
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির একটি নতুন রুট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান ও বাহরাইনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছে ইরান। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ওমানের রাজধানী মাসকাটে হবে এ বৈঠক।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল শনিবার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ওমান ও ইরানের মধ্যে একটি যৌথ নৌপথ চালুর ব্যাপারে আগামীকাল সোমবার মাসকাটে একটি বৈঠক ও চুক্তিস্বাক্ষর হবে। বৈঠকে আরব রাষ্ট্রগুলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা থাকবেন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব রাষ্ট্রের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র, সেসব রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও উপস্থিতি থাকবেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নৌপথ সংস্থা আইএমও-কেও এ চুক্তির ব্যাপারে অবহিত করা হবে।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ প্রণালির একপাশে ইরান, অপর পাশে ওমান। ভৌগলিকভাবে এই প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ জারির পর থেকে থেকে হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব জোটের নাম গালফ সিকিউরিটি কাউন্সিল বা জিসিসি। ওমান জিসিসি জোটের সদস্য।
ইরানের হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি এবং চলমান যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন বাহিনীর হামলা পরিচালনার কারণে জিসিসি এবং এ জোটের দেশগুলোর সঙ্গে টানাপোড়েন চলছিল ইরানে। বস্তুত, যুদ্ধের ছয় মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজের মধ্যপ্রাচ্যীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান।