শুরু হয়েছিল, তা থেকে যেতে পারে।

নিজেকে কিছু প্রশ্ন : স্কুল, সামাজিক পরিস্থিতি বা বাড়ির কোনো বিষয় নিয়ে কি আপনি চাপে, দুঃখিত বা উদ্বিগ্ন? জীবনের কোনো ঘটনা সামলাতে কি কষ্ট হচ্ছে? স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা গভীর রাতে খাচ্ছেন? পরিবারের অন্যরাও কি অনুভূতি সামলাতে খাবার ব্যবহার করেন? কয়েকটির উত্তর 'হ্যাঁ' হলে খাবার হয়তো মানসিক পরিস্থিতি সামলানোর উপায় হয়ে উঠেছে।

যেভাবে অভ্যাস বদলাবেন : খাবার নেওয়ার আগে থামুন, সত্যিই ক্ষুধা লেগেছে কি না বুঝুন। পেটে গুড়গুড়, মনোযোগের সমস্যা বা খিটখিটে মেজাজ ক্ষুধার লক্ষণ হতে পারে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার খান। স্কুল থেকে ফিরে অভ্যাসবশত খাবার খুঁজলে কয়েক মিনিট বিরতি নিয়ে দিনের ঘটনা ও নিজের অনুভূতি—আনন্দ, রাগ, দুশ্চিন্তা, ঈর্ষা কিংবা একাকিত্ব—ভেবে দেখুন।

একঘেয়েমি বা একাকিত্বে বন্ধু-পরিবারকে ফোন করুন; চাপে হাঁটুন, দৌড়ান, যোগব্যায়াম করুন, গান শুনুন বা নাচুন। ক্লান্ত হলে ঘুমের রুটিন ঠিক করুন, পর্যাপ্ত ঘুমান এবং শোয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বন্ধ রাখুন। কাজ ফেলে রাখার কারণে খেতে ইচ্ছা হলে পড়াশোনা বা বাড়ির কাজ শেষ করুন।

মুড ও ফুড জার্নাল রাখুন : কী, কতটা খেয়েছেন, আগে কী ঘটেছিল এবং তখন কেমন লাগছিল— আনন্দ, দুঃখ, রাগ, দুশ্চিন্তা বা একঘেয়েমি— লিখে রাখুন। এতে অনুভূতি ও খাওয়ার সম্পর্ক বোঝা এবং খাবারের বদলে হাঁটার মতো বিকল্প বেছে নেওয়া সহজ হবে। সচেতনভাবে খাবার খান, কী খাচ্ছেন ও কখন পেট ভরছে খেয়াল করুন।

লেখক : পুষ্টিবিদ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত