
দক্ষিণ ফিলিপিন্সের মিন্দানাও দ্বীপে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৫ জন মারা গেছে। এছাড়া ১২৯ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিস। সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক রদ্রিগো সোসমেনা জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে ১২ জন সক্সকারজেন অঞ্চলের বাসিন্দা। এ অঞ্চলটি দক্ষিণ কোটাবাতো, সুলতান কুদারাত, সারাঙ্গানি প্রদেশ এবং জেনারেল স্যান্টোস সিটি নিয়ে গঠিত।
গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় ৭টা ৩৭ মিনিটে সেখানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল জেনারেল স্যান্টোস সিটির উপকূলের কাছে, উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। বিবিসি লিখেছে, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, জাপানসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। ফিলিপিন্সের ভূমিকম্প বিষয়ক সংস্থা সর্বোচ্চ ১.৪ মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ নথিবদ্ধ করেছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪২ মিনিট থেকে ৮ টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে মিন্দানাওয়ের ছয়টি এলাকায় সুনামি ঢেউ দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বেশিরভাগই মিন্দানাওয়ের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত। ভূমিকম্পের পর সুনামি ঢেউ চলতে থাকায় সতর্কতা বহাল রেখেছে ফিলিপিন্স।
দেশটির ভূমিকম্প বিষয়ক সংস্থার বিজ্ঞান গবেষণা বিশেষজ্ঞ উইনচেল ইয়ান সেভিলা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ান নিউজ’কে বলেছেন, ‘আমরা এখনই সুনামি সতর্কতা তুলে নিচ্ছি না, কারণ আমাদের যন্ত্রগুলোতে এখনও সুনামি ঢেউ রেকর্ড হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় কিছু অস্বাভাবিক ওঠানামাও রেকর্ড করা হয়েছে।’ এদিকে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৩৮টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। আফটারশকগুলোর মাত্রা ছিল ১ দশমিক ৩ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৭ মাত্রার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে জনসাধারণকে উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিপিন্সের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য কর্মকর্তা দিয়েগো মারিয়ানো বলেছেন, হতাহতের খবরগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জনসাধারণকে তাদের বাড়িঘর বা অন্যান্য ভবন, বিশেষ করে যেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোতে এখনই প্রবেশ না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন মারিয়ানো।