প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বর্তমানে আমরা যেসব নাজুক সমস্যায় নিমজ্জিত, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- নতুন প্রজন্মের দ্বীন ও ঈমান হেফাজতের বিষয়। আমাদের প্রজন্মকে ঈমান ও ইসলাম থেকে বঞ্চিত করে ধর্মত্যাগের পথে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। মুসলিম উম্মাহর সন্তানদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির নামে নাস্তিক ও ধর্মহীন করার অপচেষ্টা চলছে। যে পশ্চিমাদের হাতে এখন বিশ্বের নেতৃত্ব, তারা নাস্তিকতা ও ধর্ম বিমুখতাকে একটি জীবনদর্শন হিসেবে সারা বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। এ জীবনদর্শনের বিশেষত্ব ধর্ম বিমুখতা ও স্রষ্টাবিস্মৃতি। এখন জীবনের কোনো শাখা এমন নেই, যা এ দর্শনে প্রভাবিত নয়। আসমানি হেদায়াতকে এখন প্রাচীন কালের বিষয় মনে করা হচ্ছে এবং বিশ্বব্যবস্থাকে এমন পথে চালিত করা হচ্ছে, মানবজীবন চলতে থাকবে ধর্ম ছাড়াই এবং তাতে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তাই অনুভূত হবে না। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের ঈমান হেফাজত ও মুসলমানিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সমাজের মান্যবর ব্যক্তিবর্গ বিশেষ করে আলেম সমাজের তৎপর হওয়া উচিত। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, আমাদের মনীষীরা আজ বেঁচে নেই। মহান আল্লাহ তাদের রূপে আমাদের পাঠিয়েছেন। আমাদের জীবন উৎসর্গ করে হলেও নতুন প্রজন্মের ঈমান রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমাদের সচেতনতা ও করণীয় : তৃণমূলে কোরআনি মকতব ও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দ্বীন ও ঈমান হেফাজতে আমরা কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারি। যেমন-
১. মসজিদভিত্তিক মকতবের জাল বিছান : নতুন প্রজন্মের ঈমান হেফাজতের জন্য মসজিদভিত্তিক প্রভাতকালীন ও বৈকালিক মকতবব্যবস্থা অত্যন্ত উপকারী ও ফলপ্রসূ। এ মকতব ইসলামি শিক্ষার সূতিকাগার, ইসলামি সভ্যতার বুনিয়াদ বিনির্মাণের দুয়ার। মুসলমানদের ঐতিহ্যের ধারক মকতবগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। শিশু-কিশোররা এখন আর দলবেঁধে মকতবে তেমন যায় না। দেশের সর্বত্র আজ মকতবের সময় কিন্ডারগার্টেন স্কুল চালু করা হয়েছে। মুসলিম অভিভাবকরা মকতব শিক্ষার ব্যাপারে উদাসীন হওয়ায় শিশুদের কচিমনে ইসলামি মূল্যবোধের পরিবর্তে বিজাতীয় সংস্কৃতি প্রথিত হচ্ছে, যা জাতির ঈমান-আকিদা ও সমাজ-রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। তাই সত্যিকারার্থে নতুন প্রজন্মের ঈমান হেফাজত করতে চাইলে মকতব শিক্ষার প্রসার করতে হবে এবং মসজিদভিত্তিক মকতবের জাল বিছিয়ে দিতে হবে। হারিয়ে যাওয়া মকতব শিক্ষা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আলেম ও সমাজের দায়িত্বশীলদের উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। এসব মকতবকে কোরআন মাজিদের নাজেরা পর্যন্ত সীমিত রাখা যাবে না, বরং দ্বীনের বুনিয়াদি বিষয়সমূহও সেখানে শিক্ষা দিতে হবে।
২. স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বীন শিক্ষার পৃথক ব্যবস্থা : আমাদের দেশে মাদ্রাসাপড়ুয়ার সংখ্যা ২ শতাংশ আর স্কুলপড়ুয়ার সংখ্যা ৯৮ শতাংশ। এ ৯৮ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া ইলমে ওহির শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। অথচ তারা সবাই মুসলমান। তারা দ্বীন কোথায় শিখবে, কীভাবে শিখবে- এটি এখন মুসলিম সমাজের এক জ্বলন্ত জিজ্ঞাসা। এ জিজ্ঞাসাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থার অবক্ষয় প্রমাণ করছে। একটি মুসলিম সমাজের এ অবস্থা কি স্বাভাবিক যে, এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্যই ইসলাম শিক্ষার মানসম্পত কোনো ব্যবস্থা নেই? এ আরোপিত ও অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? আর যে পর্যন্ত এ অবস্থা থেকে মুক্তি না ঘটছে, সে পর্যন্ত মুসলমানদের দ্বীনি ও ঈমানি জাগরণ সম্ভব নয়। এ অবক্ষয়-অস্বাভাবিকতা থেকে উত্তরণের জন্য স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের কোরআন ও মৌলিক দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে ‘স্কুল মকতব’ বা ‘আফটার স্কুল মকতব’ব্যবস্থা গড়ে তুলে তাদের জন্য কোরআন ও মৌলিক দ্বীন শিক্ষার পৃথক ব্যবস্থা করা সময়ের অনিবার্য দাবি। এর জন্য ‘দ্বীনিয়াত’ সিলেবাস অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
৩. ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা : ‘ধর্মহীন কর্মশিক্ষা এবং কর্মহীন ধর্মশিক্ষা’ দুটোই জাতির জন্য অভিশাপ। এজন্য আমাদের বুজুর্গ আলেমগণ অনেক বছর ধরে বলে আসছেন, বেশি বেশি ইসলামিক স্কুল গড়ার কথা। কেননা, সাধারণ স্কুল-কলেজগুলোতে যা শিক্ষা দেওয়া হয়, এর যে শিক্ষা কারিকুলাম, এর ওপর যে শিক্ষার্থীরা গড়ে উঠছে, দ্বীনের সঙ্গে ইসলামের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকছে না। অভিভাবকেরা আলাদাভাবে যদি তাদের সন্তানদের ইসলামি তরবিয়ত না করে, তাহলে স্কুলে পড়ার মাধ্যমে এ সন্তানেরা দ্বীনের কোনো পরিচয় জানতেই পারছে না। দ্বীন কী, ইসলাম কী, আল্লাহ কী, নবী কী, কোরআন কী, আখেরাত কী- এসবের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কই থাকছে না। সম্পূর্ণ ধর্মবিমুখরূপে গড়ে উঠছে এবং একপর্যায়ে নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন স্কুলের সিলেবাসগুলোকে এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে, যাতে দ্বীনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পর্ক না থাকে; বরং আরও অনেক জগাখিচুরি বিষয় শিক্ষা দেওয়া হয়, পৌত্তলিকতা শেখানো হয়, সংস্কৃতির নামে এমন সব বিষয় নিয়ে আসা হয়, যা পড়লে একজন শিক্ষার্থী তার নিজের অজান্তেই ধর্মের বাইরে চলে যাচ্ছে। তার চিন্তা-ভাবনা গড়ে উঠছে বেদ্বীনিভাবে। যারা ধর্মদ্রোহী, তারা চায়- স্কুল-কলেজের শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বেদ্বীনরূপে গড়ে উঠুক। এজন্যই তারা সিলেবাসগুলোকে সেভাবে তৈরি করেছে। এটা একটা সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত। এ চক্রান্ত থেকে আমাদের মুসলিম সন্তানদের বাঁচানোর জন্য আলেমদের তত্ত্বাবধানে বেশি বেশি মানসম্পন্ন ইসলামিক স্কুল গড়ে তোলা জরুরি।
৪. বয়স্কদের জন্য ফরজে আইন শিক্ষা : অধিকাংশ আধুনিক শিক্ষিত মুসলিম ইলমে ওহির জ্ঞান থেকে বঞ্চিত। মৌলিক দ্বীনি জ্ঞানের অভাবে একদিকে তারা নিজেরা জাহান্নামের দিকে যাচ্ছে, অপরদিকে দেশ ও জাতিকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের হাতেই সমাজের নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে তারা সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করছে, ঠেলে দিচ্ছে নাস্তিকতা ও অশ্লীলতার দিকে। এজন্য সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ফরজে আইন শিক্ষার বিস্তার অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নানা পেশায় নিয়োজিত মুসলিমরাও কীভাবে প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞানার্জন করতে পারেন, সে প্রচেষ্টাও আমাদের করতে হবে। তারা নিজেরা দ্বীনি জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে সন্তানদের দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারেও উদাসীন। এজন্য প্রজন্মের ঈমান হেফাজতের জন্য বয়স্কদের জন্য ফরজে আইন শিক্ষার বিস্তার সময়ের অপরিহার্য দাবি।
৫. সামার বা উইন্টার ইসলামিক ক্যাম্প : তৃণমূলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের একটি উপায় হতে পারে- গ্রীষ্ম ও শীতকালে ছুটির সময় স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইসলামিক ক্যাম্প’-এর আয়োজন। যেখানে খেলাধুলা ও বিনোদনের পাশাপাশি তাদেরকে ইসলামের আকিদা-বিশ্বাস, চেতনা-আদর্শ ও মৌলিক বিষয়াদি শিক্ষা দেওয়া হবে। এ ক্যাম্প মুসলিম শিশুদের মধ্যে ইসলামের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন দেশে মুসলিম শিশু ও তরুণদের জন্য ‘সামার বা উইন্টার ইসলামিক ক্যাম্প’-এর আয়োজন করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও স্কুল শিশুদের জন্য এ ধরনের ক্যাম্পের আয়োজন করা যেতে পারে।
৬. ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন : সুস্থ সংস্কৃতির লালন ও বিকাশ, মানবকল্যাণের পরিপন্থী অপসংস্কৃতির অপসারণ এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে ও উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কেরাত, নাশিদ, আজান, বক্তৃতা, সাধারণ জ্ঞান, রচনা, কুইজ এবং সিরাত ও বিষয়ভিত্তিক ইসলামি জ্ঞান প্রতিযোগিতাসহ নানামুখী ইসলামি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।
৭. দাওয়াতি কাফেলা প্রেরণ : অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে খ্রিষ্টান মিশনারী, কাদিয়ানি ও বাহাইসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় সহজ সরল মুসলমানদের ঈমান হরণ করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য মানুষ খ্রিষ্টান ও কাদিয়ানি হয়ে যাচ্ছে। এসব মুসলমানের ঈমান-আকিদা হেফাজত এবং অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দাওয়াত তুলে ধরার লক্ষ্যে আক্রান্ত এলাকায় দাওয়াতি কাফেলা প্রেরণ করা।
৮. ইসলাহে মোআশারা কার্যক্রম পরিচালনা : মুসলমানদের ঈমান, আমল, আখলাক ও চিন্তার সংশোধন, আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং তাদের মধ্যে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও দাওয়াতি চেতনা সৃষ্টি; সমাজ থেকে শিরক, বিদআত, সুদণ্ডঘুষ, দুর্নীতি, যৌতুক, মাদক, অশ্লীলতা ও সামাজিক কুসংস্কার নির্মূলের লক্ষ্যে তৃণমূলে দাওয়াতি ও ইসলাহি কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৯. সেবা কার্যক্রম পরিচালনা : মানুষকে আকৃষ্ট করার সবোৎকৃষ্ট কর্মপন্থা হলো সেবামূলক ও জনহৈতিকর কাজ বেশি বেশি করা। খ্রিষ্টান মিশনারীরা এ হাতিয়ার ব্যবহার করে আজ গরিব মুসলমানদের ঈমান হরণ করছে। তাই আমাদেরও এ হাতিয়ার ব্যবহার করে মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। এজন্য পিছিয়ে পড়া জনগণের মধ্যে ব্যাপকভিত্তিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্কুল ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, সেনিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শীতবস্ত্র, ত্রাণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বাড়িঘর নির্মাণ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার।
১০. মকতব শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি : তৃণমূলের মকতব শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারের ব্যবস্থা করা জরুরি; যাতে শিক্ষকরা শিশুদের বয়স ও মানসিকতা অনুযায়ী পাঠদান করেন। পাশাপাশি তাদের মান উন্নত হলে সামাজিক মর্যাদাও বাড়বে।
১১. অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি : শিশুদের দ্বীনি শিক্ষা শুধু শিক্ষকের দায়িত্ব নয়, অভিভাবককেও সচেতন হতে হবে। এজন্য খুতবা, স্থানীয় সভা, ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মিডিয়ার মাধ্যমে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
১২. অর্থায়ন ও সহযোগিতা : সরকার, ইসলামি সংগঠন, এনজিও ও প্রবাসীদের মাধ্যমে অর্থায়ন করে গ্রামের মকতবগুলোকে সহায়তা করতে হবে। মকতব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণোদনা থাকলে এর স্থায়িত্ব বাড়বে।
১৩. চরিত্র গঠনকে অগ্রাধিকার : শিশুরা শুধু কোরআন পড়তে শিখলেই হবে না, বরং কোরআনের আলোকে আমল ও চরিত্র গঠনের শিক্ষা পেতে হবে। মকতবগুলোকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যেন শিশুদের মধ্যে সততা, আমানতদারিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবপ্রেমের চেতনা গড়ে ওঠে।
১৪. ইমামণ্ডখতিবদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা : তৃণমূলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে ইমামণ্ডখতিবদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জুমার খুতবা, সাপ্তাহিক তাফসির, ইসলাহি মজলিস ও ওয়াজ মাহফিলে কোরআনি মকতব ও দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা; প্রতিটি মসজিদে কোরআনি মকতব চালু করা এবং স্থানীয় মুসল্লিদের উৎসাহিত করা; যোগ্য মকতব শিক্ষক নিয়োগে সহযোগিতা করা এবং তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি করা; শিশুদের মকতবে পাঠাতে মুসল্লিদের মাধ্যমে অভিভাবকদের অনুপ্রাণিত করাসহ বিভিন্নভাবে তারা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
১৫. দ্বীনি সংগঠনগুলোকে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা : ইসলামি দল ও সংগঠনসমূহ আমাদের বড় শক্তি। তাদের রয়েছে দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, দক্ষ জনবল ও সাংগঠনিক শক্তি। এ শক্তি ব্যবহার করে তারা যদি মকতব ও স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তৃণমূলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে অল্পদিনেই এ দেশে ইসলামি জাগরণ সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। তাই দ্বীনি সংগঠনগুলোকে এদিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
লেখক : পরিচালক, মাকাসিদ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ; আমির, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ