ঢাকা রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সৌদি আরবে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান

সৌদি আরবে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান

পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি দল যুদ্ধবিমান নিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে এসব উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। গতকাল শনিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির’ অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর একটি দল সৌদি আরবের ইস্টার্ন সেক্টরের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে এসে পৌঁছেছে।

সৌদি আরব বলছে, পাকিস্তানি সামিরিক বাহিনীর সেই দলটির সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ সামরিক সমন্বয় বাড়ানো এবং অপারেশনাল কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির মান আরও উন্নত করা এর মূল উদ্দেশ্য।

আল আরাবিয়া লিখেছে, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন খাতে অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর উভয় দেশ ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। এ চুক্তির অধীনে যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের বহর পাঠিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুরুর আগেই ওই বহর পাঠিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর জেএফ-১৭ থান্ডার, এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সামরিক পরিবহন বিমান সি-১৩০ হারকিউলিস, জ্বালানিবাহী আইএল-৭৮ ট্যাঙ্কার এবং ‘এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমও’ (অ্যাওয়াক্স) মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। ইরানের দলকে বৈঠকের জন্য নিরাপদে ইসলামাবাদে নিয়ে যাওয়ার গুরুদায়িত্ব রয়েছে পাকিস্তানের ওপর। সেই দায়িত্ব পালন করতেই পাকিস্তান তাদের যুদ্ধবিমানের বহর পাঠিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে, যাতে তেহরান থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছনোর সময় ইরানি প্রতিনিধিদল ইসরাইলের হামলার শিকার না হয়। তা ছাড়া শান্তি আলোচনায় কোনোরকম নাশকতা এড়ানোর জন্যেও এই কড়া সামরিক পাহারার (আয়রন এসকর্ট) বন্দোবস্ত করেছে পাকিস্তান। ইসরাইল যাতে কোনোরকম বিপত্তি না ঘটাতে পারে, সেজন্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে আকাশে ‘আয়রন এসকর্ট’ এর জন্য পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার এবং এফ-১৬ জঙ্গিবিমান উপস্থিত রয়েছে শুক্রবার সকাল থেকেই। এই যুদ্ধবিমানগুলো পাকিস্তান থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত এলাকার আকাশসীমা সার্বক্ষণিক নজরে রেখেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত