
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২০টির বেশি হামলা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে ডব্লিউএইচও। তেহরানের প্রাচীনতম গবেষণা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি- পাস্তুর ইনস্টিটিউটে হামলার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানান, তেহরানে ইরানের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাস্তুর ইনস্টিটিউট গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক্সে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি প্রকাশ করেন। তবে ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, এসব হামলার পরও পাস্তুর ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তারা বলেছে, টিকা ও সিরাম উৎপাদন চালু রয়েছে। একইসঙ্গে টেলিগ্রাম বার্তায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক হামলায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মী হতাহত হননি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহন খাতের স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে যেখানে সামরিক ও রাজনৈতিক স্থাপনায় হামলা করা হচ্ছিল, এখন তার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। ডব্লিউএইচও প্রধান আরও জানান, দেলারাম সিনা মানসিক হাসপাতাল এবং তোফিঘ দারু ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানাও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর নেই। খুজেস্তান প্রদেশের ইমাম আলি হাসপাতালের কাছে একটি বিস্ফোরণের ফলে হাসপাতালটি খালি করে দিতে হয় এবং সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২০টির বেশি হামলা হয়েছে, এতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন সদস্য রয়েছেন। এদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের জানিয়েছে, শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি লেজার ও প্লাজমা গবেষণা কেন্দ্রে হামলা হয়েছে।